কিভাবে বুঝবেন সন্তান মাদকাসক্ত কিনা, ফেরাতে যা করবেন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের হরমোনজনিত নানা শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন ঘটে। ফলে তাদের মধ্যে বিভিন্ন জিনিসের প্রতি কৌতূহল বাড়ে। এমনকি বন্ধুবান্ধব ও আশেপাশের পরিবেশ থেকে নানরকম বদঅভ্যাসও গড়ে উঠতে পারে। এ সময় তাদের আবেগ বেশি থাকে। আচরণেও পরিবর্তন আসে। কিন্তু আপনি যদি তার এসব বিষয়ে অধৈর্য হন, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারেন তাহলে আপনার সন্তান খারাপ পথে পা বাড়াতে পারে, এমনকি মাদকের সঙ্গেও জড়িয়ে পড়তে পারে।
পরিবারের নজর এড়িয়ে তরুণরা কৌতূহলের বসে
মাদক গ্রহণ করে। তবে আপনি যদি কিছু ছোটোখাটো পরিবর্তন আপনার সন্তানের আচরণে লক্ষ্য
করেন তাহলে সে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে কিনা তা বুঝতে পারবেন। চলুন জেনে নিই সন্তানের
আচরণের কী কী পরিবর্তন নজরে রাখবেন—
আচরণে
হঠাৎ পরিবর্তন
আগের তুলনায় বেশি রাগ, বিরক্তি, গোপনীয়তা,
মিথ্যা বলা বা পরিবারের সদস্যদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। এছাড়া অল্প কথায় উত্তেজিত
হয়ে যাওয়া, ঘরের দরজা দীর্ঘসময় বন্ধ করে রাখা, প্রশ্ন করলে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখানো
বা ব্যক্তিগত বিষয় বেশি গোপন রাখার প্রবণতা দেখা দিতে পারে। তবে কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক
ব্যক্তিগত পরিসরকে মাদক গ্রহণের প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না।
বন্ধুবান্ধবদের
ক্ষেত্রে পরিবর্তন
পুরোনো বন্ধু মহলকে এড়িয়ে গিয়ে নতুন বন্ধুমহলের
সঙ্গে অতিরিক্ত সময় কাটানো এবং সেই বন্ধুদের পরিচয় গোপন রাখার চেষ্টা করা। নতুন বন্ধু
হওয়া দোষের কিছু নয়, তবে সন্তান কেমন বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশা করছে সে বিষয়ে খোঁজ রাখা
জরুরি।
টাকার
প্রয়োজন বেড়ে যাওয়া
কী কাজে টাকা খরচ করছে তা সঠিকভাবে না
বলে মিথ্যা কথা বলা, বাসা থেকে মূল্যবান জিনিস হারিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটলে এসব বিষয়
নজরে আনা জরুরি।
শারীরিক
পরিবর্তন হওয়া
চোখ লাল হওয়া, কথা বলার ধরন বদরে যাওয়া,
কথা জড়িয়ে যাওয়া, হাত কাঁপা, অসময়ে ঘুম, ঝিমুনির মতো লক্ষণ দেখলে বিষয়টি আমলে আনা জরুরি।
তবে এসব লক্ষণ অসুস্থতার কারণেও হতে পারে।
ঘরে
অচেনা জিনিস পাওয়া
অচেনা প্যাকেট, পাতা বা মাদকের সঙ্গে সম্পর্কিত
সরঞ্জাম পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে। তবে কোনো জিনিস দেখেই মাদক ধরে
নেওয়া উচিত নয়। সন্দেহজনক বস্তু হাতে নিয়ে পরীক্ষা না করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের পরামর্শ
নিন।
মাদক
থেকে ফিরিয়ে আনতে কী করেবেন
সন্তানকে মাদক থেকে ফিরিয়ে আনতে সবচেয়ে
জরুরি হলো ধৈর্য, ভালোবাসা এবং সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তাকে অপরাধী বা দোষী না
ভেবে একজন আসক্ত রোগী হিসেবে বিবেচনা করলে তাকে সুস্থ করা অনেক সহজ হয়।
প্রথমেই সন্তানের সঙ্গে কোনো প্রকার রাগ
বা মারমুখী আচরণ না করে শান্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করুন। সন্তান কেন মাদকের
দিকে ঝুঁকলো; মানসিক চাপ, একাকিত্ব নাকি খারাপ সঙ্গ তা বকাবকি না করে বোঝার চেষ্টা
করুন। তাকে একা না রেখে পরিবারের সবাই মিলে বেশি বেশি সময় দিন, যাতে সে নিজেকে একা
বা বিচ্ছিন্ন মনে না করে। তার দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাকে খেলাধুলা,
বই পড়া বা সামাজিক ও সৃজনশীল কাজে ব্যস্ত রাখুন এবং পুরোনো মাদকাসক্ত বন্ধুদের থেকে
দূরে রাখার ব্যবস্থা করুন।
যদি দেখা যায় ঘরোয়াভাবে বা বুঝিয়ে তাকে ফেরানো যাচ্ছে না, তবে কোনো দ্বিধা না করে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সাইকিয়াট্রিস্ট বা পেশাদার কাউন্সিলরের সাহায্য নিন। আসক্তির পরিমাণ খুব বেশি হলে তাকে কোনো ভালো ও স্বীকৃত পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তি করিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, এটি একটি মানসিক ও শারীরিক রোগ, তাই সঠিক চিকিৎসা ও পরিবারের অবিচল সমর্থনই তাকে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারে।
