Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ঠিক কী হচ্ছে?

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট ২০২৬, ১২:২১ এএম

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ঠিক কী হচ্ছে?

ফাইল ছবি

Advertisement

বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই বিতর্ক, বিক্ষোভ আর আলোচনা চলছে। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে চলে যাচ্ছে, মূলত এমন ইস্যুতে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।

এমন খবরের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মিছিলও করে শিক্ষার্থীরা।

যদিও এরইমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি। খবর বিবিসি বাংলার। 

কিন্তু, প্রশ্ন হলো, এই বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ’র কমিটিতে কারা থাকেন? অথবা স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিতেই বা কারা থাকেন? কীভাবে তারা শিক্ষক নিয়োগ করে থাকে? 

ঠিক কী পরিবর্তনের কথা আসছে? শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক কেন হচ্ছে? 

এনটিআরসিএ’র কাছে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা কবে গেল?

স্বাধীনতার পর থেকে ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটি অথবা গভর্নিং বডির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হতো। 

শিক্ষার সার্বিক মানোন্নয়নের জন্য যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেয়ার লক্ষ্যে ২০০৫ সালে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ নামে সরকারি এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার জন্য এই প্রতিষ্ঠানকেই শিক্ষকদের তালিকা প্রণয়ন, নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের দায়িত্ব দেয়া হয়।

পরের বছরই ‘বেসরকারি শিক্ষক পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা ২০০৬’ প্রণয়ন করে তৎকালীন বিএনপি সরকার।

শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে এনটিআরসিএ যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা তৈরি করে নিবন্ধন ও প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে। 

আর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ লাভের জন্য প্রার্থীদের যোগ্যতার বাধ্যতামূলক মানদণ্ড হিসেবে এনটিআরসিএ’র দেওয়া এই প্রত্যয়নপত্রই বিবেচিত হয়। 

একইসঙ্গে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজমেন্ট কমিটি অথবা গভর্নিং বডি প্রয়োজনীয় পরীক্ষা শেষে যোগ্য শিক্ষকদের নিয়োগ দিতো।

শিক্ষক নিয়োগের নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে এনটিআরসিএ’র ১২ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাহী বোর্ড।

সরকারি এই সংস্থাটির বোর্ডে পদাধিকারবলে আটজন সদস্য হন। এর মধ্যে সংস্থাটির চেয়ারম্যান এবং তিনজন সদস্য রয়েছেন।

বাকি চার জনের মধ্যে মাউশি বা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদাধিকারবলে এনটিআরসিএ’র নির্বাহী বোর্ডের সদস্য।

এছাড়া বারো সদস্যের এই বোর্ডে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি, অর্থ বিভাগের একজন প্রতিনিধিও থাকেন। একইসঙ্গে, আরো দুইজন মনোনীত সদস্য থাকেন।

এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মনোনীত শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটের একজন অধ্যাপক এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একজন অধ্যাপককে সদস্য হিসেবে এনটিআরসিএ’র এই নির্বাহী বোর্ডে মনোনীত করেন উপাচার্য।

এই বোর্ডই শিক্ষক নিয়োগের জন্য চার সদস্যের একাধিক কমিটি গঠন করে দেয়।

অন্যদিকে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানভেদে ম্যানেজমেন্ট কমিটি অথবা গভর্নিং বডি পৃথক হয় বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং বেসরকারি একটি কলেজের সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন খান।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি ডিগ্রি কলেজের সভাপতি তিনি। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যই তাকে মনোনীত করেছেন। 

শিহাব উদ্দিন খান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, বিদ্যোৎসাহী ব্যক্তি, দাতা, শিক্ষক প্রতিনিধি, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোনীত প্রতিনিধিসহ ১২ বা ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি হয়।

২০১৭ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হতে হলে একজন প্রার্থীকে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক এই তিনটি পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।

এদিকে, ২০১৫ সালের আগে পর্যন্ত স্কুল ম্যানেজিং কমিটির হাতেই বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল।

কিন্তু একপর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মসহ নানা ধরনের অভিযোগ ওঠে।

এমন প্রেক্ষাপটেই নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন ছাড়াও শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশও এনটিআরসিএ করবে, ২০১৫ সালে সরকার এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানান এনটিআরসিএ’র নির্বাহী বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক মো. আবদুল হালিম।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে এই বোর্ডের সদস্য হন।

