এবিসির বিশ্লেষণ
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়েও কি ক্ষমতায় থাকছেন নেতানিয়াহু?
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:২৩ পিএম
ভোটকেন্দ্রে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ইসরাইলের নির্বাচনে দুটি বিদ্রূপাত্মক বাস্তবতা সামনে এসেছে। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভোটার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। কিন্তু স্পষ্ট বিজয়ী না থাকায় আপাতত তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় থাকছেন তিনি।
অন্যদিকে, নির্বাচনী প্রচারে যাদের কণ্ঠ ও উদ্বেগ প্রায় উপেক্ষিত ছিল, সেই আরব ইসরাইলিরাই সরকার গঠনে নির্ধারক ভূমিকা নিতে পারেন। অথচ ইহুদি-প্রধান প্রধান দলগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের ক্ষমতার অংশীদার হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ সিদ্ধান্ত নেবেন, কোন দল বা জোট কার্যকর সরকার গঠন করতে পারবে বলে তিনি মনে করেন।
নেতানিয়াহুর জন্য এর অর্থ কী?
ইসরাইলের পার্লামেন্ট নেসেটে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৭টি আসন নিয়ে সবচেয়ে বড় দল হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১টি আসন পেতে ব্যর্থ হয়েছে তার জোট। ফলে সাবেক ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) প্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের কোনো একটি দলকে নিজের পক্ষে টানার চেষ্টা করতে পারেন নেতানিয়াহু।
এ ধরনের সমঝোতার সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে নেতানিয়াহুর সাবেক সহকর্মী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের নাম ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
প্রায় অর্ধেক ভোট গণনা শেষে বেনেটের ‘টুগেদার’ পার্টি ১১টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। দলটি নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিলে আসনসংখ্যা বেড়ে ৬১ হবে, যা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলো নির্বাচনী প্রচারের পুরো সময়জুড়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠন না করার অবস্থানে অনড় ছিল। যদিও আরব দলগুলোর নেতারা তাদের সঙ্গে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
নেতানিয়াহুবিরোধী শিবিরের আরেক নেতা আভিগদর লিবারম্যানও সংখ্যালঘু সরকার গঠনের ধারণাকে নাকচ করেছেন। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইসরাইলিদের আবার নির্বাচনে যাওয়া ভালো হবে।
নেতানিয়াহুর দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা অবশ্য জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে তার জোটের কোনো কোনো দল বা সদস্যকে নেতানিয়াহুর পক্ষ ত্যাগ করে আইজেনকোটের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সরকার গঠনের এসব আলোচনা ও দর-কষাকষি চলাকালে নেতানিয়াহুই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবেন। নতুন সরকার গঠনে কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস লেগে যেতে পারে। আর সরকার গঠন সম্ভব না হলে নতুন নির্বাচন আয়োজন না করা পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করবেন।
নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না
গত সপ্তাহজুড়ে ইসরাইলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, নেতানিয়াহু হয়তো ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু করতে পারেন অথবা প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গে সংঘাত আরও বাড়াতে পারেন।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ ধরনের উত্তেজনা সরকার গঠনের আলোচনা প্রভাবিত করতে পারে। কিংবা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির যুক্তি দেখিয়ে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের দাবি জোরালো হতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহুর ক্ষমতায় থাকার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে।
ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে পরাজিত হলেও ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা নিয়ে নেতানিয়াহু ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির এক কর্মকর্তা সংবাদপত্রটিকে বলেন, ‘ট্রাম্প চান, নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য ইসরাইলি সরকার গঠিত হোক।’
তবে বিষয়টি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে বলে এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নেতানিয়াহুবিরোধী দলগুলোর সামনে এখন নিজেদের মধ্যে সমঝোতা ও সহযোগিতার পথ খুঁজে বের করার বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার গঠনের সুযোগ তৈরি করতে হলে তাদের পারস্পরিক মতপার্থক্য কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজন হতে পারে।


