Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

ঘরে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াবেটিসের রোগী? জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে রাখুন এই ৭ সরঞ্জাম

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪০ পিএম

ঘরে হৃদযন্ত্র, ফুসফুস বা ডায়াবেটিসের রোগী? জরুরি পরিস্থিতি সামলাতে রাখুন এই ৭ সরঞ্জাম

Advertisement

রোগ কখন, কীভাবে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি করবে তা আগে থেকে বলা যায় না। এমন পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিটও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই বাড়িতে বয়স্ক ব্যক্তি, হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা বা ডায়াবেটিসের রোগী থাকলে কিছু প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সরঞ্জাম হাতের কাছে রাখা ভালো।

রক্তচাপ কত, রক্তে শর্করার মাত্রা কেমন বা শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা ঠিক আছে কিনা—এসব প্রাথমিক তথ্য দ্রুত জানা গেলে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলার সময়ও তা কাজে লাগতে পারে।

তবে মনে রাখতে হবে, বাড়িতে ব্যবহারের কোনো যন্ত্রই হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য গুরুতর অসুস্থতা নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করতে পারে না। এগুলো মূলত শরীরের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দিতে পারে।

১. রক্তচাপ মাপার যন্ত্র

বাড়িতে রক্তচাপ মাপার যন্ত্র থাকা বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য উপকারী। বাহুর ওপরের অংশে ব্যবহার করা যায় এমন যন্ত্রে সিস্টোলিক ও ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ জানা যায়।

সঠিক মাপ পেতে রক্তচাপ মাপার আগে অন্তত পাঁচ মিনিট শান্ত হয়ে বসে থাকা ভালো। প্রয়োজনে এক মিনিট বিরতিতে দুবার মাপ নেওয়া যেতে পারে।

রক্তচাপ ১৮০/১২০ বা তার বেশি হলে কিছুক্ষণ পর আবার মাপতে হয়। একই সঙ্গে বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, দুর্বলতা বা কথা বলতে সমস্যা হলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

২. গ্লুকোমিটার

বাড়িতে ডায়াবেটিসের রোগী থাকলে গ্লুকোমিটার অত্যন্ত কার্যকর একটি সরঞ্জাম। আঙুল থেকে অল্প রক্ত নিয়ে দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা জানা যায়।

বিশেষ করে ইনসুলিন বা রক্তে শর্করা কমাতে পারে এমন ওষুধ ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে এটি হাতের কাছে থাকা গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে শর্করা ৭০-এর নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। মাত্রা খুব কমে গেলে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

৩. পালস অক্সিমিটার

শ্বাসকষ্ট বা ফুসফুসের সমস্যার ক্ষেত্রে শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পেতে পালস অক্সিমিটার কাজে লাগে। আঙুলে লাগানো এই ছোট যন্ত্রে রক্তে অক্সিজেনের আনুমানিক মাত্রা ও হৃৎস্পন্দনের হার দেখা যায়।

সুস্থ অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে অক্সিজেনের মাত্রা সাধারণত ৯৫ থেকে ১০০ শতাংশের মধ্যে থাকে। তবে হৃদযন্ত্র বা ফুসফুসের রোগীদের ক্ষেত্রে মাত্রা ভিন্ন হতে পারে। তাই শুধু যন্ত্রের রিডিং দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্যক্তির অন্যান্য উপসর্গও বিবেচনা করা জরুরি।

৪. থার্মোমিটার

বাড়ির প্রাথমিক চিকিৎসা সরঞ্জামের তালিকায় একটি থার্মোমিটারও রাখা ভালো। শরীরের তাপমাত্রা মেপে জ্বরের মাত্রা সম্পর্কে সহজেই ধারণা পাওয়া যায়।

তবে শুধু তাপমাত্রা নয়, জ্বরের সঙ্গে শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অন্য কোনো গুরুতর উপসর্গ রয়েছে কিনা, সেদিকেও নজর দিতে হবে।

