কনুইয়ের কালচে দাগ দূরে করণীয়
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কনুইয়ের ত্বক শরীরের অন্য অংশের তুলনায় একটু কালচে হওয়া খুবই সাধারণ। অনেকেই এটিকে ময়লা বা ধুলো জমার সমস্যা ভেবে জোরে জোরে ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সবসময় বিষয়টি এতটা সহজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে কনুইয়ের ত্বক কালচে, মোটা বা খসখসে হয়ে থাকলে তার নেপথ্যে অন্য কারণও থাকতে পারে। তাই শুধু স্ক্রাব করে সমস্যা দূর করার চেষ্টা না করে কারণটা বোঝা জরুরি।
কনুই কালো হওয়ার অন্যতম সাধারণ কারণ হল অতিরিক্ত ঘর্ষণ। টেবিলে দীর্ঘক্ষণ কনুই রেখে বসা, শক্ত জায়গায় ভর দেওয়া কিংবা বারবার ঘষা লাগার কারণে ওই অংশের ত্বক মোটা ও কালচে হয়ে যেতে পারে। ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হলেও কনুইয়ের রং গাঢ় দেখাতে পারে। আবার সূর্যের আলোয় বেশি সময় কাটালেও শরীরের অন্যান্য অংশের মতো কনুইয়ের ত্বকে পিগমেন্টেশন বাড়তে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে কালচে, মোটা ও মসৃণ-রুক্ষ ত্বক অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিক্যান্স-এর মতো ত্বকের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এই ধরনের কালচেভাব শুধু কনুইতেই নয়, ঘাড়, বগল বা শরীরের ভাঁজেও দেখা যেতে পারে। এটি অনেক সময় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ শরীর ইনসুলিনের প্রতি স্বাভাবিকভাবে সাড়া না দিলে এমন ত্বকের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
এছাড়াও হরমোনের পরিবর্তন, থাইরয়েডের সমস্যা, কিছু ত্বকের রোগ বা দীর্ঘদিনের প্রদাহের পরেও ত্বক কালচে হয়ে যেতে পারে। তাই হঠাৎ করে কনুইয়ের রং বদলে গেলে বা ধীরে ধীরে কালচে ভাব বাড়তে থাকলে বিষয়টি অবহেলা না করাই ভালো।
কনুই কালো হলেই শরীরে কোনও গুরুতর রোগ হয়েছে, এমন ধারণাও ঠিক নয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঘর্ষণ, শুষ্কতা বা স্বাভাবিক পিগমেন্টেশনের কারণেও এমন হতে পারে। প্রথমে অতিরিক্ত ঘষাঘষি বন্ধ করুন এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন। বাইরে বের হলে কনুইয়েও সানস্ক্রিন লাগানো যেতে পারে।
কালচে ভাবের সঙ্গে যদি ত্বক মোটা হয়ে যায়, শরীরের অন্য ভাঁজেও একই ধরনের দাগ দেখা দেয় বা সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে, তাহলে একজন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসক ত্বক পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় রক্তপরীক্ষা বা অন্য পরীক্ষা করতে বলতে পারেন। কারণটা জানা গেলে তবেই সঠিক চিকিৎসা সম্ভব।
