পেশির খিঁচুনি ও পায়ে অসাড়তা, কোন ভিটামিনের ঘাটতি জানুন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০৪ এএম
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আপনার পায়ের পেশিতে কি মাঝরাতে হঠাৎ টান ধরে ঘুম ভেঙে যায়? কখনো কি পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়ার মতো অস্বস্তি অনুভব করেন? এমন সমস্যা অনেকের কাছেই পরিচিত। বিশেষ করে রাতে হঠাৎ পায়ে খিঁচুনি বা ব্যথা শুরু হলে তা ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও স্নায়ুজনিত নানা সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। অনেকেই এসব উপসর্গকে শুধুমাত্র হাড় বা পেশির সমস্যা বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতিও পায়ে টান ধরা, ব্যথা, ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তার মতো সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
ভারতের চিকিৎসক শালিনী সিং সালুঙ্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এমন কয়েকটি পুষ্টি উপাদানের কথা উল্লেখ করেছেন, যেগুলোর ঘাটতি পেশি ও স্নায়ুর স্বাভাবিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
ভিটামিন ডি
ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ঘাটতি হলে পেশি ও হাড়ে ব্যথা, দুর্বলতা এবং কিছু ক্ষেত্রে খিঁচুনির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স্কদের মধ্যে ভিটামিন ডির ঘাটতি পেশির শক্তি কমিয়ে দিতে পারে, ফলে চলাফেরায় অসুবিধা এবং পড়ে গিয়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ভিটামিন বি১২
স্নায়ুর সুস্থতা এবং লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতে ভিটামিন বি১২ অপরিহার্য। এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে পা বা পায়ের পাতায় ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা কিংবা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি দেখা দিতে পারে।
ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী বা গুরুতর হলে ভারসাম্যহীনতা, দুর্বলতা এবং স্নায়ুজনিত ব্যথার মতো উপসর্গও দেখা দিতে পারে।
ভিটামিন বি১ (থায়ামিন)
শরীরে শক্তি উৎপাদন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য ভিটামিন বি১ বা থায়ামিন প্রয়োজন। এর ঘাটতিতে ক্লান্তি, পেশির দুর্বলতা, পায়ে জ্বালাপোড়া এবং অন্যান্য স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গুরুতর ঘাটতির ক্ষেত্রে হাঁটাচলায়ও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
ভিটামিন ই
ভিটামিন ই-এর ঘাটতি তুলনামূলকভাবে কম দেখা গেলেও এটি স্নায়ুর কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে পেশির দুর্বলতা, শরীরের নড়াচড়ার সমন্বয়ে সমস্যা এবং অনুভূতির পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পায়ে অনুভূতি কমে যাওয়া বা সমন্বয়হীনতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে শুধু ভিটামিনের ঘাটতিকে দায়ী না করে অন্য কারণও খতিয়ে দেখা উচিত।
আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়ামের ভূমিকা
আয়রনের ঘাটতিজনিত রক্তস্বল্পতা বা অ্যানিমিয়ার কারণে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে পায়ে অস্বস্তি বা অস্থিরতার অনুভূতিও তৈরি হয়।
অন্যদিকে ম্যাগনেসিয়াম ও পটাশিয়াম ভিটামিন নয়, তবে পেশির সংকোচন ও শিথিল হওয়ার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব খনিজের ভারসাম্য নষ্ট হলে পেশিতে টান বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে।
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
চিকিৎসকদের মতে, মাঝেমধ্যে পায়ে টান ধরা সবসময় ভিটামিন বা খনিজের ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় না। দীর্ঘক্ষণ একই ভঙ্গিতে বসে থাকা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম, পানিশূন্যতা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কিংবা বিভিন্ন রোগের কারণেও এমন সমস্যা হতে পারে।
তবে যদি নিয়মিত পায়ে খিঁচুনি, ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা, পেশির দুর্বলতা, হাঁটতে অসুবিধা বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ভিটামিন বা খনিজের সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ শুরু করা উচিত নয়। কারণ শরীরে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন বা খনিজও নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: নিউজ ১৮