ওই বছরের ৩০শে ডিসেম্বর ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে অনুসরণীয় পদ্ধতি’ বিষয়ক পরিপত্র জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

একইসঙ্গে, নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের সনদ বা সার্টিফিকেটের মেয়াদ তিন বছর হবে সেটিও নির্ধারণ করা হয়।

সরকারের সিদ্ধান্তের কারণে ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত এনটিআরসিএ’র তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত পরীক্ষা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

তবে, কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদে নিয়োগ স্কুল ম্যানেজমেন্ট বা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমেই হয়ে আসছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং কর্মচারী পদেও এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়ার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। একটা পরীক্ষাও নেওয়া হয়। 

অধ্যাপক হালিম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে অধ্যক্ষসহ এমন নিয়োগের জন্য এনটিআরসিএ’কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। খুব সম্ভবত একটা পরীক্ষাও হয়। 

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক কেন?

এনটিআরসিএ’র সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে গত তেসরা আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভারই একটি কার্যবিবরণী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনা শুরু হয়। 

বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে ওই কার্যবিবরণীর কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এখন থেকে এনটিআরসিএ কেবল নিবন্ধন ও প্রত্যয়নের কাজ করবে। ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী আর নিয়োগের জন্য সুপারিশ করবে না এনটিআরসিএ।

আবার আগের মতো স্কুল পরিচালনা কমিটির হাতেই চলে যাচ্ছে এই নিয়োগের ক্ষমতা।

এমন খবরের পর রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা।

এরই প্রেক্ষিতে, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতেই শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের ফেসবুক পেইজে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়নি বলে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। 

মঙ্গলবারও ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। 

তিনি সমালোচনা করে বলেন, বুঝেও আন্দোলন না বুঝেও আন্দোলন। সারাদিন এসএসসির রেজাল্টের ব্যস্ততায় গেল, বিকেলেই শুনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নিয়ে আন্দোলন করছে।

তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের বৈঠকের যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, সেই পাতার শেষেই লেখা আছে, ওই সিদ্ধান্ত সংশোধন করে মন্ত্রী অনুমোদন করার পরেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ে মিটিং হয়েছে, রেজুলেশন হয়েছে, সিদ্ধান্ত দিবে মাননীয় মন্ত্রী। মিটিংয়ের আলোচনাগুলো আমার টেবিলে আসার আগেই আলোচনাগুলো নিয়েই কথা হচ্ছে। কিন্তু নিচে লেখা আছে, মাননীয় মন্ত্রী সংশোধন করত: অনুমোদন দেওয়ার পর প্রজ্ঞাপন দেওয়া হবে। 

তবে এই বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত হতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি কোনো আভাস দেননি।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: ভাইভার তারিখ ঘোষণা, যেসব কাগজপত্র লাগবে

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগ: ভাইভার তারিখ ঘোষণা, যেসব কাগজপত্র লাগবে

১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কবে

১৯তম নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি কবে

এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ, বহাল আগের নিয়ম

এনটিআরসিএর মাধ্যমেই শিক্ষক নিয়োগ, বহাল আগের নিয়ম

শিক্ষক নিয়োগে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর

শিক্ষক নিয়োগে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্তদের জন্য সুখবর

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ বহালের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ

বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগে এনটিআরসিএ বহালের দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

শিক্ষক নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটিকে ক্ষমতা দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

আরও পড়ুন

যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে আজ

যেসব অঞ্চলে বৃষ্টি হতে পারে আজ

ভারতের হাসপাতালে বাংলাদেশির লাশ ৮ দিন আটকে রাখার অভিযোগ

ভারতের হাসপাতালে বাংলাদেশির লাশ ৮ দিন আটকে রাখার অভিযোগ

সেনাপ্রধানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের সাক্ষাৎ

সেনাপ্রধানের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া সেনাবাহিনীর উপপ্রধানের সাক্ষাৎ

শিল্পকলায় অনিয়ম-অভিযোগ নিয়ে নাট্যকর্মীদের ক্ষোভ

শিল্পকলায় অনিয়ম-অভিযোগ নিয়ে নাট্যকর্মীদের ক্ষোভ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম