দেরিতে বিয়ে করলে নারীদের যেসব স্বাস্থ্য জটিলতা হতে পারে
Advertisement
লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বর্তমান যুগে শিক্ষা অর্জন ও ক্যারিয়ার গঠনে নারীরা অনেক এগিয়ে গেছেন। কর্মক্ষেত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করা, আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া এবং নিজের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে এসব লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে কিংবা জীবনের সঠিক সময়ের হিসাব মেলাতে গিয়ে অনেকেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে খানিকটা দেরি করে ফেলেন। স্বনির্ভরতা ও স্বাধীনতা জীবনের বড় দুটি শক্তি হলেও, স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের দৃষ্টিকোণ থেকে বয়স বেড়ে গেলে কিছু প্রাকৃতির ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়। দেরিতে বিয়ের কারণে নারীদের জীবনে যেসব জটিলতা তৈরি হতে পারে, তা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. দাম্পত্য জীবনে মানিয়ে নেওয়া ও বোঝাপড়ার সংকট
দীর্ঘদিন ধরে স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করা এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়ার অভ্যাসের কারণে বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ব্যক্তিত্ব বেশ শক্ত হয়ে ওঠে। কর্মজীবী ও আর্থিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ নারীরা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের মতো করে জীবনের নিয়ম গুছিয়ে নেন। এরপর বেশি বয়সে বিয়ে করার পর নতুন পরিবার বা সঙ্গীর সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে অনেকেরই বেশ বেগ পেতে হয়।
- মতের অমিল: দুজন পরিণত মানুষ যখন নিজ নিজ অভ্যাসে প্রতিষ্ঠিত হয়ে একসঙ্গে পথ চলা শুরু করেন, তখন লাইফস্টাইল বা চিন্তাভাবনায় অমিল দেখা দিতে পারে।
- কলহ ও দূরত্ব: ছোটখাটো ছাড় দেওয়ার মানসিকতা কমে গেলে সংসারে পারস্পরিক অমিল থেকে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়, যা কখনো কখনো বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়ায়।
২. গর্ভধারণ ও মাতৃত্বকালীন শারীরিক জটিলতা
দেরিতে বিয়ের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীর ডিম্বাণুর কার্যকারিতা ও গুণগত মান স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়।
- প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস: বয়সের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা গর্ভধারণের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়।
- চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তি: যদিও আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের কল্যাণে আইভিএফ (IVF) বা ফ্রিজিংয়ের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে ডিম্বাণু সংরক্ষণ করা সম্ভব, তবুও স্বাভাবিক মাতৃত্বের তুলনায় এতে জটিলতা ও ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে।
৩. শারীরিক ঘনিষ্ঠতা ও সম্পর্কের সক্রিয়তা হ্রাস
একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবন বজায় রাখতে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের প্রভাব যৌন জীবনেও পড়ে।
- অনীহা ও শারীরিক ক্লান্তি: বয়স বেড়ে গেলে ধীরে ধীরে শারীরিক চাহিদায় ভাটা পড়তে পারে, যার ফলে সঙ্গীর চাহিদার সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হয়ে ওঠে।
- মেথড বা ঋতুবন্ধ (Menopause): অনেক নারীর ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সেই ঋতুবন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শারীরিকভাবে অনীহা তৈরি হতে পারে। তবে এটিই শেষ কথা নয়; উপযুক্ত কাউন্সেলিং ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই বয়সেও আনন্দময় যৌনজীবন বজায় রাখা সম্ভব।
জীবন নিয়ে প্রতিটি মানুষের চিন্তাভাবনা ও অগ্রাধিকার ভিন্ন। পারিপার্শ্বিক চাপ বা তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে, নিজের ভালো-মন্দ ও বুদ্ধিমত্তা কাজে লাগিয়েই বিয়ের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। দেরিতে বিয়ের যেমন কিছু জটিলতা বা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি পরিপক্বতা ও আর্থিক নিরাপত্তার দিক থেকে এর কিছু সুবিধা রয়েছে। তাই নিজের শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি বুঝে, সময় ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে বিজ্ঞতার পরিচয়।
