নিউমোনিক প্লেগ কী, কেন এটি নিয়ে এতো উদ্বেগ
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাইবেরিয়ার একটি উচ্চ-নিরাপত্তার গবেষণাগারে কর্মরত ২৮ বছর বয়সি এক গবেষকের নিউমোনিয়ায় মৃত্যু হয়েছে। ফলে প্লেগ নিয়ে নতুন করে আলোচনার তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার ইরকুতস্ক রিসার্চ অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন ওই গবেষক। মৃত্যুর পর তার সংস্পর্শে আসা কয়েকজনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত তার অসুস্থতার সঙ্গে গবেষণাগারে প্লেগ বা অন্য কোনো বিপজ্জনক জীবাণু নিয়ে কাজের সরাসরি যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষও এমন কোনো সম্পর্কের কথা বলছে না। ফলে ঘটনাটিকে আপাতত একটি অজানা উৎসের নিউমোনিয়ার ঘটনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি নজরে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রুশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনাটির আসল সত্যতা, গবেষণাগারে কী ধরনের পরীক্ষা চলছিল এবং আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যের জন্য কোনো সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে কিনা—এসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি কম বলেই মনে হচ্ছে। তবে তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে ঝুঁকির মূল্যায়ন পরিবর্তিত হতে পারে।
কেন নিউমোনিক প্লেগ নিয়ে আলোচনা?
প্লেগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়ার নাম ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস। এটি শরীরের কোন অংশে সংক্রমণ ঘটাচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে রোগের ধরন ভিন্ন হতে পারে।
সবচেয়ে পরিচিত রূপ হলো বুবোনিক প্লেগ। সাধারণত সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করলে লসিকাগ্রন্থিতে সংক্রমণ তৈরি হয়। আক্রান্ত স্থান ফুলে গিয়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে।
জীবাণু যখন রক্তে ছড়িয়ে পড়ে, তখন দেখা দিতে পারে সেপটিসেমিক প্লেগ। এটি অত্যন্ত গুরুতর অবস্থায় পরিণত হতে পারে। ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
আর জীবাণু ফুসফুসে পৌঁছে গেলে তৈরি হয় নিউমোনিক প্লেগ। এই ধরনটি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। কারণ, এতে দ্রুত গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
নিউমোনিক প্লেগের ক্ষেত্রে জ্বর, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, শরীর ব্যথা ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের খুব অল্প সময়ের মধ্যেই অসুস্থতা প্রকাশ পেতে পারে।
চিকিৎসা না হলে নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত প্রাণঘাতী হতে পারে। তবে দ্রুত শনাক্ত করে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া গেলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। চিকিৎসকেরা পরিস্থিতি অনুযায়ী বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার করতে পারেন। গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে অক্সিজেন, তরলসহ প্রয়োজনীয় সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
প্লেগ কি এখনো পৃথিবীতে আছে?
প্লেগকে অনেকেই মধ্যযুগের ভয়াবহ মহামারি হিসেবে মনে করেন। ১৪ শতকের ‘ব্ল্যাক ডেথ’ ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ মহামারিগুলোর একটি হয়ে উঠেছিল। কিন্তু প্লেগের অস্তিত্ব আধুনিক যুগে শেষ হয়ে যায়নি।
বিশ্বের কিছু অঞ্চলে এখনো প্রাণী ও পোকামাকড়ের মাধ্যমে ইয়েরসিনিয়া পেস্টিসের সংক্রমণ ঘটতে পারে। বিশেষ করে কিছু বন্যপ্রাণীর মধ্যে এই ব্যাকটেরিয়া টিকে থাকে। মানুষের মধ্যে সংক্রমণ সাধারণত বিরল হলেও বিচ্ছিন্ন ঘটনা এখনো ঘটছে।
যুক্তরাষ্ট্রেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্লেগে মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট প্রাণী বা পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত বিচ্ছিন্ন সংক্রমণ।
বিশ্বব্যাপী মহামারির আশঙ্কা কতটা?
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্লেগ বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের মহামারি সৃষ্টি করবে—এমন আশঙ্কা কম বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর একটি কারণ হলো নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত ব্যক্তি দ্রুত গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করে বিপুলসংখ্যক মানুষের সংস্পর্শে আসার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম থাকে।
রাশিয়ার গবেষকের মৃত্যুর ক্ষেত্রেও তাই মূল প্রশ্ন হচ্ছে—তার নিউমোনিয়ার প্রকৃত কারণ কী? তিনি কোনো সংক্রামক জীবাণুর সংস্পর্শে এসেছিলেন কিনা। এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে। তবে তদন্তকারীরা বলছেন, এই মুহূর্তে সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
সূত্র: সিএনএন
