মিঠামইনে সড়ক নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া উচিত: ফরিদা আখতার
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ১০:১২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে, তাকে বলা হচ্ছে অল ওয়েদার সড়ক। কারণটা কি? পরে জানতে পারলাম, সব ঋতুতেই এই সড়ক সহনশীল। অথচ এই রাস্তা তৈরির মাধ্যমে ইতোমধ্যেই সেই এলাকার নিদারুণ ক্ষতি হয়ে গেছে। অনেক টাকা খরচ করে এই রাস্তাটা তৈরি করা অন্যায় হয়েছে। আমি মনে করি, এই রাস্তা নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিচার হওয়া দরকার।
শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনা নীতি ২০০৯: হাওড় অঞ্চলে বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এ আলোচনা সভার আয়োজন করে।
সভায় উপদেষ্টা বলেন, হাওড়ে কৃষিতে আগে স্থানীয় জাতের ধান হতো। সেটাতে এতো কীটনাশক সারের ওপর নির্ভরশীল ছিল না। কিন্তু এখন ওখানে আধুনিক জাতের চাষ করা হচ্ছে। আধুনিক জাতের চাষ করা মানেই হলো সার, কীটনাশক দেওয়া।
এমনকি ওই ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না বলে এসিআই কোম্পানি অল ইজ মেকানাইজড হারভেস্টার দিচ্ছে। ওটা চলা মানে হলো আমাদের মাছের একদম বারোটা বেজে যাবে।
ওখানে ও হারভেস্টার চলার কারণে মাটির ভেতরের সব (মাছ ও ডিম) কেটে একদম শেষ করে দেবে। এগুলো কিন্তু কোম্পানিগুলো নিয়ে আসছে। এগুলো কিন্তু আমাদের জন্য খুবই বিপজ্জনক।
আমি মনে করি, কোথায় গিয়ে আমরা কীটনাশক ব্যবহার করব, হাওড় এলাকায় কতখানি কীটনাশক ব্যবহার বেআইনি হবে বা প্রয়োজন, একেবারে না করলেই নয়, সেটা যেন করা হয়।
আমি মনে করি, এ রকম কিছু একটা নীতি থাকা উচিত। কারণ সব জায়গায় কীটনাশকের ব্যবহার সম্ভব না। একদিকে হয়তো আপনি ধান বেশি পাচ্ছেন, কিন্তু ওদিকে মাছ মরে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, হাওড়কে ঘিরে একটা বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তাই বলা হয় যে, সেখানকার ২৯ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। এখনো আমাদের প্রকৃত জেলেদের তালিকা করতে হচ্ছে! হাওড়ের মালিক মূলত কে?
আসলে হাওড়গুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে রয়েছে। সেখানে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। যদিও অধিকাংশ হাওড় এলাকা ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দিয়ে দেওয়া হয়েছে, যারা শুধু ইজারা দিয়ে এখান থেকে রাজস্ব আহরণ করে। তার পরিমাণও তেমন না।
এই কাজটা করতে গিয়ে অসংখ্য মানুষকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাওড়ে প্রকৃত জেলেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এখন হাওড় রক্ষার পদক্ষেপ হিসেবে যেটা নেওয়া যেতে পারে, তার মধ্যে একটি হলো বিভিন্ন এলাকাকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করা। যাতে হাওড়ের মাছগুলো রক্ষা পায়। এতে বিলুপ্ত হওয়া মাছগুলোও ফিরে আসতে পারে। সুতরাং জৈবিক ব্যবস্থাপনা হবে হাওড় রক্ষার একটা মূল পদক্ষেপ।
উপদেষ্টা বলেন, মাছ ধরার জন্য ইতোমধ্যেই আমরা কারেন্ট জাল বন্ধ করেছি। কিন্তু বর্তমানে চায়নাদুয়ারী নামক জালে মাছ ধরা হচ্ছে। এগুলো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। জাল হবে মৎস্যজীবীদের একটা উপকরণ, অথচ এই জালটা হয়ে গেছে এক অবৈধ জাল। সুতরাং আমার মতে, প্রকৃত জেলেরা এসব অবৈধ জাল ব্যবহার করে না। কিছু মৌসুমি মৎস্যজীবীরা এসব জাল ব্যবহার করে থাকে।
অনুষ্ঠানে হাওর অঞ্চলের ভুক্তভোগীরা হাওরকে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানান।
অনুষ্ঠানে ধরা’র আহ্বায়ক রাশেদা কে. চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
সদস্য সচিব শরীফ জামিলের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এবং জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, হাওর সংস্কৃতি অধ্যয়ন এবং গবেষণা অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সজল কান্তি সরকার, মানবাধিকার কর্মী জাকিয়া শিশির, হাওর উন্নয়ন আন্দোলনের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) নির্বাহী পরিচালক ড. এম মোখলেসুর রহমান প্রমুখ।