৫. স্মার্টওয়াচ বা পোর্টেবল ইসিজি

হৃদরেগীর ক্ষেত্রে কিছু স্মার্টওয়াচ বা পোর্টেবল ইসিজি যন্ত্র প্রাথমিকভাবে হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক কার্যকলাপের একটি রেকর্ড দিতে পারে। প্রয়োজনে সেই রেকর্ড চিকিৎসককে দেখানোও সম্ভব।

তবে এগুলো হাসপাতালের পূর্ণাঙ্গ ইসিজির বিকল্প নয়। বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে যন্ত্রে স্বাভাবিক রিডিং এলেও দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

৬. অক্সিজেন সিলিন্ডার বা কনসেনট্রেটর

কিছু হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসের রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসক বাড়িতে অক্সিজেন সিলিন্ডার বা অক্সিজেন কনসেনট্রেটর রাখার পরামর্শ দিতে পারেন।

তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে অক্সিজেন ব্যবহার করা উচিত নয়। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী কত মাত্রায় ও কতক্ষণ অক্সিজেন দিতে হবে, সেটিও চিকিৎসকের কাছ থেকে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।

৭. নেবুলাইজার

হাঁপানি, সিওপিডি বা নির্দিষ্ট কিছু ফুসফুসের সমস্যায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বাড়িতে নেবুলাইজার রাখা যেতে পারে। এই যন্ত্র তরল ওষুধকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করে, যাতে শ্বাসের সঙ্গে তা ফুসফুসে পৌঁছাতে পারে।

তবে নেবুলাইজার থাকলেই যে প্রতিবার শ্বাসকষ্টে এটি ব্যবহার করতে হবে, এমন নয়। কোন ওষুধ, কত মাত্রায় এবং কখন ব্যবহার করতে হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হওয়া উচিত।

যন্ত্র থাকলেই হবে না, ব্যবহারও জানতে হবে

বাড়িতে এসব সরঞ্জাম রাখা উপকারী হলেও সেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করার নিয়ম জানা জরুরি। পাশাপাশি জরুরি ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখা, প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা থাকা এবং প্রয়োজন হলে কোন হাসপাতালে যেতে হবে তা আগে থেকে জানা থাকাও জরুরি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো যন্ত্রের রিডিং স্বাভাবিক দেখালেও যদি বুকে তীব্র ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা জড়িয়ে যাওয়ার মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে যন্ত্রের ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

৩০ সেকেন্ডে মুড ভালো হতে পারে

৩০ সেকেন্ডে মুড ভালো হতে পারে

মেদ কমাতে যা খাবেন

মেদ কমাতে যা খাবেন

ঘাড়ে কালচে ছোপ থেকে আঁচিল, শরীরের এই ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া জরুরি

ঘাড়ে কালচে ছোপ থেকে আঁচিল, শরীরের এই ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হওয়া জরুরি

মাথাব্যথা কি চোখের সমস্যার কারণে? যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন

মাথাব্যথা কি চোখের সমস্যার কারণে? যে ৫ লক্ষণে বুঝবেন

আইভিএফের সময় যে ৪ বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

আইভিএফের সময় যে ৪ বিষয়ে নজর দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞের

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গড়ে তুলবেন যে ৫ অভ্যাস

কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গড়ে তুলবেন যে ৫ অভ্যাস

আরও পড়ুন

৩০ সেকেন্ডে মুড ভালো হতে পারে

৩০ সেকেন্ডে মুড ভালো হতে পারে

প্রতিদিন একটি কলা খেলে যেসব উপকার পাবেন

প্রতিদিন একটি কলা খেলে যেসব উপকার পাবেন

সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

সাবেক প্রেমিকাকে ভুলতে কত বছর লাগে? গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য

ডার্ক চকলেটের যেসব উপকার জানলে অবাক হবেন আপনিও

ডার্ক চকলেটের যেসব উপকার জানলে অবাক হবেন আপনিও

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম