তীব্র গরমে পেট খারাপ হলে যা খাবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তীব্র গরমে শরীর ও মন অতিষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যে সমস্যাটি সবচেয়ে বেশি দেখা দেয়, তা হলো পেটের গোলমাল। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের হজম প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে গ্যাস, অম্বল বা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা ঘরে ঘরে দেখা যায়। এই সময়ে সুস্থ থাকতে এবং শরীরকে ভেতর থেকে শীতল রাখতে সঠিক খাদ্যভ্যাস বেছে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই। কিছু সহজলভ্য ও প্রাকৃতিক খাবার নিয়মিত খেলে পেটের অতিরিক্ত তাপ কমে এবং হজমশক্তি ঠিক থাকে। চলুন জেনে নিই গরমে পেট ঠান্ডা রাখতে কী কী খাবেন —
১. গরমে সবচেয়ে কার্যকর পানীয় হল ডাবের পানি। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে ইলেকট্রোলাইট সমৃদ্ধ তরল; যা আমাদের শরীরে ডিহাইড্রেশন প্রতিরোধ করে। তাই অতিরিক্ত গরমে পেট খারাপ হলে চেষ্টা করবেন ডাবের পানি পান করার জন্য।
২. টক দই খাওয়া যেতে পারে। কারণ, টক দইয়ে রয়েছে প্রোবায়োটিক নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়া। এটি অন্ত্রে ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করতে পারে। প্রতিদিন ১-২ কাপ চিনি ছাড়া টক দই খান।
৩. এই সময়ে খাদ্যতালিকায় তরমুজ, শসা, বেল এবং বাঙির মতো ফল বেশি রাখা জরুরি। এগুলোতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার থাকে; যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। বেলের শরবত কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেটের ভেতরের জ্বালাপোড়া কমাতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখে।
৪. গরমে অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত ও গুরুপাক খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। এর বদলে লাউ, ঝিঙে বা পটলের মতো হালকা সবজির ঝোল এবং নরম ভাত খাওয়া ভালো। এছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাত শরীর ও পেট ঠান্ডা রাখতে ভীষণ উপকারী।
৫. জিরায় প্রাকৃতিক অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যা পেট খারাপ ভালো করতে সাহায্য করতে পারে। এজন্য শুকনো একটি প্যানে এক চা চামচ জিরা ভাজুন এবং গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ পানিতে ওই পাউডার মিশিয়ে দিনে ২ থেকে ৩ বার পান করুন।
৬. আদার প্রাকৃতিক অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল বৈশিষ্ট্য রয়েছে; যা পরিপাকতন্ত্রকে প্রশমিত করতে এবং পেট খারাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা চা তৈরি কীভাবে করবেন-
এক কাপ গরম পানিতে কয়েক টুকরো তাজা আদা দিয়ে দিন। ৫-১০ মিনিট অপেক্ষা করুন। তারপর স্বাদমতো মধু যোগ করুন এবং প্রতিদিন ২-৩ কাপ পান করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমের সময় ক্যাফেইনযুক্ত এবং অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় এড়ানো উচিত। কারণ, এগুলো ডিহাইড্রেশন বাড়ায়। পাশাপাশি একটি সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে ভুলবেন না। এর পাশাপাশি খাওয়ার আগে ও টয়লেট ব্যবহারের পর সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করুন।

