নতুন পে স্কেলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে সামনে এলো নতুন জটিলতা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নতুন জাতীয় বেতন স্কেলে পদোন্নতি পেলেই সব ক্ষেত্রে বাড়বে না সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মোট বেতন। বরং গ্রেড পরিবর্তনের সঙ্গে বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে যাওয়ার পরও মোট মাসিক প্রাপ্য কমে যেতে পারে বা নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীর চেয়ে কম থাকতে পারে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট বিশ্লেষণে এমন অসংগতি উঠে এসেছে।
গেজেটের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ গ্রেডে মূল বেতন ২২ হাজার ৮০০ টাকা। এর সঙ্গে ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে ৭ হাজার ৯৮০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৩ হাজার, টিফিন ভাতা ৫০০ এবং মোবাইল ভাতা ১৫০ টাকা যোগ হয়ে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৪৩০ টাকা।
অন্যদিকে ১৬ গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৯০০ টাকা। ১৫ গ্রেডের তুলনায় মূল বেতন ৯০০ টাকা কম হলেও বাড়ি ভাড়ার হার ৪৫ শতাংশ হওয়ায় এ খাতে পাওয়া যাবে ৯ হাজার ৮৫৫ টাকা। অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৪০৫ টাকা। অর্থাৎ ১৫ গ্রেডের তুলনায় ১৬ গ্রেডে মোট বেতন ৯৭৫ টাকা বেশি।
একইভাবে ১৭ গ্রেডে মূল বেতন ২১ হাজার ৪০০ টাকা। ৪৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাওয়া যাবে ৯ হাজার ৬৩০ টাকা। চিকিৎসা, টিফিন ও মোবাইল ভাতা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৪ হাজার ৬৮০ টাকা। অর্থাৎ ১৫ গ্রেডের তুলনায় মূল বেতন ১ হাজার ৪০০ টাকা কম হলেও মোট বেতন ২৫০ টাকা বেশি।
আবার ১৪ গ্রেডে মূল বেতন ২৩ হাজার ৭০০ টাকা। ৩৫ শতাংশ বাড়ি ভাড়া হিসেবে ৮ হাজার ২২৫ টাকা এবং অন্যান্য ভাতা যোগ করলে মোট বেতন দাঁড়ায় ৩৫ হাজার ৫৭৫ টাকা। ফলে ১৪ গ্রেডের তুলনায় ১৬ গ্রেডের মোট বেতন মাত্র ১৭০ টাকা কম। এ হিসাবেও গ্রেডের ব্যবধানের সঙ্গে মোট বেতনের ব্যবধান প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত বাড়ি ভাড়া ভাতার শতকরা হারে পার্থক্য এবং ন্যূনতম বাড়ি ভাড়া নির্ধারণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে পদোন্নতি পাওয়ার পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ায় মোট আর্থিক সুবিধায় কাঙ্ক্ষিত বৃদ্ধি হচ্ছে না।
এ নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। গেজেট প্রকাশের পর বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের নেতারা অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। সংগঠনগুলোর নেতাদের দাবি, অর্থ বিভাগের কর্মকর্তারা তাদের জানিয়েছেন, তারা সচিব কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী গণমাধ্যমে বলেন, নতুন বেতন কাঠামোর অসংগতিগুলো সংশোধনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও অর্থ সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিদ্যমান বাড়ি ভাড়া ভাতার ব্যবস্থার তুলনাতেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় মূল বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৬৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৫ হাজার ৬০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়। ৯ হাজার ৭০১ থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল বেতনে ৬০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৬ হাজার ৪০০ টাকা বাড়ি ভাড়া পাওয়া যায়।
মূল বেতন ১৬ হাজার ১ টাকা থেকে ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত হলে ৫৫ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ৯ হাজার ৬০০ টাকা এবং ৩৫ হাজার ৫০১ টাকার বেশি হলে ৫০ শতাংশ হারে, তবে ন্যূনতম ১৯ হাজার ৫০০ টাকা বাড়ি ভাড়া দেওয়া হয়।
এদিকে নতুন পে স্কেল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা আপাতত জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী পরিশোধ করা হবে। নতুন স্কেলে বেতন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের প্রাপ্য বকেয়া আর্থিক সুবিধা হিসাব করে সমন্বয় করা হবে।
নতুন কাঠামোয় বেতন পেতে সরকারি চাকরিজীবীদের প্রথমে অনলাইনে পে ফিক্সেশন সম্পন্ন করতে হবে। আইবাস প্লাস প্লাসে নির্ধারিত ছকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর সাবমিট করার আগেই নতুন নির্ধারণযোগ্য মূল বেতন সিস্টেমে দেখা যাবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট ডিডিও তথ্য যাচাই করবেন। গেজেটেড কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণী বিবরণী হিসাবরক্ষণ অফিসে পাঠানো হবে। নন-গেজেটেড কর্মচারীদের ক্ষেত্রে সার্ভিস বহিতে আগের চাকরি ও বেতনের তথ্য সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করবেন ডিডিও।
পরবর্তী ধাপে হিসাবরক্ষণ অফিস অনলাইনে তথ্য যাচাই করে অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর সিস্টেম থেকে ভেরিফিকেশন নম্বর তৈরি হবে। পে ফিক্সেশন শেষ হওয়ার পর নতুন কাঠামো অনুযায়ী প্রাপ্য বেতন ও জুলাই-সেপ্টেম্বরের বকেয়া সুবিধার হিসাব চূড়ান্ত করা হবে।
ফলে নতুন পে স্কেলে পদোন্নতির পর মূল বেতন বাড়লেও বাড়ি ভাড়া ভাতার হার কমে যাওয়ার কারণে মোট আর্থিক সুবিধায় কী পরিবর্তন হবে, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।




