Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রতিদিন কতটা ইসবগুলের ভুষি খাবেন?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে প্রতিদিন কতটা ইসবগুলের ভুষি খাবেন?

Advertisement

সকালে ঘুম থেকে উঠে পেট পরিষ্কার না হওয়া, দীর্ঘক্ষণ অস্বস্তি অনুভব করা বা মলত্যাগের কষ্ট- কোষ্ঠকাঠিন্যের এই সমস্যাগুলো অনেকের দৈনন্দিন জীবনকে অস্বস্তিকর করে তোলে। এই সমস্যা দূর করতে ঘরোয়া উপায় হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে ইসবগুলের ভুষি (সাইলিয়াম হাস্ক)।

বিশ্বজুড়ে ইসবগুল একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক ফাইবার হিসেবে পরিচিত। এটি তৈরি হয় ‘প্ল্যান্টাগো ওভাটা’ বীজের আবরণ থেকে। পানিতে মিশলে এটি জেলির মতো পর্দাথ তৈরি করে, যা অন্ত্রে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং মলকে নরম করে সহজে বের হতে সাহায্য করে। তবে উপকার পেতে হলে জানতে হবে-প্রতিদিন কতটা ইসবগুল খাওয়া উচিত এবং কীভাবে খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

কোষ্ঠ্যকাঠিন্যে ইসবগুল কীভাব কাজ করে?

ইসবগুল মূলত একটি দ্রবণীয় আঁশ। এটি অন্ত্রে গিয়ে পানির সঙ্গে মিশে ফুলে ওঠে এবং মলের পরিমাণ বাড়ায়। ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক নড়াচড়া সহজ হয় এবং মলত্যাগের প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হতে সাহায্য করে।

এটি এক ধরনের ব্ল্যাক-ফর্মিং ল্যাক্সটিভ অর্থাৎ ওষুধের মতো জোর করে অন্ত্রকে উদ্দীপিত না করে প্রাকৃতিকভাবে মলকে নরম ও ভারী করে কাজ করে।

প্রতিদিন কতটা খাওয়া উচিত

ভারতীয় পুষ্টিবিদ আস্থা শর্মার মতে, মাঝে মাঝে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা প্রাপ্তবয়স্করা শুরুতে প্রায় পাঁচ গ্রাম বা এক থেকে দুই চামচ ইসবগুল নিতে পারেন। তবে পণ্যের ধরন ও প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে।

একেবারে বেশি পরিমাণ ইসবগুল খেলে উপকার দ্রুত পাওয়ার বদলে পেট ফাঁপা, গ্যাস কিংবা অস্বস্থি হতে পারে। অতিরিক্ত পরিমাণ খেলে অন্ত্রে বাধা তৈরির ঝুঁকিও থাকতে পারে। তাই অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো উচিত।

খাওয়ার সঠিক নিয়ম

ইসবগুল খাওয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। প্রায় ২৪০ মিলিলিটার বা এক গ্লাস পূর্ণ পানির সঙ্গে ইসবগুল মিশিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পান করতে হবে। সেই সঙ্গে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।

কারণ ইসবগুল অন্ত্রে পানি শোষণ করে ফুলে ওঠে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে এবং অন্ত্রেও এটি বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

কখন খাবেন?

ইসবগুল খাওয়ার সঠিক কোনো সেরা সময় নেই। নিয়মিত খাওয়াটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ খাবারের পর, আবার কেউ নিজের দৈনন্দিন রুটিন অনুযায়ী সন্ধ্যায় এটি খেতে পারেন। তবে নিয়মিত কোনো ওষুধ খেলে ইসবগুল ও ওষুধ গ্রহণের মধ্যে কিছুটা সময়ের ব্যবধান রাখা প্রয়োজন, কারণ ইসবগুল কিছু ওষুধ বা পুষ্টি উপাদানের শোষণে প্রভাব পেলতে পারে।

যাদের সতর্ক থাকতে হবে

যাদের খাবার গিলতে সমস্যা, অন্ত্রে বাধা বা বাধার আশঙ্কা, তীব্র পেট ব্যথা, বমি বমি ভাব বা বমি কিংবা কারণ ছাড়া মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত হচ্ছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইসবগুল খাওয়া উচিত নয়।

এছাড়া কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা নিয়মিত ওষুধ সেবনকারীদের ইসবগুল ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

ইসবগুল খাওয়ার পর তীব্র পেট ব্যথা, গিলতে বা শ্বাস নিতে সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য বেড়ে গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম