প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন, যা এড়িয়ে চলবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরতের আকাশে মেঘ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে হচ্ছে বৃষ্টি। তবে বৃষ্টির পরও কমছে না গরমের অস্বস্তি । বৃষ্টি থামলেই ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে মানুষকে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় আর্দ্রতা বাড়ছে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকায় না এবং শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে। ফলে তাপমাত্রা বেশি না থাকলেও গরম বেশি অনুভূত হয়।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি) জানায় , আগামী ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে ১৭ ও ১৮ সেপ্টেম্বর তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদ ডা. মো. ওমর ফারুক বলেন, এই সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকার কারণে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। তাই বৃষ্টির পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন স্থায়ী হতে পারে।
অতিরিক্ত তাপমাত্রায় পানিশূন্যতা, ডায়রিয়া, হিট স্ট্রোকসহ বিভিন্ন অসুস্থতার ঝুঁকি এড়াতে সচেতন থাকা জরুরি। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, গরমে সুস্থ থাকতে যা করবেন এবং যা এড়িয়ে চলবেন—
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ডা. ওয়ানাইজা রহমান জানান, গরমে অতিরিক্ত পানিশূন্যতা হয়। এ সময় শরীর থেকে প্রচুর ঘাম বেরিয়ে যায়। এতে পানির পাশাপাশি লবণ বা ইলেকট্রোলাইটসের অভাবও দেখা দেয়। ইলেকট্রোলাইটস হচ্ছে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের সম্মিলন। শরীর থেকে এসব খনিজ কমে গেলে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনা ঘটতে পারে।
এ সময় শরীরের কোষ সজীব রাখতে প্রচুর পানি খেতে হবে। ইলেকট্রোলাইটসের অভাব পূরণ করতে খাবার স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে। শরীরে পানি কম হলে প্রস্রাব হলুদ হবে, পরিমাণে কম হবে এবং জ্বালাপোড়া করবে। যতক্ষণ না প্রস্রাব স্বাভাবিক রঙ ফিরে পাবে, ততক্ষণ পর্যাপ্ত পানি, ডাব ও শরবতের মতো তরল পদার্থ খেতে হবে।
আরামদায়ক পোশাক পড়ুন
গরমে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা ভালো। এতে শরীরে বাতাস চলাচল করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। রাতে ঘুমানোর সময়ও আরামদায়ক পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সকাল-সন্ধ্যায় ব্যায়াম করুন
গরমের ব্যায়াম পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই। তবে অতিরিক্ত ঘাম হয় এমন ব্যায়াম এড়িয়ে ভোর বা সন্ধ্যায় ব্যায়াম করা যেতে পারে। চাইলে সাঁতার বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রত স্থানে ইনডোর ওয়ার্কআউট করা যায়।
দুপুরের রোদ এড়িয়ে চলুন
বারডেম জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামরুজ্জামান নাবিল পরামর্শ দিয়েছেন, কাজ না থাকলে বাইরে না যাওয়ার। বিশেষ করে দুপুর ১২টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত।
একান্তই বাইরে যেতে হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা ভালো। খুব ভিড় হয় এমন জায়গায় না যাওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন তিনি।
শরীর ঠান্ডা রাখুন
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানিতে ভেজানো কাপড় কপালে, ঘাড়ের পেছনে বা কব্জিতে রাখা যেতে পারে।। বরফ ব্যবহার করলে সরাসরি ত্বকে না দিয়ে তোয়ালে ব্যবহার করতে পারেন। গরমে একাধিকবার গোসল করা যেতে পারে। গরমে শরীরে ট্যালকম পাউডার ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
খাবারে সতর্ক থাকুন
গরমে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পরিবারের সদস্যরা পর্যাপ্ত পানি পান করছেন কিনা এবং নিরাপদ খাবার খাচ্ছেন কিনা, সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. ওয়ানাইজা রহমান। এ সময়ে অতিরিক্ত তেল-মশলার খাবার ও বাসি খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। শিশুদের ক্ষেত্রে ইনস্ট্যান্ট নুডুলস, চপ, কাটলেট, নাগেটসের মতো খাবার না দিয়ে চিড়া, দই, তরমুজ, বাঙ্গি, লেবুজাতীয় ফল বেশি করে খেতে দিতে হবে।
শরীরের ভাঁজে পরিষ্কার রাখুন
গরমে শরীরে বিভিন্ন ভাঁজে ঘাম জমে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। বিশেষ করে কুঁচকিতে, আঙুলের ফাঁকে ও যৌনাঙ্গে ঘাম জমে ছত্রাক সংক্রমণ করতে পারে। তাই এ অংশগুলোর আশপাশ পরিষ্কার ও শুকনো রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল করে ঘাম ধুয়ে ফেলতে হবে। তা না হলে ভেজা কাপড় দিয়ে শরীর মুছে পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে।
ঠান্ডা পানি পান করবেন না
প্রচণ্ড গরম বাইরে থেকে ফিরে ফ্রিজের ঠান্ডা পানি পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হঠাৎ অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে গলা ব্যথাসহ অস্বস্তি হতে পারে। বাইরে থেকে ঘেমে ঘরে ফিরেও সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানি খাওয়া উচিত নয়।
