Logo
Logo
×

Advertisement

লাইফ স্টাইল

অফিসে কাজের দৌড়ে এগিয়ে কারা, নারী নাকি পুরুষ?

Advertisement

Icon

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

অফিসে কাজের দৌড়ে এগিয়ে কারা, নারী নাকি পুরুষ?

প্রতীকী ছবি।

Advertisement

অফিসের টেবিলে সারাদিন কার আঙুল বেশি সচল থাকে—নারী নাকি পুরুষ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে অনেক সময় গতানুগতিক ধারণাই আমাদের ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তবে সম্প্রতি প্রডাক্টিভিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হাইভে’-এর একটি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বেশ চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। 

৩ হাজারের বেশি কর্মজীবী নারী ও পুরুষের ওপর বেনামি জরিপ চালিয়ে তৈরি করা এই প্রতিবেদনটি বলছে, কাজের পরিমাণে নারীরাই এগিয়ে রয়েছেন।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক, কর্মক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের কাজের ধরন, পরিশ্রম এবং উৎপাদনশীলতার আসল চিত্রটি কেমন। 

কাজের পরিমাণে এগিয়ে কে?

হাইভের জরিপ বলছে, আজকের আধুনিক অফিসে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি পরিশ্রম করেন!

শুনতে অবাক লাগলেও এর পেছনে রয়েছে সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান। 

জরিপ অনুসারে, নারী ও পুরুষ উভয়েই তাদের নির্ধারিত কাজের প্রায় ৬৬ শতাংশ সম্পন্ন করে থাকেন। তবে পার্থক্য তৈরি হয় কাজের চাপে—পুরুষদের তুলনায় নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ বেশি কাজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। অর্থাৎ, অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকা সত্ত্বেও নারীরা পুরুষদের সমান হারেই তা সফলভাবে শেষ করছেন, যা তাদের বাড়তি পরিশ্রম ও কর্মদক্ষতারই প্রমাণ।

কেন নারীদের ঘাড়ে কাজের চাপ বেশি?

গবেষণার তথ্য বলছে, নারীদের এমন সব কাজের পেছনে বেশি সময় ব্যয় করতে হয় যা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপকারী হলেও তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে পদোন্নতিতে কোনো ভূমিকা রাখে না। সোজা কথায়, অফিসের যেসব কাজ পুরুষ কর্মীরা করতে চান না বা এড়িয়ে যান, ঘুরেফিরে সেগুলোর দায়িত্ব এসে পড়ে নারীদের ওপরই। 

আড্ডা কি কাজে কোনো প্রভাব ফেলে?

কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে একটু আড্ডা বা চা-পানের বিরতি তো লেগেই থাকে। 

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণা অনুযায়ী, কাজের মাঝখানে কোনো বাধা আসলে পুনরায় আগের মনোযোগ বা ফ্লো ফিরে পেতে প্রায় ২৫ মিনিট সময় নষ্ট হয়। আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, আড্ডার কারণে সার্বিক উৎপাদনশীলতা প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

তবে নারী ও পুরুষের আড্ডার ধরনে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। 

সার্বিকভাবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি আড্ডা দেন। কিন্তু যেহেতু তারা ১০ শতাংশ বেশি কাজ শেষ করেন, তাই এই বাড়তি আড্ডা তাদের উৎপাদনশীলতায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। 

নারীরা মূলত সামনাসামনি বা ওয়ান-টু-ওয়ান কথা বলা বা আড্ডাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। 

অন্যদিকে, গ্রুপ চ্যাটগুলোতে নারীদের অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম থাকে। সেখানে পুরুষরা সামান্য বেশি সক্রিয় হন, কারণ অনেক সময় এই ডিজিটাল গ্রুপগুলো নারীদের জন্য পুরোপুরি সাবলীল বা নিরাপদ মনে নাও হতে পারে।

ছুটির দিনের কাজের ফল কেমন?

ছুটির দিনের শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে কি বেশি কাজ করা সম্ভব? অনেকেই মনে করেন উইকেন্ডে অফিসের ঝামেলা না থাকায় কাজের গতি বাড়ে।

তবে হাইভের গবেষণা বলছে—না, এটি ভুল ধারণা। উইকেন্ডে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় কাজ করলেও কাজের আসল আউটপুট বা উৎপাদনশীলতা নারীদের চেয়ে কমই থাকে। 

তবে কর্মদিবসের ভেতরে কাজের সবচেয়ে সেরা সময় কোনটি, তা নিয়ে স্পষ্ট হিসাব রয়েছে এতে। সাধারণত সকাল ১০টার দিকে কর্মীদের কাজের গতি ও স্পৃহা থাকে সবচেয়ে তুঙ্গে, আর বিকাল ৪টা বাজতে না বাজতেই ক্লান্তি ভর করে এবং কাজের গতি একদম কমে যায়। 

সার্বিকভাবে কাজের চাপ, দায়িত্ব পালন এবং উৎপাদনশীলতার পরিসংখ্যানে পুরুষদের তুলনায় নারীদের এগিয়ে থাকার চিত্রটিই কর্মক্ষেত্রের নতুন বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে।  

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বয়স বাড়লেও ব্রণ পিছু ছাড়ছে না? জানুন কারণ ও প্রতিকার

বয়স বাড়লেও ব্রণ পিছু ছাড়ছে না? জানুন কারণ ও প্রতিকার

ধূমপান না করেও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত শর্মিলা, কেন?

ধূমপান না করেও ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত শর্মিলা, কেন?

ইউরিক অ্যাসিড কমান, ৭ দিনেই নিয়ন্ত্রণে আসবে গেঁটে ব্যথা

ইউরিক অ্যাসিড কমান, ৭ দিনেই নিয়ন্ত্রণে আসবে গেঁটে ব্যথা

পেট ভরে খেয়েও কমবে ওজন! মেদ ঝরাতে মেনে চলবেন যেসব নিয়ম

পেট ভরে খেয়েও কমবে ওজন! মেদ ঝরাতে মেনে চলবেন যেসব নিয়ম

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম