এইচআরএসএসের উদ্বেগ
সাইবার আইনের কয়েকটি ধারা অপব্যবহারের শঙ্কা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৮ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর কয়েকটি ধারায় ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কা করেছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।
সংগঠনটির মতে, খসড়াটি চূড়ান্ত অনুমোদন হলে সাইবার অপরাধ দমনের পাশাপাশি মতপ্রকাশ, সাংবাদিকতা ও ভিন্নমত নিয়ন্ত্রণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানিয়ে খসড়ার বিতর্কিত ও অস্পষ্ট বিধান পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এইচআরএসএস বলেছে, সাইবার অপরাধ, অনলাইন হয়রানি, ব্লেকমেলিং, রিভেঞ্জ পর্নোগ্রাফি, ডিজিটাল শিশু নিপীড়ন, পরিচয় চুরি, প্রতারণা ও অননুমোদিত প্রবেশের মতো অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর আইন প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে নাগরিকের মতপ্রকাশ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার যেন সংকুচিত না হয়।
প্রস্তাবিত খসড়ায় গুজব ও অপতথ্য প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এইচআরএসএসের আপত্তি, ‘অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত তথ্য’কে গুজব এবং ‘মিথ্যা, বিকৃত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য’কে অপতথ্য হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও এসব শব্দের প্রয়োগের সীমা স্পষ্ট নয়।
এই আইনের খসড়ায় যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেলিং, সেক্সটরশন, রিভেঞ্জ পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল শিশু নিপীড়নের মতো অপরাধের পাশাপাশি মানহানি, হেয়প্রতিপন্নকরণ ও বুলিংকে একই ধারায় যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। এ ধারায় সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখার কথা বলা হয়েছে।
এইচআরএসএস বলেছে, নারী ও শিশু সুরক্ষার জন্য তৈরি বিশেষ সুরক্ষা ধারার সঙ্গে মানহানি ও রাজনৈতিক বক্তব্যকে একীভূত করা অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যঙ্গ, কার্টুন, প্রতিবাদী বক্তব্য বা সামাজিক বিতর্ককে ‘হেয়প্রতিপন্ন’ কিংবা ‘মানহানিকর’ হিসাবে চিহ্নিত করে ফৌজদারি মামলা করার সুযোগ থাকলে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
প্রস্তাবিত ২৭ ধারায় কোনো কনটেন্ট শেয়ার করাকেও প্রচার হিসাবে গণ্য এবং সহায়তার শাস্তি মূল অপরাধের সমান করার প্রস্তাব রয়েছে। এইচআরএসএসের বক্তব্য, এতে কনটেন্ট নির্মাতা ও শেয়ারকারীর ভূমিকার পার্থক্য উপেক্ষিত হতে পারে।
কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতা নিয়েও আপত্তি রয়েছে সংগঠনটির। খসড়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য সংস্থাকে কনটেন্ট ব্লকের ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে উল্লেখ করে ইচআরএসএস বলেছে, বিচারিক আদেশ ছাড়া কনটেন্ট ব্লক করার সুযোগ রাখা উচিত নয়।
কোনো কোম্পানি আইন লঙ্ঘন করলে নিবন্ধন বা লাইসেন্স বাতিল কিংবা কার্যক্রম স্থগিতের ক্ষেত্রেও স্বাধীন বিচারিক পর্যালোচনা, লিখিত কারণ, নোটিশ ও কার্যকর আপিলের সুযোগ রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।

