Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

এসআই আলতাফ হত্যা: ১৫ আসামিকে ধরতে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম

এসআই আলতাফ হত্যা: ১৫ আসামিকে ধরতে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

নিহত পুলিশ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

Advertisement

অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্ক, এরপর হামলা। প্রাণ বাঁচাতে নিজের ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েও রক্ষা পাননি স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) এসআই মো. আলতাফ হোসেন। দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয় বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হন তার ছোট ছেলেও।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মামলার ১৫ আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে হত্যার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজের দপ্তরে পরিবারের সদস্যরা মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মন্ত্রী বলেন, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের কল্যাণে সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। এরই মধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে পরিবারকে ৬ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। পরিবারের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখতে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলতাফ হোসেনের দীর্ঘ কর্মজীবনে সততা ও সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে মরণোত্তর পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। 

যেভাবে হত্যা

গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা। সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়া। একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে এসআই আলতাফ হোসেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হামলার আশঙ্কায় আলতাফ হোসেন তার বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নেন।

মামলার এজাহার ও সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে হামলা চালায়।

হামলাকারীদের হাত থেকে বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম। এ সময় তিনিও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা বাবা-ছেলেকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। 

৪০ বছরের পুলিশ জীবন

১৯৮৬ সালে সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে কনস্টেবল হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলতাফ হোসেন। চার দশকের কর্মজীবনে ডিএমপি, রাঙামাটি, আরআরএফ রাজশাহী, আরএমপি ও বরিশাল জেলায় দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১১ সাল থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত স্পেশাল ব্রাঞ্চে কর্মরত ছিলেন আলতাফ হোসেন। পুলিশের চাকরিতে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর অবসরের আগেই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।

মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, বড় ছেলে মো. শরিফুল ইসলাম ও ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামকে রেখে গেছেন। বড় ছেলে মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ফার্মাসি সম্পন্ন করেছেন। ছোট ছেলে ইউসেপ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ছেন। নিহতের পরিবারের দাবি—হত্যার সঙ্গে জড়িত সবাইকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম