উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে যেসব পানীয় খাবেন ও এড়িয়ে চলবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উচ্চ রক্তচাপ একটি অত্যন্ত সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা বিশ্বের অনেক প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে প্রভাবিত করে থাকে। চিকিৎসা না করালে এটি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সাধারণত জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন এবং ওষুধের মাধ্যমেই উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। খাদ্যতালিকায় সোডিয়াম ও অ্যালকোহলের পরিমাণ কমানো এর অন্তর্ভুক্ত হলেও, কোন পানীয়গুলো বেছে নেওয়া উচিত তা নিয়ে অনেকের মনেই সংশয় থাকে।
তারই প্রেক্ষিতে এখানে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ও বর্জনীয় পানীয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
উচ্চ রক্তচাপ কমাতে সহায়ক পানীয়
বিট রুট জুস: বিট রুটে প্রাকৃতিক রাসায়নিক নাইট্রেট থাকে, যা রক্তনালী প্রসারিত করে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ২০২২ সালের একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, বিট রুট জুস ধমনীর উচ্চ রক্তচাপযুক্ত ব্যক্তিদের সিস্টোলিক রক্তচাপ কমাতে কার্যকর।
টমেটো জুস: জাপানে ২০১৯ সালে হওয়া একটি গবেষণা অনুযায়ী, লবণ ছাড়া বা আনসল্টেড টমেটো জুস রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত এটি পান করলে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক—উভয় রক্তচাপের মাত্রাই হ্রাস পেতে পারে।
ডালিমের রস: ২০১৭ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণ থেকে জানা যায় যে, ডালিমের রস সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ কমাতে পারে এবং চিকিৎসার সময়কাল নির্বিশেষে সিস্টোলিক রক্তচাপ হ্রাসে এটি কার্যকর।
চেরি ও ক্র্যানবেরি জুস: ২০২০ সালের একটি পর্যালোচনার ফলাফল অনুযায়ী, চেরি এবং ক্র্যানবেরি জুস নিয়মিত পান করলে রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চা (ব্ল্যাক বা গ্রিন টি): ২০২০ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দীর্ঘ ৩ মাস বা তার বেশি সময় ধরে নিয়মিত চা পান করলে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এর মধ্যে গ্রিন টি ব্ল্যাক টির তুলনায় রক্তচাপ কমাতে বেশি কার্যকর, তবে উভয় চায়েই ক্যাফেইন থাকে।
যে পানীয়গুলো এড়িয়ে চলা উচিত
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পানীয় বর্জন করা জরুরি:
অ্যালকোহল: ২০২৩ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণে অ্যালকোহল গ্রহণ এবং উচ্চ রক্তচাপের মধ্যে সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া গেছে। বিশেষ করে সিস্টোলিক রক্তচাপের সঙ্গে অ্যালকোহলের পরিমাণের একটি সরাসরি ও রৈখিক সম্পর্ক রয়েছে।
সফট ড্রিংকস: ২০২২ সালের একটি গবেষণায় নিয়মিত সফট ড্রিংকস পানের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সংযোগ পাওয়া গেছে।
ক্যাফেইন: ২০২১ সালের একটি মেটা-বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতিরিক্ত ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (যেমন কফি, ব্ল্যাক টি, সোডা এবং এনার্জি ড্রিংকস) পান করলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে ক্যাফেইনের এই প্রভাব আরও বেশি লক্ষ্য করা যায়।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য উপায়
পানীয় পরিবর্তনের পাশাপাশি জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন এনেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়:
সোডিয়াম গ্রহণ কমানো: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন-এর মতে, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দৈনিক সোডিয়াম গ্রহণের সর্বোচ্চ মাত্রা ২,৩০০ মিলিগ্রাম, তবে আদর্শ মাত্রা হলো দৈনিক ১,৫০০ মিলিগ্রাম।
হৃদবান্ধব খাবার খাওয়া: উদ্ভিদভিত্তিক খাবার বেশি খাওয়া এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট বা সম্পৃক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা।
নিয়মিত ব্যায়াম: নিয়মিত প্রাণবন্ত হাঁটা বা ব্রিস ওয়াকিং উচ্চ রক্তচাপ উন্নত করতে সাহায্য করে।
ধূমপান বর্জন করা: ধূমপান উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সেবনকারীদের ক্ষেত্রেও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কঠিন করে তোলে।
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ: মনস্তাত্ত্বিক চাপ উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে বা একে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
অতিরিক্ত ওজন কমানো: অতিরিক্ত শরীরের ওজনের সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের গভীর সংযোগ রয়েছে।
পরিশেষে, উচ্চ রক্তচাপ একটি গুরুতর কিন্তু নিয়ন্ত্রণযোগ্য সমস্যা। বিট রুট জুস বা চা-এর মতো কিছু স্বাস্থ্যকর পানীয় রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে, অন্যদিকে অ্যালকোহল ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এটি বাড়িয়ে দিতে পারে। মূলত সঠিক ডায়েট ও জীবনযাত্রার মাধ্যমেই সুস্থ থাকা সম্ভব।

-6aaa3527df0e5.jpg)