পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কি হুমকিতে, গবেষণায় মিলছে নতুন উদ্বেগ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৩ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্বজুড়ে পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় গত ৫০ বছরে পুরুষদের গড় টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এর পাশাপাশি শুক্রাণুর সংখ্যা ও মান কমে যাওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় রয়েছে। ফলে কেউ কেউ পরিস্থিতিকে ‘স্পার্মাগেডন’ বা পুরুষের প্রজনন সংকট হিসেবে বর্ণনা করছেন।
গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক হাগাই লেভিন বলেন, টেস্টোস্টেরনের মাত্রা ৫০ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার ভাষায়, বিষয়টি নিয়ে মানুষের এখনই সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
তবে এই সংকটের মাত্রা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালান পেসি মনে করেন, শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগের কারণ নেই। তার গবেষণায় সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতিতে শুক্রাণুর সংখ্যা বিশ্লেষণ করে বড় ধরনের পতনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে শুক্রাণুর মান কিছুটা খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মধ্যে তুলনামূলকভাবে বেশি গ্রহণযোগ্য বিষয় হলো, পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য তার সামগ্রিক শারীরিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক চান্না জয়াসেনার মতে, স্থূলতা ও ডায়াবেটিসের হার দ্রুত বাড়ায় পুরুষের বিপাকীয় স্বাস্থ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। অতিরিক্ত শরীরের চর্বি টেস্টোস্টেরনকে ইস্ট্রোজেনে রূপান্তরের হার বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের হরমোন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়ও প্রভাব ফেলে।
এছাড়া পরিবেশ দূষণ, বায়ুদূষণ, মাইক্রোপ্লাস্টিক ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, তা নিয়েও ব্যাপক গবেষণা চলছে। তবে এসব উপাদানের কারণে পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা কমছে, এমন নিশ্চিত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞরা পুরুষের প্রজনন সমস্যা নির্ণয়ে মৌলিক চিকিৎসা পরীক্ষার ওপর জোর দিচ্ছেন। শারীরিক পরীক্ষা, রোগের ইতিহাস এবং বীর্য বিশ্লেষণই হওয়া উচিত প্রাথমিক ধাপ। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুরুষের প্রজনন সক্ষমতা বাড়ানোর বিভিন্ন পরীক্ষা, সাপ্লিমেন্ট ও চিকিৎসা পদ্ধতির প্রচার বাড়ছে।
বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া টেস্টোস্টেরন গ্রহণের প্রবণতা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টেস্টোস্টেরন জেল বা ইনজেকশন উলটো শুক্রাণু উৎপাদন বন্ধ করে দিতে পারে। কারণ বাইরে থেকে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে শরীরের নিজস্ব হরমোন উৎপাদন কমে যায়।
তবে ভবিষ্যৎ চিকিৎসা নিয়ে আশাবাদও রয়েছে। মাইক্রোফ্লুইডিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সুস্থ শুক্রাণু বাছাই এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিপুলসংখ্যক শুক্রাণুর মধ্য থেকে সবচেয়ে ভালো কোষ শনাক্ত করার প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চলছে। ল্যাবে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু তৈরির প্রযুক্তি নিয়েও কাজ হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষের প্রজনন স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগের কারণ থাকলেও এখনই মানবজাতির বিলুপ্তির আশঙ্কা করার মতো প্রমাণ নেই। বরং স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দূষণ ও অনিয়ন্ত্রিত হরমোন ব্যবহারের মতো ঝুঁকিগুলো সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ভিত্তিতে চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: গার্ডিয়ান

-6ac26f6b8e75f.jpg)