সিপিডির সংলাপে বক্তারা
শিক্ষায় সমন্বিত আইন, রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত প্রতিষ্ঠান করার দাবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া রোধ, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সব ধরনের শিক্ষাকে সমন্বিত করে একটি শিক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষা খাতের বিশিষ্টজনরা।
শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সূচনা বক্তব্য দেন সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান।
আলোচনায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের কোর গ্রুপ সদস্য রাশেদা কে. চৌধুরী এবং রাজনীতিবিদ ও সহায় হেলথের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ডা. তাসনিম জারা বক্তব্য দেন।
অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, সবার জন্য সমান ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় অভিভাবকদের আরও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। আগামী শিক্ষাবর্ষে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
তিনি বলেন, শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা জরুরি।
গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী বলেন, মিড ডে মিল কার্যক্রমকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা ভালো উদ্যোগ। বিশেষ করে এতে মায়েদের সম্পৃক্ত করা দরকার। শিক্ষার জন্য একটি স্থায়ী ও নির্দলীয় শিক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষায় কর ও ভ্যাটের বোঝা পরিহার করা উচিত। সব ধরনের শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষা আইন প্রয়োজন।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ নেই। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই স্বাস্থ্য শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করতে হবে। জুলাইয়ের আহতদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার কোনো উদ্যোগ আছে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দলীয় রাজনীতিমুক্ত রাখতে হবে। শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ জরুরি। শিক্ষার্থীদের জন্য ছাত্র আইডি চালু করা, মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে সড়ক নিরাপত্তা ও মাদক প্রতিরোধে নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি বলেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমাতে হবে। কারিকুলামে অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষকদের সামাজিক ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা শাখার শূরা ও কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লাও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করা সহজ নয়। তবে এসব সমস্যা ধীরে ধীরে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শিক্ষা খাতের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর রয়েছে।
তিনি বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোতে শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি মিড ডে মিল চালুর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভালো উদ্যোগগুলোও কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে শিক্ষকদের পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পাঠ্যবইয়ের সংখ্যা কমানো এবং শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় স্কুলে অবস্থান না করার বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। ইংরেজি মাধ্যম ও মাদ্রাসা শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের প্রায় দেড় লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পর্যায়ক্রমে মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। এ ক্ষেত্রে ইবতেদায়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পরে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও এ ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক নেতৃত্ব দখলের প্রবণতা রয়েছে। সরকার নির্দলীয়ভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। জবাবদিহিতার মধ্যে থেকে কাজ করতে চান তারা এবং জবাবদিহিতামূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চান।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রেণিকক্ষে অনিয়ম না করলেই হয়। শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি বা তথ্য নেওয়া অপরাধ নয়; তবে তা যেন স্কুলের ভেতরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে করা না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

