Logo
Logo
×
   

Advertisement

লাইফ স্টাইল

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন যে অভ্যাস জরুরি

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন যে অভ্যাস জরুরি

ফাইল ছবি

Advertisement

স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির পেছনে বয়স ও বংশগত কারণসহ নানা বিষয় কাজ করে। এর কিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। তবে শরীরের ওজন, খাবারের অভ্যাস ও শারীরিক পরিশ্রমের মতো কিছু বিষয় জীবনযাপনে পরিবর্তন এনে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

পেটের চর্বি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বিশেষজ্ঞদরে মতে, শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমা স্তন ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বিশেষ করে পেট ও কোমরের আশপাশে জমা চর্বি নিয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

চিকিৎসকরা বলেন, স্থূলতার সঙ্গে স্তন ক্যানসারের সম্পর্কের একটি কারণ হলো পেটের আশপাশে জমে থাকা চর্বি। সাধারণত ডিম্বাশয়সহ শরীরের বিভিন্ন প্রজনন অঙ্গ থেকে ইস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোন তৈরি হয়। তবে শরীরের চর্বিও ইস্ট্রোজেন তৈরির একটি উৎস।

তাই পেটের চারপাশে বেশি চর্বি জমলে শরীরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেনের প্রভাব তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেনের প্রভাব স্তন ক্যানসারের অন্যতম কারণ হতে পারে।

তবে শুধু পেটের চর্বি কমানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো ব্যায়াম নেই। তাই নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুষম খাবারের মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে শরীরের অতিরিক্ত চর্বি কমানোর দিকে নজর দিতে হবে।

কোন ব্যায়াম সবচেয়ে ভালো?

স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে একটি নির্দিষ্ট ব্যায়ামকেই সেরা বলা যায় না বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যের অবস্থা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম করা উচিত। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যাওয়া।

তারা বলেন, ব্যায়ামের তালিকায় কিছুটা কার্ডিও রাখা দরকার। হাঁটা, দ্রুত হাঁটা বা এমন ব্যায়াম করা যেতে পারে, যাতে হৃদস্পন্দন বাড়ে এবং শরীর সক্রিয় থাকে।

এর পাশাপাশি নারীদের জন্য শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামও গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমানোর বিষয় নয়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়তা করে। বিশেষ করে ৩৫ থেকে ৪০ বছর বয়সের পর শক্তি বাড়ানোর ব্যায়ামে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেশি ও হাড়ের শক্তি ধরে রাখা জরুরি। শুধু কার্ডিও ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করাও প্রয়োজন। পেশির পরিমাণ ভালো থাকলে শরীরে শর্করা ব্যবহারের ক্ষমতা ও ইনসুলিনের কার্যক্রমও ভালো থাকে। এর সঙ্গে হরমোনের ভারসাম্যেরও সম্পর্ক রয়েছে।

কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন?

স্ট্রেচিং, কার্ডিও ও শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম—সবই রুটিনে রাখা যেতে পারে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা।

হাঁটা শরীরচর্চার সহজ উপায় হলেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট কত হাজার পদক্ষেপ হাঁটতেই হবে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার প্রয়োজন নেই। বরং দীর্ঘ সময় বসে থাকা কমিয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে নিয়মিত হাঁটা ও নড়াচড়া করার অভ্যাস করা উচিত।

বিশেষজ্ঞের মতে, ব্যায়ামের ধরন ও মাত্রা সবার জন্য এক হবে না। বয়স, শারীরিক সমস্যা, চলাফেরার সক্ষমতা ও ফিটনেসের মাত্রা বিবেচনা করে ব্যায়াম ঠিক করতে হবে। ৮০ বছর বয়সি একজনের জন্য যে ব্যায়াম উপযুক্ত, ৪০ বছর বয়সি একজনের জন্য সেটিই উপযুক্ত নাও হতে পারে।

এ ছাড়া শরীরের সক্ষমতার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত ব্যায়াম করাও ঠিক নয়। এতে চোট পাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই নিজের শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিরাপদ ও নিয়মিত ব্যায়াম করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম