দলের নাম বিক্রি করা চাঁদাবাজদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে: ইশরাক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:২৯ এএম
রাজধানীর কোতোয়ালি থানা ৩৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চারপাশে অবস্থানরত অনুপ্রবেশকারী ও বিএনপির নাম বিক্রি করা চাঁদাবাজদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন।
তিনি বলেন, সরকার এবং বিএনপির ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে প্রকৃত নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। জনগণের আস্থা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সর্বদা সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কোতোয়ালি থানা ৩৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক হোসেন এসব কথা বলেন। একই সময়ে তিনি নবাববাড়ি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন এবং বৃক্ষরোপন কর্মসূচীর মাধ্যমে পরিবেশের প্রতি সবাইকে যত্নবান হতে আহবান জানান।
৩৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. ফরহাদ রানার সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহব্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়া, কোতোয়ালী থানা বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল আজিম, যুগ্ম-আহবায়ক সুরাইয়া বেগমসহ কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ, স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সব নেতাকর্মী।
ইশরাক বলেন, আমাদের চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ঠিক না থাকলে মানুষের বেঁচে থাকা অসম্ভব, কারণ আমাদের জীবনের প্রতিটি মৌলিক চাহিদা সরাসরি পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। তাই পরিবেশ ঠিক রাখতে যার যার জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের চাওয়া-পাওয়াকে ধারণ করে সুস্থ ও সঠিক রাজনীতি করতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইশরাক বলেন, জনগণের যে চাওয়া-পাওয়া, সেই বিষয়গুলোকে কীভাবে ধারণ করে একটা সুস্থ সঠিক রাজনীতি করতে হয়—সেই বিষয়গুলো আমরা ধারণ করব। ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচিত সাংসদ হিসেবে অত্র এলাকার ১১ টি ওয়ার্ডের সকল দায়দায়িত্ব আমার। এখানে ভালো কিছু হলে যেমন আমার সুনাম হয়, ঠিক তেমনি ব্যার্থতার গ্লানিও আমাকেই বহন করতে হয়।
তিনি বলেন, কিছুদিন আগে সদরঘাটে হত্যাকাণ্ডের মতো গর্হিত অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এখন সময় এসেছে, এসব অপরাধীদের চিহ্নিত করে তাদের লাগাম টেনে ধরতে হবে। যারা আমাদের সুনাম ক্ষুণ্ন করছে, যারা জনগণের কাছে বিএনপির ভাবমূর্তি নষ্ট করছে তাদের কে কঠোর হাতে দমন করতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নিয়মিত নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে, বিএনপির অবস্থান চাঁদাবাজী, মাদক এবং দখলের বিরুদ্ধে। কিন্তু মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীরা এ বিষয়ে সোচ্চার না হলে, তা বাস্তবায়ন কঠিন।
ইশরাক বলেন, আমরা নির্বাচিত হয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠন করিনি। বরং ফ্যাসিস্ট হাসিনা বিগত ১৭ বছরে যে ভঙ্গুর পরিস্থিতি ও ধ্বংসস্থুপে পরিণত করেছিল সেখান থেকে উত্তরন ঘটিয়ে স্বাধীন, উন্নত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে আমরা গড়ে তুলতে চাই। আমরা এখন থেকে নিয়মিত সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে এক টেবিলে বসবো এবং চিহ্নিত করার চেষ্টা করবো দুষ্কৃতকারীদের। সবশেষ আমি স্পষ্ট জানিয়ে দিতে চাই, আমার নির্বাচনি এলাকায় কোন মাদক কারবারি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজের ঠাই হবে না এবং এসব লোকের সাথে যদি কোন বিএনপির নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শ্রমিকদলের আহবায়ক মো. সুমন ভুইয়া বলেন, ‘আমরা যে বিপুল জনসমর্থনে একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার গঠন করেছি, সেটি যাতে দীর্ঘস্থায়ী হয় সে জন্য প্রত্যেক নেতাকর্মীকে সৎ থাকতে হবে। অপপ্রচার রোধে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাফেরার সুবিধার্থে অনেক রাস্তাঘাট সংস্কার এবং তৈরী করেছি। মসজিদ, মন্দিরের উন্নয়নে বরাদ্দ এবং বাস্তবায়ন অব্যাহত আছে। বিভিন্ন জায়গায় পাবলিক টয়লেট সংস্কার এবং টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু উন্নয়ন এবং ভালো কাজের কথা কোথাও প্রচার হয় না। সব সময় শুধু অন্যের দোষ আমাদের উপর চাপিয়ে দিয়ে অপপ্রচার করা হয়। কিন্তু জনগণের অন্তরে আমাদের যে অবস্থান রয়েছে সেটা অত্যন্ত মজবুত, আমাদের কোনো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যাতে সেটা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেই বিষয়ে আমরা সতর্ক থাকব।


