ক্যারিয়ারের পেছনে ছুটতে গিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছেন না তো?
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দীর্ঘ কর্মদিবস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুমের প্রভাব পড়তে পারে হৃদযন্ত্রের ওপর। সপ্তাহে নিয়মিত ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করার সঙ্গে স্ট্রোক ও ইস্কেমিক হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধির সম্পর্ক পেয়েছেন গবেষকেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি শরীরকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দেওয়াও জরুরি।
সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা কেন উদ্বেগের বিষয়?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০২১ সালে এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় দীর্ঘ কর্মঘণ্টার স্বাস্থ্যগত প্রভাব বিশ্লেষণ করে।
গবেষণার হিসাব অনুযায়ী, সপ্তাহে ৩৫ থেকে ৪০ ঘণ্টা কাজ করার তুলনায় ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করলে স্ট্রোকের ঝুঁকি ৩৫ শতাংশ বেশি এবং ইস্কেমিক হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ১৭ শতাংশ বেশি হতে পারে।
তবে এই পরিসংখ্যান জনসংখ্যাভিত্তিক ঝুঁকির হিসাব। এর অর্থ এই নয় যে দীর্ঘ সময় কাজ করলেই প্রত্যেক ব্যক্তির হৃদরোগ হবে। বরং নিয়মিত অতিরিক্ত কাজের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মানসিক চাপ যেভাবে প্রভাব ফেলে হৃদযন্ত্র
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় কাজ করলে শরীরে বারবার মানসিক চাপজনিত প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। এ সময় নিঃসৃত স্ট্রেস হরমোন হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়া এ অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে হৃদ্স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
এর পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের চাপে ব্যায়ামের সময় কমে যায়, ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা বাড়ে এবং ঘুমের সময় কমে আসে। মানসিক চাপ সামলাতে কেউ কেউ ধূমপান বা অতিরিক্ত মদ্যপানের আশ্রয়ও নেন। এসব অভ্যাস সম্মিলিতভাবে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল, স্থূলতা কিংবা পরিবারে হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও মানসিক চাপের বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তরুণ বয়স বা নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস থাকলেই অতিরিক্ত কাজের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পুরোপুরি নিরাপদ থাকা যায় না। সুস্থ থাকতে শরীরচর্চার পাশাপাশি ঘুম ও বিশ্রামও জরুরি।
কখন সতর্ক হওয়া প্রয়োজন
এক সপ্তাহের ব্যস্ততা আর নিয়মিত সপ্তাহে ৫৫ ঘণ্টা বা তার বেশি কাজ করা এক বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, বারবার মাথাব্যথা, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া কিংবা স্বাভাবিক শারীরিক কাজ করতে কষ্ট হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এসব উপসর্গের অন্য কারণও থাকতে পারে।
বুকে ব্যথা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে।
কর্মব্যস্ততার মধ্যেও হৃদযন্ত্রের যত্ন
হৃদস্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ঘুম, সুষম খাবার এবং কাজের বাইরে ব্যক্তিগত সময় নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা ও প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত।
কর্মক্ষেত্রেও অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ তৈরিতে নিয়োগদাতাদের ভূমিকা রয়েছে। নিয়মিত দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে ঘুম, ব্যায়াম ও ব্যক্তিগত জীবন ব্যাহত হচ্ছে কিনা, তা খেয়াল রাখা প্রয়োজন।
পেশাগত সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সুস্থ জীবন তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে হলে কাজের পাশাপাশি হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়াও জরুরি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

-6ad0c5eae0019.jpg)
-6ad0c4648db21.jpg)