অকারণে ওজন কমছে, থাইরয়েড কিনা— লক্ষণগুলো খেয়াল করুন
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ওজন বাড়লেই অনেকে থাইরয়েডের সমস্যাকে দায়ী করেন। আবার কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলে অনেকে মনে করেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, খাদ্যাভ্যাস কিংবা ব্যস্ত জীবনযাপনের কারণে এমন হচ্ছে। কিন্তু কখনো কখনো এর পেছনে থাকতে পারে থাইরয়েড গ্রন্থির সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজনের পরিবর্তনের সঙ্গে অন্য কিছু উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
থাইরয়েড যেভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করে
থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ছাড়া হৃদস্পন্দন, শরীরের তাপমাত্রা এবং বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণেও এই হরমোনের ভূমিকা রয়েছে।
থাইরয়েড থেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন নিঃসৃত হলে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দেয়। এতে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। ফলে ওজন বাড়তে পারে। তবে এই বাড়তি ওজনের সবটুকু শরীরে চর্বি জমার কারণে হয় না। এর একটি অংশ শরীরে পানি জমে যাওয়ার কারণেও হতে পারে।
অন্যদিকে, থাইরয়েড হরমোন অতিরিক্ত নিঃসৃত হলে তাকে হাইপারথাইরয়েডিজম বলা হয়। এ অবস্থায় শরীরের বিপাকক্রিয়া বেড়ে যায়। ফলে স্বাভাবিক পরিমাণে খাবার খেয়েও কারও কারও ওজন কমতে পারে। এমনকি ক্ষুধা বেড়ে গেলেও ওজন কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
কখন ওজন বাড়লে থাইরয়েডের সমস্যা সন্দেহ করবেন?
শুধু ওজন বেড়ে যাওয়ার ভিত্তিতে থাইরয়েডের সমস্যা নির্ণয় করা যায় না। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই ওজন বাড়ার পাশাপাশি কিছু উপসর্গ দেখা দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
এসব উপসর্গের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, ঠান্ডা বেশি অনুভব করা, কোষ্ঠকাঠিন্য, ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, চুল পাতলা হয়ে যাওয়া, মুখ ফুলে থাকা, মাসিকের অনিয়ম, পেশিতে ব্যথা এবং হৃদস্পন্দন ধীর হয়ে যাওয়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইপোথাইরয়েডিজম একাই সাধারণত অতিরিক্ত মাত্রায় ওজন বাড়ার ব্যাখ্যা দিতে পারে না। থাইরয়েডের সমস্যা যথাযথভাবে চিকিৎসা করা হলে এর কারণে ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা কমতে পারে। কিন্তু চিকিৎসার পরও ওজন বাড়তে থাকলে অন্য কারণগুলো খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
খাবারের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অপর্যাপ্ত ঘুম, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, ইনসুলিন প্রতিরোধ, মেনোপজ এবং অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যাও ওজন বাড়াতে পারে।
কারণ ছাড়াই ওজন কমলে কী করবেন?
কোনো কারণ ছাড়াই ওজন কমতে থাকলেও বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে এর সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, হাত কাঁপা, অতিরিক্ত ঘাম, গরম সহ্য করতে না পারা, উদ্বেগ, ঘন ঘন মলত্যাগ, পেশির দুর্বলতা কিংবা ঘুমের সমস্যা দেখা দিলে হাইপারথাইরয়েডিজমের আশঙ্কা থাকতে পারে। কিছু রোগীর গলার সামনের অংশ ফুলে যেতে পারে। আবার গ্রেভস ডিজিজে আক্রান্ত কারও কারও চোখেও সমস্যা দেখা দেয়।
সবার কি থাইরয়েড পরীক্ষা করা প্রয়োজন?
ওজন নিয়ে সমস্যায় ভুগলেই সবার থাইরয়েড পরীক্ষা করার প্রয়োজন নেই। তবে ওজনের পরিবর্তনের সঙ্গে থাইরয়েডের অন্যান্য উপসর্গ, গলার সামনে গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, মাসিক বা প্রজননসংক্রান্ত সমস্যা কিংবা হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসক পরীক্ষা করার পরামর্শ দিতে পারেন। নিজের বা পরিবারের কারও থাইরয়েড কিংবা অটোইমিউন রোগের ইতিহাস থাকলেও বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সাধারণত থাইরয়েড পরীক্ষা শুরু হয় টিএসএইচ ও ফ্রি টি-ফোর পরীক্ষার মাধ্যমে। প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্রি টি-থ্রি , থাইরয়েড অ্যান্টিবডি পরীক্ষা কিংবা স্ক্যান করানো হতে পারে।
হাইপোথাইরয়েডিজম নিশ্চিত হলে চিকিৎসকের পরামর্শে থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ গ্রহণ করে হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করা যায়। এতে থাইরয়েডজনিত ওজন বৃদ্ধির কিছুটা উন্নতি হতে পারে। তবে থাইরয়েডের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলে ওজন কমানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের ওষুধ ব্যবহার করা উচিত নয়।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

-6ad21c567338d.jpg)