Logo
Logo
×
   

জাতীয়

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন

আগস্টে মব সহিংসতায় নিহত ২৮, নির্যাতনের শিকার ২৪৯ নারী ও শিশু

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

আগস্টে মব সহিংসতায় নিহত ২৮, নির্যাতনের শিকার ২৪৯ নারী ও শিশু

হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগস্ট মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির এ তথ্য জানান।

চলতি বছরের আগস্ট মাসে সারাদেশে ৭০টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৭ জন নিহত এবং ৫৩৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার বড় অংশ ঘটেছে দলীয় কোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, রাজনৈতিক বিরোধ, হামলা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে। একই সময়ে ৫৩টি মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ২৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬২ জন।

সোমবার হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগস্ট মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতির এ তথ্য জানান। 

সংস্থাটির হিসাবে, জুলাইয়ের তুলনায় আগস্টে রাজনৈতিক সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা বেড়েছে। জুলাইয়ে ৪৫টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৬ জন নিহত ও ১৬৪ জন আহত হয়েছিলেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগস্টে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ২০টি ঘটনায় ৫ জন নিহত ও অন্তত ১৫২ জন আহত হয়েছেন।  

বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে ১৮টি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২৩৩ জন আহত হয়েছেন। 

বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ৭টি সংঘর্ষে ১ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছেন। 

বিএনপি-এনসিপির মধ্যে ৬টি ঘটনায় ১৬ জন এবং বিএনপি ও অন্যান্য দলের মধ্যে ১০টি ঘটনায় ৩৮ জন আহত হয়েছেন। 

বিভিন্ন দলের মধ্যে আরও ৯টি ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭১ জন। 

নিহত ৭ জনের মধ্যে বিএনপির ৫ জন, আওয়ামী লীগের ১ জন ও জামায়াতের ১ জন।

ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষও উদ্বেগজনক ছিল। আগস্টে এ ধরনের অন্তত ১৩টি ঘটনায় ২১৬ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদল-শিবিরের সংঘর্ষের ৮টি ঘটনায় ১৮১ জন এবং ছাত্রদল, অন্যান্য ছাত্রসংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৫টি ঘটনায় ৩৫ জন আহত হন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক সহিংসতার পাশাপাশি ১৯টি ঘটনায় অর্ধশতাধিক বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা, লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরায় প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষে অন্তত ৯ জন আহত হয়েছেন। 

আগস্টে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ৬২টির বেশি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ১ হাজার ১২৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও প্রায় ২ হাজার ২০৯ জনকে। 

একই মাসে রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনায় মোট ১৬২টি ঘটনায় ১২ হাজার ৮২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের অন্তত ৪২৯ জন, বিএনপির ২২ জন, জামায়াতের ৪ জন, এনসিপির ৯ জন এবং উগ্রপন্থি সংগঠনের ৫ জন সদস্য রয়েছেন।

মব সহিংসতার বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, বাকবিতণ্ডা, আধিপত্য বিস্তার ও ধর্মীয় অবমাননাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৫৩টি গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৬২ জন আহত হয়েছেন।

সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্রও উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছে এইচআরএসএস। আগস্টে ৩২টি ঘটনায় ৪৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৬ জন আহত, ৬ জন লাঞ্ছিত, ৭ জন হুমকির শিকার এবং ৫ জন আটক হয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের জেরে একটি মামলায় একজন সাংবাদিককে অভিযুক্ত করা হয়েছে। 

এদিকে আগস্টে ২৪৯ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন অন্তত ৭৯ জন, যাদের ৪৬ জনই ১৮ বছরের কম বয়সি। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ জন। যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন ৯৩ জন নারী ও কন্যাশিশু। পারিবারিক সহিংসতায় ৪৯ জন নারী নিহত, ৩১ জন আহত এবং ২৩ জন আত্মহত্যা করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগস্টে ৮৪টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাবে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন অন্তত ৬৩ শ্রমিক।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সংস্থাটি। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে বিএসএফের হামলায় ২ জন নিহত ও ১ জন আহত হয়েছেন। সীমান্ত এলাকা থেকে ৫ জন আটক এবং বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৫ জনকে পুশইন করা হয়েছে। আরও ১৮ জনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে একজন বাংলাদেশি যুবক নিহত ও একজন আহত হয়েছেন।

সার্বিক বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, আগস্টে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি সংবেদনশীল ও উদ্বেগজনক পর্যায়ে ছিল। রাজনৈতিক সহিংসতা, ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ, মব সহিংসতা, সাংবাদিক নির্যাতন, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। 

এ সময় মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকারকে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম