Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুষম ভূমি ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী

Advertisement

Icon

বাসস

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ ও সুষম ভূমি ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার: ভূমিমন্ত্রী

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় সভাপতির বক্তব্য দেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সরকারি জমি বরাদ্দ ও ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, সরকারি স্বার্থ সংরক্ষণ এবং ভূমির সুষম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে এবং এর ফলে জনগণের মধ্যে যাতে কোনো ধরনের অসন্তোষ সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা ও কৃষিজমির সুরক্ষার বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির ১৫৭তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

সভায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এবং মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

সভায় কেন্দ্রীয় ভূমি বরাদ্দ কমিটির পূর্বানুমোদনের জন্য উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, নেত্রকোণাসহ বিভিন্ন জেলার উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। 

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম মহানগরের পাঁচলাইশ থানাধীন পাঁচলাইশ ও পশ্চিম ষোলশহর মৌজায় ১.৮৪০৬৪ একর এবং কোতোয়ালী ও পাঁচলাইশ থানাধীন চন্দনপুরা, ইমামগঞ্জ, পাথরঘাটা, বাকলিয়া ও পূর্ব ষোলশহর মৌজায় ২.২৮৯৮৮ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব সভায় অনুমোদন করা হয়।

এছাড়া চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের ‘চাতুরী (চৌমুহনী)-সিইউএফএল-কর্ণফুলী ড্রাইডক (মেরিন একাডেমি)-ফকিরনীহাট (এন-১২১) জাতীয় মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্পের আওতায় কর্ণফুলী থানার জুলধা মৌজায় ১.৩৯০৩ একর, আনোয়ারা থানার বাদলপুরা মৌজায় ২.৫৮৯০ একর, কর্ণফুলী থানার শিকলবাহা মৌজায় ৬.৯৭৩১ একর এবং শাহমীরপুর মৌজায় ১০.৭৫৫৯ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

সুনামগঞ্জের পাইকরাটি থেকে নেত্রকোণা ১৩২/৩৩ কেভি গ্রিড উপকেন্দ্র পর্যন্ত ১৩২ কেভি ডাবল সার্কিট বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণের জন্য এইচকেজিই কনসোর্টিয়া লিমিটেড-এর অনুকূলে নেত্রকোণা সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ও গন্ধর্বপুর মৌজায় ০.০৭৫০ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

সভায় নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সাদিপুর মৌজায় নাজমা পেপার অ্যান্ড বোর্ড মিলস লিমিটেডের নামে ০.৩৭ একর ভূমি অধিগ্রহণের পূর্বানুমোদন দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মেঘনা ইকোনমিক জোন লিমিটেডের অনুকূলে সোনারগাঁও উপজেলার চর রমজান সোনাউল্লাহ মৌজায় ১.৮৬৫২ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এদিকে জেলা ভূমি বরাদ্দ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বিভিন্ন জেলা থেকে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আসা ৫০ বিঘার ঊর্ধ্বের ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবও সভায় অনুমোদন করা হয়।

এর মধ্যে জামালপুর সড়ক বিভাগের ‘মাদারগঞ্জ-কয়ড়া-মনসুরনগর (কাজিপুর)-আব্দুল্লাহ মোড় (সরিষাবাড়ী)-ধনবাড়ী সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার বিভিন্ন মৌজায় ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পটির আওতায় চরশালগ্রাম মৌজায় ৪.৯৭৭৫ একর, কুমারিয়াবাড়ী মৌজায় ১৪.৩৩২৫ একর এবং মাজনাবাড়ী মৌজায় ১০.৫৪২৫ একর ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে প্রস্তাবে মাজনাবাড়ী মৌজার আরেকটি জমির পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি।

বাংলাদেশ রেলওয়ের জয়দেবপুর থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত ডুয়েলগেজ ডাবল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ২১টি মৌজায় ২০.০১৩৬ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া ‘বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়ক প্রশস্তকরণ (এলওসি-৩)’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার গেরামারা, ছত্তরুয়া, সোনাপাহাড়, জামালপুর, আজমনগর ও পূর্ব হিঙ্গুলী মৌজা এবং ফটিকছড়ি উপজেলার রামগড়, জঙ্গল দাঁতমারা ও দাঁতমারা মৌজায় মোট ৫৭.৯৩৮০ একর ভূমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ‘যশোর রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা’ প্রকল্পের আওতায় যশোরের অভয়নগর উপজেলার ছয়টি মৌজায় মোট ৬.৪৭৬০ একর জমি অধিগ্রহণের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সভায় বগুড়া কোল্ড স্টোরেজ অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের অনুকূলে অধিগ্রহণ করা সম্পত্তি পরিবর্তিত বাস্তবতা বিবেচনায় ভূমি অধিগ্রহণ আইন, ২০১৭-এর আওতায় জনকল্যাণমূলক হাসপাতাল স্থাপনের উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় ভূমিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করতে হবে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। একই সঙ্গে কৃষিজমি ও পরিবেশের ওপর যাতে অপ্রয়োজনীয় চাপ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন ও ভূমি ব্যবহারের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সরকারি স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি জনগণের স্বার্থ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কৃষিজমি সংরক্ষণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

সভায় অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম