Logo
Logo
×
   

জাতীয়

যে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ফারুকী

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

যে কারণে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন ফারুকী

ফাইল ছবি

বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর না বুঝলে বিগত ষোলো বছরের ডিএনএ চেনা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। তার পোস্টটি যুগান্তরের পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো। 

‘রাঁধুনির খুঁতখুঁতানি আকারে কয়টা কথা বলতে চাই। তার আগে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। এই যাদুঘর ওপেন হওয়ার পেছনে তার ব‍্যক্তিগত কমিটমেন্ট ছিল ২০০ ভাগ। পাশাপাশি বর্তমান সরকারের কয়েকজন সিনিয়র এবং ইয়াং সদস্যের ভূমিকাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে চাই। 

এবার খুঁতখুঁতানি।

১. জুলাই যাদুঘর এমন একটা মিউজিয়াম যেখানে মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনার ইজ আ মাস্ট। আমরা কনটেন্ট পরিকল্পনা এমন ভাবে করেছি যেখানে কন্টেন্ট কিছু কথা বলবে আর এক্সপ্লেইনার তার স্টোরিটেলিংয়ে এটার ইমোশনাল লেয়ারটা তৈরি করবে। এবং সেই এক্সপ্লেইনিংটা জাস্ট কিছু তথ্য দেওয়ার মতো হইলে হবে না। ঐ বলাটাও একটা আর্ট হইতে হবে। এবং তখনই দর্শক একটা পরিপূর্ণ ইমারসিভ অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে যাবে। দুঃখের কথা হলো এখনও এক্সপ্লেইনার নিয়োগ হয়নি। এটা দ্রুত করার আহ্বান জানাই। 

এই জিনিসটা এতোই গুরুত্বপূর্ণ যে আগে সব ভিআইপি ট‍্যুরের সময় আমি নিজেই এক্সপ্লেইনারের কাজ করতাম। 

২. একটা সিনেমা যেমন আপনি চাইলে যে কোনো জায়গা থেকে দেখা শুরু করতে পারেন না। এই মিউজিয়াম অ‍্যাবসলিউটলি সেরকম। একাত্তর থেকে শুরু করে বাহাত্তর-পঁচাত্তর হয়ে-জিয়াউর রহমানের আমল-এরশাদের স্বৈরশাসন-খালেদা জিয়ার মাধ্যমে গণতন্ত্রে ফিরে আসা-ওয়ান ইলেভেন। এই অংশটার নাম লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি। এই ধাপগুলো পার হয়ে ১৬ বছরের গল্পে ঢুকবে দর্শক। 

কিন্তু আজকে যখন দেখলাম প্রধানমন্ত্রীকে ঐ অংশ বাদ দিয়ে মাঝখান থেকে দেখানো হচ্ছে আমার হার্টব্রেক হচ্ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত হইছে মিউজিয়াম এক্সপ্লেইনারের ইস্যুটা। 

ইয়েস, আই নো ওগুলো ছাড়াও এটা স্টিল পাওয়ারফুল। কিন্তু রাঁধুনিতো চায় মানুষ সেরা স্বাদটাই পাক। 

শেষে অবশ্য আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি আরেকবার সময়ে করে প্রপার গাইডেড ট্যুর করতে। এটা বলেছি এই জন্য যাতে উনি বুঝতে পারেন এই মিউজিয়ামের পটেনশিয়াল কেবল জুলাই বা ষোলো বছরের ইতিহাস না। এটা আরও বড় কাজ করতে পারে। হয়ে উঠতে পারে বাংলাদেশের কয়েকশ বছরের রাজনীতি-সংস্কৃতি-ইতিহাসের কেন্দ্র। এবং সেটা কোনো বোরিং ওয়েতে না। 

৩. আমি আশা করেছিলাম ‘বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর’, ‘ফ‍্যাসিজমের কালে সাংবাদিকতা’, ‘জুলাইয়ে প্রবাসী’, এবং ‘জুলাইয়ের আত্মা মফস্বল’- এই সেগমেন্টগুলো আলাদা সেকশন হিসাবে রেডি হয়ে যাবে। এগুলো এখনও আছে মিউজিয়ামে তবে ইনডিপেনডেন্ট সেকশন হিসাবে না। আজকে যেটা বুঝলাম এই কয় মাস আসলে নানাবিধ কারণে কিউরেশন টিম কাজ করতে পারে নাই। আশা করি নেক্সট নিউ সেকশন এগুলো হবে। কারণ বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর না বুঝলে বিগত ষোলো বছরের ডিএনএ চেনা যাবে না। 

৪. এই যাদুঘরের রসদ সংগ্রহে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছে এবং নানা ভাবে সহযোগিতা করেছে বহু মানুষ, বহু প্লাটফর্ম। তাদের অনেককেই শুনলাম দাওয়াত দেওয়া হয় নাই। ওদের এই সম্মানটা জানানো খুব দরকার ছিল।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম

We use cookies to improve your browsing experience. By using the site, you agree to our Privacy Policy .