Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

১৭তম গ্রেডের চেয়েও কম ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন, আরও একাধিক গ্রেডের বৈষম্য নিরসনের দাবি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৫ পিএম

১৭তম গ্রেডের চেয়েও কম ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন, আরও একাধিক গ্রেডের বৈষম্য নিরসনের দাবি

Advertisement

নবম জাতীয় বেতন স্কেলে বাড়িভাড়া ভাতার হার সংশোধন না হলে নিম্ন গ্রেডের ১৭তম গ্রেডের তুলনায় উচ্চতর ১৫তম গ্রেডের কর্মচারীরা কম মোট বেতন পাবেন বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি গ্রেডে বাড়িভাড়া ভাতা নিয়ে অসংগতির কথা তুলে ধরে ২০২৮ সালের আগে এসব বৈষম্য নিরসনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক ও মহাসচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ ১১ বছর পর নবম পে স্কেল জারি হওয়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে যখন আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তখন বাড়িভাড়া ভাতার কাঠামোয় বড় ধরনের অসংগতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে উচ্চতর গ্রেডে থেকেও নিম্ন গ্রেডের তুলনায় কম মোট বেতন পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে ২০তম ও ১৩তম গ্রেডের বাড়িভাড়া ভাতার পরিমাণ একই দাঁড়াবে। অন্যদিকে ১৭তম গ্রেডের চেয়ে ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন কম হবে, যা কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সমিতির হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা শহরে ২০তম গ্রেডের ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের ৬০ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া দাঁড়ায় ১২ হাজার টাকা। বিপরীতে ১৩তম গ্রেডের ২৪ হাজার টাকা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া পাওয়া যাবে ১২ হাজার টাকা।

এ ছাড়া ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া হবে ১১ হাজার ৪০০ টাকা। ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ হিসাবে বাড়িভাড়া দাঁড়াবে ১১ হাজার ৭৫০ টাকা। অর্থাৎ এ দুটি গ্রেডেও বাড়িভাড়া ২০তম গ্রেডের চেয়ে কম হবে বলে দাবি সংগঠনটির।

বিবৃতিতে ১৭তম ও ১৫তম গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপের মোট বেতনের একটি হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনটির হিসাবে, ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ টাকা মূল বেতন, ১২ হাজার ৮৪০ টাকা বাড়িভাড়া, ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, এক সন্তানের জন্য ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা, ৬০০ টাকা যাতায়াত ভাতা, ৫০০ টাকা টিফিন, ৩০০ টাকা ধোলাই এবং ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াবে ৩৯ হাজার ২৯০ টাকা।

অন্যদিকে ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা মূল বেতন, ১১ হাজার ৪০০ টাকা বাড়িভাড়া, ৩ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা, ৫০০ টাকা শিক্ষা ভাতা, ৬০০ টাকা যাতায়াত, ৫০০ টাকা টিফিন এবং ১৫০ টাকা মোবাইল ভাতাসহ মোট বেতন হবে ৩৯ হাজার ২৫০ টাকা। অর্থাৎ সংগঠনটির হিসাবে ১৭তম গ্রেডের তুলনায় ১৫তম গ্রেডের মোট বেতন ৪০ টাকা কম হবে।

কর্মচারী নেতারা বলছেন, কোনো গ্রেডের সুবিধা কমিয়ে নয়, বরং সব গ্রেডের বেতন-ভাতার অসংগতিগুলো সমন্বয়ের মাধ্যমে এ বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন। এতে কোনো গ্রেডের কর্মচারীকে হেয় করা হবে না এবং যোগ্যতা ও গ্রেড অনুযায়ী বেতন কাঠামোর যৌক্তিকতাও বজায় থাকবে।

তাদের দাবি, বাড়িভাড়া ভাতার নতুন হার ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার আগে এসব অসংগতি সংশোধন করতে হবে। তা না হলে গ্রেডভিত্তিক বেতন কাঠামোয় অসন্তোষ তৈরি হয়ে কর্মক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংগঠনটি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম