Logo
Logo
×
   

জাতীয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি নিয়ে যে বার্তা দিলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটি নিয়ে যে বার্তা দিলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির

আলোচিত চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গঠিত তদন্ত কমিটির চিঠিতে নিজের নাম নেই বলে দাবি করেছেন আলোচিত চিকিৎসক ডা. জাহাঙ্গীর কবির। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এই চিকিৎসক। 

ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের দাবি, যে অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানেও তার নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগগুলোর জবাব ইতোমধ্যে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলে (বিএমডিসি) দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

রোববার এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন ডা. জাহাঙ্গীর কবির।

তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে ৩ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তদন্ত কমিটি গঠনের সংক্রান্ত চিঠিতে আমার নাম কোথাও উল্লেখ নেই। একইভাবে আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত কোনো অভিযোগ, তথ্য বা উপাত্তও সেখানে নেই।’

ডা. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, যে অভিযোগের চিঠির সূত্র ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, সেখানেও সরাসরি  আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ইন্দ্রজিত প্রসাদ এবং একই বিভাগের কর্মরত চিকিৎসকেরা বিএমডিসির কাছে যে অভিযোগ করেছিলেন, সেখানেও আমার নাম উল্লেখ নেই।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি সবাইকে একটু বলতে চাই, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে সংবাদ আসছে, সেখানে কাইন্ডলি আপনারা আমার নামটা তুলে দিলেন—এটা কি ঠিক হলো? অথচ চিঠিতে নাম এসেছে হেলথ রেভল্যুশনের।’

অভিযোগগুলোর বিষয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো দেওয়া হয়েছে, এটার সঠিক জবাব আমরা বিএমডিসিতে পাঠিয়েছি। যে চিঠিটা এসেছে, সেটার জবাবও আমরা দিয়েছি। আমরা আশা করব, তদন্ত কমিটি তদন্ত করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে।’

অভিযোগের বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মূলত চারটি অবজেকশন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে একটি অভিযোগ হলো, সংশ্লিষ্ট রোগীর সব ওষুধ ও ইনসুলিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। 

তবে তাদের নিজস্ব তদন্তে রোগী ইনসুলিন নিতেন—এমন কোনো প্রেসক্রিপশন পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

ডা. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘যে প্রেসক্রিপশন রোগী দেখিয়েছেন, সেটা শুধু ডায়াবেটিসের ওষুধ ছিল। আর আমার যে ডাক্তার ওই রোগীকে দেখেছেন, তিনি প্রেসক্রিপশনে থাকা ডায়াবেটিসের ওষুধই দিয়েছেন। অতএব ওষুধ, ইনসুলিন সবকিছু বন্ধ করা হয়েছে—যে অভিযোগে আছে, আমরা এটার কোনো সত্যতা পাই না।’

রোগীকে কিটো ডায়েট দেওয়া হয়েছিল—এমন অভিযোগের বিষয়েও তিনি আপত্তি জানান। তার দাবি, ‘আমরা দেখলাম যে তাকে ভাত দেওয়া হয়েছে, তাকে ডিম দেওয়া হয়েছে, তাকে ডাবের পানি দেওয়া হয়েছে এবং তাকে বাদাম দেওয়া হয়েছে। সবকিছুই তো বলা আছে। এখানে তাকে শর্করাবিহীন কোনো খাবার দেওয়া হয়েছে—এই মর্মেও আমরা কোনো সত্যতা পাই না।’

উচ্চমূল্যের অপ্রয়োজনীয় ও অননুমোদিত সাপ্লিমেন্ট দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশীয় যে কোম্পানিগুলো আছে, সেখানে যে ভিটামিন ডি, প্রোবায়োটিকস—এগুলোই তাকে দেওয়া হয়েছে। সে প্রেসক্রিপশনগুলোও আছে।’

অস্বাস্থ্যকর চর্বি দেওয়ার অভিযোগও নাকচ করে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘তাকে অস্বাস্থ্যকর কোনো চর্বি দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি তদন্ত কমিটি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবেন এবং সত্যটাকে জাতির সামনে উন্মোচন করবেন।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিএমডিসির নথিতে নিজের নাম না থাকার বিষয়টি আবারও তুলে ধরে ডা. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, ‘হেলথ রেভল্যুশনের নাম এসেছে। এখানে কোথাও আমার নাম উল্লেখ করা হয়নি। কিন্তু সংবাদমাধ্যমে আমি দেখলাম, সেখানে আসলে আমার নামটাকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’

এভাবে তাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যারা এইভাবে দিয়েছেন যে ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের হেলথ রেভল্যুশন- আমার মনে হয় তারা সঠিকভাবে সংবাদটা পরিবেশন করেছেন।’

নিজের কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি তো দেশের জন্য কাজ করছি, মানুষের সুস্থতার জন্য কাজ করছি। এটা কি আমার প্রাপ্য? বাংলাদেশের জন্য কাজ করা, দেশের মানুষকে ওষুধমুক্ত করা, দেশের মানুষকে ভালো পরামর্শ দেওয়া—মানুষকে ওষুধমুক্ত করার জন্য আমি যে কাজটা করছি, পরিশ্রম করছি, এটাই কি আমার প্রাপ্য ছিল?’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি তাই থাকে, আমি মেনে নিলাম। আপনারাও যারা বিবেকবান, তারা দয়া করে এই বিষয়টি খেয়াল রাখবেন। যেটা সত্য, সেটাই সবাই শেয়ার করুন।’

নিজের বা প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চিন্তিত নন জানিয়ে ডা. জাহাঙ্গীর কবির বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে চিন্তিত নই যে আমার কী হবে বা প্রতিষ্ঠানের কী হবে। কিন্তু আমি একটু দুঃখিত যে, যেখানে অবজেকশনে আমার নামই উল্লেখ নেই, সেখানে আমাকে সরাসরি যুক্ত করে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এটা আমার জন্য কষ্টদায়ক।’

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম