জিমে যে ভুল করলে কমতে পারে প্রজনন ক্ষমতা
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১০ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শরীর সুস্থ রাখা, পেশি গঠন ও ফিটনেস ধরে রাখতে অনেক তরুণ নিয়মিত জিমে গিয়ে ভারোত্তোলন করেন। তবে দ্রুত পেশি বাড়াতে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই টেস্টোস্টেরন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকা তরুণদের জন্য এ ধরনের হরমোন ব্যবহারের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ।
শুক্রাণু উৎপাদন কমার কারণ
টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন মস্তিষ্ক ও অণ্ডকোষের মধ্যে থাকা জটিল হরমোন ব্যবস্থার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। শরীরের বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক অণ্ডকোষকে উদ্দীপিত করা হরমোনের সংকেত কমিয়ে দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে লুটিনাইজিং হরমোন (এলএইচ) ও ফলিকল-স্টিমুলেটিং হরমোন (এফএসএইচ)।
চিকিৎসকরা বলেন, বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে শরীরে পর্যাপ্ত টেস্টোস্টেরন রয়েছে। ফলে এলএইচ ও এফএসএইচের উৎপাদন কমে যায়। স্বাভাবিক অণ্ডকোষের কার্যক্রম ও শুক্রাণু উৎপাদনের জন্য এসব হরমোন গুরুত্বপূর্ণ। এর ফলে অণ্ডকোষ নিজস্ব টেস্টোস্টেরন ও শুক্রাণু উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে।
বেশি টেস্টোস্টেরন মানেই কি বেশি প্রজনন ক্ষমতা?
অনেকের ধারণা, শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বেশি থাকলে প্রজনন ক্ষমতাও বেশি হয়। তবে রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা এবং শুক্রাণু উৎপাদন এক বিষয় নয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, একজন পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা অনেক বেশি থাকলেও তার শুক্রাণুর সংখ্যা খুব কম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণকারী পুরুষের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ১ হাজারের বেশি থাকলেও শুক্রাণু উৎপাদন মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। তাই টেস্টোস্টেরনকে প্রজনন ক্ষমতা বাড়ানোর চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।
অ্যানাবলিক স্টেরয়েডও একইভাবে প্রজনন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। এগুলো এলএইচ ও এফএসএইচের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে, শুক্রাণুর ঘনত্ব ও গতিশীলতা কমাতে পারে এবং অণ্ডকোষের আকার ছোট করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বীর্যে কোনো শুক্রাণু না থাকার অবস্থাও তৈরি হতে পারে, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়।
সুস্থ হতে কতদিন সময় লাগতে পারে
টেস্টোস্টেরন বা স্টেরয়েড ব্যবহার বন্ধ করলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রজনন ক্ষমতা স্বাভাবিক হয়ে যায় না। শুক্রাণু তৈরি হতে সাধারণত প্রায় ৭০ থেকে ৮০ দিন সময় লাগে। তাই প্রজনন ক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
চিকিৎসকরা বলেন, স্টেরয়েড বা টেস্টোস্টেরন বন্ধ করার পর রাতারাতি শুক্রাণু উৎপাদন স্বাভাবিক হয় না। কতদিন এবং কী মাত্রায় হরমোনের কার্যক্রম দমিয়ে রাখা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে সুস্থ হতে তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে এক বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর কখনো কখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাও সম্ভব নাও হতে পারে।
হরমোনজনিত প্রজনন সমস্যার বিষয়টি সহজে বোঝা যায় না। কারণ শুক্রাণু উৎপাদন কমে গেলেও সবসময় স্পষ্ট কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না। ফলে একজন তরুণ পেশি বাড়াতে থাকলেও নিজেকে শারীরিকভাবে সুস্থ মনে করতে পারেন, অথচ তার শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যেতে পারে। অনেক সময় সন্তান নেওয়ার চেষ্টা শুরু করার কয়েক বছর পর বিষয়টি ধরা পড়ে।
প্রজনন ক্ষমতা সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে
জিমে যাওয়া নিজেই কোনো সমস্যা নয়। ভারোত্তোলন, সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং ক্রিয়েটিনের মতো উপযুক্ত পরিপূরক গ্রহণ করে অ্যানাবলিক স্টেরয়েড বা চিকিৎসকের পরামর্শবিহীন টেস্টোস্টেরন ছাড়াই স্বাস্থ্যকরভাবে পেশি গঠন করা সম্ভব।
চিকিৎসকরা বলেন, জিম নিজে সমস্যা নয়। উদ্বেগের বিষয় হলো চিকিৎসকের যথাযথ তত্ত্বাবধান ছাড়া টেস্টোস্টেরন বা অ্যানাবলিক স্টেরয়েড ব্যবহার। ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার পরিকল্পনা থাকা তরুণদের এসব হরমোন ব্যবহারের আগে সম্ভাব্য প্রজননগত ঝুঁকি সম্পর্কে জানা উচিত।
বিশেষ করে ভবিষ্যতে সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলে টেস্টোস্টেরন চিকিৎসা শুরুর আগে যোগ্য চিকিৎসকের সঙ্গে প্রজনন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা উচিত। ফিটনেসের লক্ষ্য পূরণের পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টিও শুরু থেকেই বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

