অনলাইনে ওষুধ কিনছেন? জেনে নিন ৫ জরুরি বিষয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কয়েকটি ক্লিকেই এখন অনলাইনে প্রায় সব ধরনের পণ্য কেনা যায়। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধও। বিশেষ করে প্রেসক্রিপশন অনলাইনে আপলোড করে সরাসরি বাসায় ওষুধ পাওয়ার সুবিধার কারণে অনেকেই অনলাইনে ওষুধ কিনছেন। তবে এই সুবিধা যেন কোনোভাবেই নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি না করে, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি।
অনলাইনে ওষুধ কেনার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই যাচাই করা উচিত। ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে শুধু দাম ও সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত নয়। ওষুধ সেবনের আগে এর উপাদান, উৎস, ব্যাচ নম্বর, মেয়াদ ও ওষুধের অবস্থা যাচাই করা জরুরি। অনলাইন ও সরাসরি ফার্মেসি থেকে কেনা—উভয় ক্ষেত্রেই এসব সতর্কতা প্রযোজ্য।
১. কীভাবে অর্ডার করা হচ্ছে, তা বুঝুন
অনলাইনে সাধারণত তিনভাবে ওষুধ অর্ডার করা যায়। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই প্রয়োজনীয় ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ সরাসরি সার্চ করে কেনা যায়। আবার নির্দিষ্ট ওষুধ সার্চ করে প্রেসক্রিপশন আপলোড করা যায়। এ ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্মের উচিত কার্টে থাকা ওষুধ প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা।
এ ছাড়া হাতে লেখা বা ম্যানুয়াল প্রেসক্রিপশন আপলোড করেও ওষুধ অর্ডার করা যায়। সে ক্ষেত্রে প্ল্যাটফর্ম প্রেসক্রিপশনটি ডিজিটাল করে কার্টে ওষুধ যুক্ত করে। তাই মূল প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ডিজিটাল কার্ট মিলিয়ে দেখা জরুরি। হাতের লেখা অস্পষ্ট হলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে ওষুধ নিশ্চিত করা উচিত। প্রেসক্রিপশন যাচাইয়ের পর নতুন কোনো ওষুধ, মাত্রা বা শক্তি পরিবর্তন করা হলে তা গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
২. ছাড় দেখেই ওষুধ কিনবেন না
বড় ধরনের ছাড় থাকলেই কোনো ওষুধ অনিরাপদ—এমন নয়। আবার কম দাম দেখে ওষুধ কেনাও উচিত নয়। কেনার আগে প্রেসক্রিপশনের সঙ্গে ওষুধের উপাদান, শক্তি ও ফর্মুলেশন মিলিয়ে দেখতে হবে। ওষুধটি কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে, ব্যাচের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি কি না এবং অনুমোদিত পরিবেশক বা প্রস্তুতকারকের কাছ থেকে এসেছে কি না, তাও যাচাই করতে হবে।
৩. সংরক্ষণ ও পরিবহণ
কিছু ওষুধ তাপমাত্রা, আলো বা আর্দ্রতার প্রতি সংবেদনশীল। ভুলভাবে সংরক্ষণ বা পরিবহণ করা হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।
তাই ওষুধের জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষণব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, অর্ডার পাঠানোর আগে কীভাবে রাখা হয়েছে এবং পরিবহণের সময় প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা বজায় রাখা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। তাপমাত্রা-সংবেদনশীল ওষুধ হলে যথাযথ মনিটরিং ব্যবস্থায় পরিবহণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
৪. ওষুধের উৎস যাচাই
ওষুধের প্যাকেটে থাকা বারকোড বা কিউআর কোড গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাইয়ে সহায়তা করতে পারে। কোড স্ক্যান করে ওষুধের নাম, প্রস্তুতকারকের তথ্য, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ এবং ওষুধের উৎস সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা দেখা উচিত।
শুধু প্যাকেট দেখতে আসল মনে হচ্ছে বলেই ওষুধটি আসল ধরে নেওয়া উচিত নয়। কিউআর কোড থাকলে সেটি স্ক্যান করে তথ্য যাচাই করা জরুরি।
৫. সেবনের আগে সবকিছু মিলিয়ে নিন
ওষুধ হাতে পাওয়ার পর সেটি প্রেসক্রিপশন ও ইনভয়েসের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। ওষুধের স্ট্রিপের ব্যাচ নম্বর ইনভয়েসের সঙ্গে মেলে কি না, মেয়াদ পার হয়েছে কি না এবং স্ট্রিপে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য বা এমআরপি ইনভয়েসের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া ওষুধের সক্রিয় উপাদান, শক্তি ও ফর্মুলেশন প্রেসক্রাইব করা ওষুধের সঙ্গে মেলে কি না, সেটিও দেখতে হবে। কোনো বিকল্প ব্র্যান্ড দেওয়া হলে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, অনলাইনে ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত ডেলিভারি বা কম দাম নয়, সঠিক ওষুধ, সঠিক উৎস এবং সঠিক সংরক্ষণব্যবস্থাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

-6aa8dd01bf0c0.jpg)