সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে ৫ বছর পর টাকা তুলে নেওয়া যাবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আকর্ষণীয় করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এগুলো হচ্ছে—জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনি হিসেবে স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়া, বিদ্যমান ৬০ বছর বয়সের বদলে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন–ব্যবস্থা চালু করা ইত্যাদি।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হবে। এটি পেনশন কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক। এতে উপস্থাপনের জন্য পেনশন কর্তৃপক্ষ ১১টি আলোচ্যসূচি রেখেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। যেসব প্রস্তাব পর্ষদ থেকে অনুমোদন পাবে, সেগুলো পরে বাস্তবায়নের দিকে যাবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে চারটি সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু আছে। এগুলো হচ্ছে প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। এগুলোর মাধ্যমে কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীরা পেনশন সুবিধার আওতায় আসার সুযোগ পাচ্ছেন। দেশের ৪ শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি মানুষের কথা বিবেচনায় রেখে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালু করা হয় সর্বজনীন পেনশন-ব্যবস্থা।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চালুর তিন বছর পার হয়ে গেছে। সর্বজনীন পেনশনের চারটি কর্মসূচিতে এ পর্যন্ত নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক। তাদের জমা করা মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
সমতা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন এবং তাদের জমা করা অর্থের পরিমাণ ৫৬ কোটি ৮৫ কোটি টাকা। প্রবাসীদের জন্য নির্ধারিত প্রবাস কর্মসূচিতে সাড়া সবচেয়ে কম। এতে এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। এর মধ্যে নারী আছেন ৯৭ জন। তাঁদের মোট জমা করা আমানতের পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
গ্রাহকেরা বলছেন, সর্বজনীন পেনশন–ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আগ্রহ কম হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ব্যাংকের আমানতের তুলনায় রিটার্ন কম হওয়া এবং পেনশনের আগে গ্রাহকের জন্য তাৎক্ষণিক সুবিধা কম থাকা এর অন্যতম কারণ।
বিদ্যমান পেনশন–ব্যবস্থায় একবার কোনো কর্মসূচিতে ঢুকলে আর বের হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ চালিয়ে নিতে না পারলে জমা টাকা ‘মার’ যেত। এ নিয়ম বদল করার দাবি ছিল গ্রাহকদের দিক থেকে। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নিয়ম বদলের প্রস্তাব রয়েছে। বলা হয়েছে, পাঁচ বছর অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক কারণে অক্ষম হয়ে পড়লে পেনশনগ্রহীতাকে বিশেষ বিবেচনায় অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হবে।



