Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

বিনিয়োগনির্ভর উৎপাদন ও কর্মসংস্থানই বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চাবিকাঠি: তিতুমীর

প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। ফাইল ছবি

Advertisement

বাংলাদেশের পরবর্তী প্রবৃদ্ধির ধাপে দেশীয় বাস্তবতা এবং পরিবর্তিত বৈশ্বিক ভূ-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বিনিয়োগনির্ভর উন্নয়ন মডেল অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। 

শুক্রবার (২৪ জুলাই) বেঙ্গল ডেল্টা কনফারেন্স ২০২৬ (বিডিসি ২০২৬)-এর এক অধিবেশনে তিনি বলেন, আমাদের এমন একটি মডেল অনুসরণ করতে হবে, যেখানে বিনিয়োগ উৎপাদনের পথ তৈরি করবে, উৎপাদন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, কর্মসংস্থান করের হার না বাড়িয়েই রাজস্ব বৃদ্ধি করবে এবং সেই রাজস্ব শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ব্যয় করা হবে।

লন্ডনের এসওএএস ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের অর্থনীতির অধ্যাপক মুশতাক খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে ড. তিতুমীর সরকারের অর্থনৈতিক কৌশল তুলে ধরেন। 

‘বাংলাদেশ অ্যান্ড এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড: আনচার্টেড টাইমস, ইমার্জিং অর্ডারস অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব কেয়ার’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে তিনি বলেন, সরকার ধাপে ধাপে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে ব্যয় বাড়িয়ে একটি গণতান্ত্রিক কল্যাণরাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। 

তিনি জানান, অর্থনৈতিক ধাক্কার সময় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী যাতে দারিদ্র্যের মধ্যে না পড়ে, সে জন্য সার্বজনীন জীবনচক্রভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের বিষয়ে ড. তিতুমীর বলেন, দক্ষতা উন্নয়ন, নাগরিক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত একটি জাতীয় স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। 

সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের সংস্কার কর্মসূচির মূল ভিত্তি হলো বৈধতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা। তার ভাষায়, যদি একটি সরকারের বৈধতা থাকে, তবে জবাবদিহিও থাকে। সেবাদান মানেই বৈধতা, সেবাদান মানেই জবাবদিহি এবং সেবাদান মানেই স্বচ্ছতা।

ড. তিতুমীর বলেন, বর্তমান সরকার একটি নাজুক আর্থিক পরিস্থিতি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তবে সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সরকারের ওপর রূপান্তরমূলক সংস্কার বাস্তবায়নের দায়িত্বও বেড়েছে।

রাজস্ব আহরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, করের হার বাড়ানোর পরিবর্তে সরকার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তার মতে, দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত দুটি বিষয়—প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং দুর্নীতি, ভাড়া-অন্বেষণ (রেন্ট-সিকিং) ও কর অব্যাহতির মতো ‘ত্রুটির উপাদান’—এখন সরকারের বিশেষ নজরে রয়েছে।

তিনি বলেন, রাজস্ব ফাঁকফোকর কমানো এবং আইন প্রয়োগ জোরদারের ফলে ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস উল্লেখযোগ্য রাজস্ব অবদান রেখেছে। রাজস্ব আদায় আরও শক্তিশালী করতে তিনটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।

তবে কর ফাঁকি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে সরকার এখনও সক্ষম নয় বলে স্বীকার করেন ড. তিতুমীর। তিনি বলেন, আমরা এখনও কর ফাঁকি মোকাবিলায় পুরোপুরি সক্ষম নই। এর জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।

আর্থিক খাত সম্পর্কে তিনি বলেন, খেলাপি ঋণ ও ব্যাংক পুনঃমূলধনীকরণসহ দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে সরকার কাজ করছে। আমরা কোনো বিষয় আড়াল করছি না। সমস্যাগুলো সম্পর্কে আমরা অবগত এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করছি।

স্ট্যাচুটরি রেগুলেটরি অর্ডার (এসআরও) প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, অতীতে এসআরওকে ‘নিলাম বাজারে’ পরিণত করা হয়েছিল, যেখানে প্রভাবশালীরা বিশেষ সুবিধা পেতেন। সরকার সেই সংস্কৃতি বন্ধে কাজ করছে। 

তিনি বলেন, যদি আপনি প্রভাবশালী হন, তাহলে একটি এসআরও জারি করিয়ে সব ধরনের সুবিধা পেয়ে যেতেন। এসব ইচ্ছামাফিক কর-ছাড় আমরা পর্যালোচনা করছি এবং নিশ্চিত করছি যাতে এই এসআরও সংস্কৃতি আর না থাকে।

তিনি আরও বলেন, কর আরোপ ও সরকারি অর্থ ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নির্বাহী বিভাগের পরিবর্তে সংসদের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। কোথা থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হবে এবং কোথায় ব্যয় করা হবে, তা সার্বভৌম সংসদই নির্ধারণ করবে। এটিই সরকারের সংস্কারের মূল ভিত্তি।

শিল্পায়নকে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, দীর্ঘদিন পর বাংলাদেশে আবার শিল্পনীতি নিয়ে কার্যকর আলোচনা শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে শিল্পনীতি ফিরে এসেছে। উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ—২০২৯ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের আগে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সরকারের সংস্কার কর্মসূচি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করে ড. তিতুমীর বলেন, চলতি অর্থবছরেই এর প্রাথমিক সুফল পাওয়া যাবে। আমরা আশা করছি, বাংলাদেশকে নিয়ে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, তা বাস্তবায়ন করতে পারব। 

বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপের প্রসঙ্গে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশকে প্রায় ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে, যদিও এসব সংকট সৃষ্টিতে দেশের কোনো ভূমিকা ছিল না।

তিনি বলেন, যে সংকট আমাদের সৃষ্টি নয়, তার জন্যই আমাদের ৩ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষি ও ভোক্তাদের জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে সরকারকে আর্থিক ভারসাম্যও রক্ষা করতে হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংস্কারের তাগিদ

ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডে দারিদ্র্য কমতে পারে ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংস্কারের তাগিদ

বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য: ড. তিতুমীর

বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামোর সংস্কার অপরিহার্য: ড. তিতুমীর

জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর

জ্বালানি সংকট ১৭ বছরের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া: তিতুমীর

জানুয়ারি থেকে শিক্ষা সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার পৃথক ক্যালেন্ডার: উপদেষ্টা তিতুমীর

জানুয়ারি থেকে শিক্ষা সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার পৃথক ক্যালেন্ডার: উপদেষ্টা তিতুমীর

তেজগাঁও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

তেজগাঁও কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা

এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

এলডিসি উত্তরণ ও এসডিজি বাস্তবায়নে জাতিসংঘের জোরালো সহযোগিতা চাইলেন উপদেষ্টা তিতুমীর

আরও পড়ুন

৭ রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে

৭ রোগে আক্রান্তদের এক লাখ টাকা করে দেবে সরকার, আবেদন যেভাবে

নামজারির নতুন নিয়মে যেসব পরিবর্তন, অনলাইনে করবেন যেভাবে

নামজারির নতুন নিয়মে যেসব পরিবর্তন, অনলাইনে করবেন যেভাবে

ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

ফুটপাত পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

অধ্যাদেশ জারি সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ ভাঙচুর ও চুরির কী শাস্তি

সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ ভাঙচুর ও চুরির কী শাস্তি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম