সৃজন পাঠচক্রে ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ ও ‘বৈষম্যের ধারণা’
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৬ এএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শিল্প সাহিত্য ও সমাজ-চিন্তার পত্রিকা ‘সৃজন’র উদ্যোগে সম্প্রতি বাংলা একাডেমির আল মাহমুদ লেখক কর্নারে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি পাঠচক্র। এতে উপস্থিত ছিলেন দেশের স্বনামধন্য কবি, লেখক ও সাহিত্য-সংস্কৃতিপ্রেমীরা।
আয়োজনটি দুই পর্বে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্বে ছিল কবি ও কথাসাহিত্যিক আহমেদ বাসারের ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থের পাঠ-পর্যালোচনা। দ্বিতীয় পর্বে ছিল কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনির ‘বৈষম্যের ধারণা’ বিষয়ে একক বক্তৃতা।
অনুষ্ঠানে বক্তাদের আলোচনায় উঠে এসেছে এ সময়ের অন্যতম সব্যসাচী লেখক আহমেদ বাসারের সাহিত্যশৈলীর নানামাত্রিক বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা। সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তিনি সমানভাবে সক্রিয়। এ পর্যন্ত তার ১৫টি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সৃজন থেকে ২০২৬ সালে প্রকাশিত হয়েছে তার কাব্যগ্রন্থ ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’। প্রকাশের পরই গ্রন্থটি কবিতাপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হয়েছে।
বইটি সম্পর্কে লেখক ও গবেষক অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক বলেন, আহমেদ বাসার আমার অন্যতম প্রিয় কবি। তার কাব্যগ্রন্থটি আমি মুগ্ধতা নিয়ে পড়েছি। বইটির নির্মাণশৈলী, অন্তমিল ও ভাষাভঙ্গি অভিনব।
কথাসাহিত্যিক সালেহা ফেরদৌস বলেন, ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থটির প্রতিটি কবিতাই চমকপ্রদ।
৬২টি কবিতা নিয়ে বইটি রচিত। বিভ্রম পাহাড়, আগুননদীর শিরদাঁড়া, সাড়া দাও প্রাচীন পাথর; তিনটি অংশে বইটি বিভক্ত।
‘বিভ্রম পাহাড়’ অংশে কবি তার জীবন, জগৎ, পরিপার্শ্বের দিকে তাকিয়ে যা অনুধাবন করেন; সেসব বিষয়ে লিখেছেন।
‘আগুননদীর শিরদাঁড়া’ অংশে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ এবং ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ অংশে প্রণয়ের তৃষ্ণা ও কামনাকে রেখেছেন। বিন্যাসটি আগাগোড়া চমৎকার হয়েছে। প্রতিটি কবিতাই মর্মে মর্মে অনুভব করার মতো।
সাহিত্যচর্চার পথ পরিক্রমা সম্পর্কে আহমেদ বাসার বলেন, ‘সাহিত্যে আমি ভিন্ন কোনো জীবনের সম্ভাবনা যাচাই করতে চাই। খুঁজতে চাই জীবনের অন্য কোনো মানে, অন্য কোনো তাৎপর্য। নতুনতর অধরা জীবনের ভাষাভঙ্গি নির্মাণের চেষ্টা করে যাচ্ছি এক জীবনে। জানি না কতটুকু পেরেছি। কবিতায় আমি কোনো যতিচিহ্ন ব্যবহার করি না, কারণ যতিচিহ্ন দিয়ে হয়তো ভাষাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় কিন্তু জীবনকে নয়। জীবন নিয়ত যতিচিহ্নের ঊর্ধ্বে, নিরন্তর আকস্মিকতায় পরিপূর্ণ।’
আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে লেখক, তাত্ত্বিক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম রনি ‘বৈষম্যের ধারণা’ বিষয়ে বুদ্ধিদীপ্ত ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, বৈষম্য দূর করার জন্য আমাদের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা—এ মৌলিক চাহিদাগুলোর অভাব দূর করতে হবে। ন্যাচারাল যে বৈষম্য, সেটা সমাজে থাকবেই কিন্তু আর্টিফিশিয়াল যে বৈষম্য; তা দূর করার উদ্যোগ নিতে হবে। সেটা সম্ভব হতে পারে ডিকমোডিফিকেশনের মাধ্যমে।
তিনি বলেন, এটা সম্ভব হতে পারে সমাজে শ্রেণিবৈষম্য দূরকরণ প্রক্রিয়ায়। সমাজে যদি একজন শিক্ষিত- অশিক্ষিত, ব্যারিস্টার-অব্যারিস্টার কিংবা রিকশাওয়ালা—সবার জন্য একই চিকিৎসাব্যবস্থা কিংবা মৌলিক বিষয়গুলো একই থাকে; তাহলে সমাজে বৈষম্য ৩০ শতাংশ কমে যাবে।
অনুষ্ঠানের শেষদিকে ‘সাড়া দাও প্রাচীন পাথর’ কাব্যগ্রন্থ থেকে কবিতা আবৃত্তি করেন ড. সোলায়মান কবির, খুরশিদ জাহান খুশবু, সম্পূর্ণা বিনতে যোবায়ের, আহনাত আহমেদ, প্রাঙ্গন বসাক, সুস্ময় বড়ুয়া এবং উম্মে আসমা।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল হক, অধ্যাপক ড. সেলিম আকন্দ, অধ্যাপক ড. রকিবুল হাসান, কবি ও চিন্তক রেজাউল করিম রনি, আকেল হায়দার, ড. শফিকুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মামুন সারওয়ার, জাহিদ হাসান, এস এম শুআইব, মো. যোবায়ের কবির, আলিয়া, মুশফিক, হ্যাভেন ইসলাম, বাবু বরকতুল্লাহ, রফিক লিটন, বহ্নি কুসুম, কাওসার সুলতানা, মিতুল খান, তৌহিদ আহাম্মেদ লিখন, ফরিদুল ইসলাম নির্জন, মো. মেহেদী হাসান, ড. সোলায়মান কবীর, উম্মে আসমা জুহী, খালিদা তালুকদার, শারমিন হক, শাহানা আক্তার, পমা বসাক, সূপর্ণা বিনতে যোবায়ের, খুরশীদ জাহান খুশবু, প্রাঙ্গন বসাক, সুস্ময় বড়ুয়া, তুলিকা বড়ুয়া, ফারহানা তানিয়া, আহনাত আহমেদ, শারমিন, ওয়াসী, প্রান্ত সাহা, শিরিন আখতার, মিজি জিনাত, মো. মিজানুর রহমান খান, মর্তুজা হাসান সৈকত, আহমেদ বাসার, সালেহা ফেরদৌস প্রমুখ।

