Logo
Logo
×
   

জাতীয়

অর্থনীতির সাংবাদিক ফারুক মেহেদীর এবারের প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:২৪ এএম

অর্থনীতির সাংবাদিক ফারুক মেহেদীর এবারের প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’

মহাত্মা গান্ধির নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে ‘শান্তির অগ্রদূত’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছেন ফারুক মেহেদী।

তিনি কাজ করেন অর্থনীতি নিয়ে। অর্থনীতির সংকট, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন সূচকের উত্থান-পতনই তার লেখার উপজীব্য। বিশেষ করে হার্ড রিপোটিং। একটি অর্থনীতি দুই দশকে কীভাবে রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে-এসব বিষয়ে প্রচুর প্রতিবেদন লিখেছেন। 

দুর্নীতি, কর ফাঁকি, ঋণ খেলাপি, মুদ্রা পাচার, জালিয়াতিসহ অসংখ্য বিষয় যেভাবে অর্থনীতির আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে; কীভাবে এসবের দুষ্টচক্র অর্থনীতির স্বাভাবিক গতিপথ রুদ্ধ করে একে ফোকলা করে তুলে, কারা এর পেছনে-এরকম নানান বিষয়ে অসংখ্য লিড নিউজ করেছেন। বলা যায়, তিনি অর্থনীতি খাতের একজন পুরোদস্তুর পেশাদার সাংবাদিক। নাম তার মোহাম্মদ ফারুক আহাম্মদ। যিনি সাংবাদিকতা ও লেখালেখিতে ফারুক মেহেদী নামেই অধিক পরিচিত। 

একজন পেশাদার সাংবাদিকের বাইরে তার আরেক পরিচয় তিনি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা। অর্থনীতির জটিল সমীকরণ মেলানোর আড়ালে তিনি মাঝে মধ্যে সমসাময়িক ও অনেক সংবাদভিত্তিক সিরিয়াস বিষয়ে প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেও দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়েছেন। বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম, হাসন রাজার জীবন ও কর্ম নিয়ে এবং একটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী দম্পতির জীবন সংগ্রাম নিয়ে আলোচিত প্রামান্যচিত্রের পর এখন তিনি মহাত্মা গান্ধির বাংলাদেশে অবস্থান, তার অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক কর্মকান্ড নিয়ে ‘শান্তির অগ্রদূত’ নামে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করছেন। 

মহাত্মা গান্ধি দক্ষিণ আফ্রিকা কিংবা ভারতে মানুষের অধিকার আদায়ে কাজ করলেও বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় নোয়াখালীতে সফর করেন। এখানে তিনি গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষে মানুষে অহিংসা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেন। ওই সময় তার এ সাহসী ভূমিকা বাংলাদেশের সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে দাঙ্গা ও হানাহানি বন্ধ করে ঐক্য ও ভালোবাসার পরিবেশ তৈরিতে বেশ ভূমিকা রেখেছিল। 

ফারুক মেহেদী তার ওই প্রামাণ্যচিত্রে মহাত্মা গান্ধির অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এক নজিরবিহীন আন্দোলনের ইতিবাচক দিকটিই তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। 

বাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির দেশ। ধর্ম এখানে মানুষে মানুষে হানাহানি ও কাটাকাটির বড় কারণ হয়ে উঠেনি কখনোই। মাঝে মাঝে কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থে এখানে ধর্মীয় উত্তেজনা উসকে দেয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেছে হয়তো; কিন্তু এটি বাংলাদেশের আসল চিত্র নয়। 

বাংলাদেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবেই শান্তিপ্রিয় এবং অসাম্প্রদায়িক। মহাত্মা গান্ধি হয়তো একটি চরিত্র। তিনি সারাবিশ্বে অহিংস আন্দোলনের যে অভিনব উদাহরণ তৈরি করে গেছেন, এ সময়ের পরাশক্তিগুলোর বৈশ্বিক যুদ্ধংদেহী মনোভাবের মধ্যে তা সবার জন্য অনুকরণীয়। বিশ্বকে বিভাজনের চক্র থেকে বের করে আনার ক্ষেত্রে মহাত্মা গান্ধির দৃষ্টিভঙ্গী যদি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেয়া যায়, তবে মানুষে মানুষে, ধর্মে ধর্মে যে ঐক্যের শান্তিপূর্ণ মেলবন্ধন হতে পারে-এটিই প্রামাণ্যচিত্রটির মূল কথা।

এর আগে ফারুক মেহেদীর বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিমের জীবন ও কর্ম নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘শিকড়’ এর মূল বক্তব্যও ছিল অসাম্প্রদায়িক চেতনা। 

শাহ আবদুল করিম তার অসংখ্য গানে ও গীতি কবিতায় ধর্ম-বর্ণহীন অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন জীবনভর। মহাত্মা গান্ধির নোয়াখালী সফরকে ঘিরে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটিও একই মূল্যবোধের আরেক সৃজনশীল আখ্যান বলেই মনে করা হচ্ছে। 

ফারুক মেহেদী জানান, তিনি মূলত দেশে ধর্মকে কেন্দ্র করে মানুষে মানুষে যেন কোনো হিংসা, ঘৃণা কিংবা হানাহানির সংস্কৃতি তৈরি না হয় সেই বার্তা ছড়িয়ে দিতেই এটি নির্মাণ করেছেন। 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে একটি রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখানে বেসরকারি খাত দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে আসছে। কিন্তু কখনো কখনো ধর্মের নাম জড়িয়ে কেউ কেউ অসাম্প্রদায়িক চেতনা নষ্ট করতে চায়। যার পরিণাম হয় সংঘাত, হানাহানি আর দেশকে পিছিয়ে দেয়ার দূরভিসন্ধি। 

ফারুক মেহেদী মনে করেন, মহাত্মা গান্ধির অহিংস ও অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘শান্তির অগ্রদূত’ সব ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি ও পেশার মানুষের ভেতরে একটি অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ জাগিয়ে দিতে সহায়তা করবে। 

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম