Logo
Logo
×
   

Advertisement

জাতীয়

৫২ বছরে দেশে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩১ পিএম

৫২ বছরে দেশে আবাদি জমি কমেছে ৩০ শতাংশ

রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

১৯৭১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৫২ বছরে দেশে আবাদী জমি কমেছে ৩০ শতাংশ। তবে জমি কমলেও বেড়েছে উৎপাদন। এ সময়ে ধানের উৎপাদন বেড়েছে ৩.৮ গুণ, গমের ১৭.২৭ ও ভূট্টায় ২২৬৬.৬৭ গুণ। বর্তমান সরকার উৎপাদন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেও মনোযোগ দিয়েছে বলে জানিয়েছে বক্তারা। 

তারা বলেন, স্বাধীনতার পর লবণাক্ত জমির পরিমাণ ছিল ৮.৩৩ লাখ হেক্টর, ২০২৩ সালে বেড়ে ২০.০৫ লাখ হেক্টর ও ২০২৪ সালে ১১.৫৬ লাখ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। সরকার লবণাক্ত জমির জন্য আলাদা ফসল, পাহাড়ি জমির ও নিচু জমিসহ জোনভিত্তিক জমির জন্য উপযোগী ফসল ফলানোর উপর গুরুত্ব দিচ্ছে। আর এ জন্য বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে বেশি মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফার্মগেটে সার্ক এগ্রিকালচার কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী কর্মশালার শেষ দিনে তারা এসব কথা বলেন। কর্মশালায় অংশ নেন বাংলাদেশ এগ্রিকালচার রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএআরএফ) সদস্যরা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সনদপত্র তুলে দেন বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) ড. মো. আবদুছ ছালাম।  

কর্মশালায় বিএআরসি’র পরিচালক ড. মো. মাহফুজ আলম ও প্রধান ট্রেনিং অফিসার আল মোবাচ্ছের হোসেনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএআরসির ডিরেক্টর ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল, মৎস্য অধিদপ্তরের ইনল্যান্ডের পরিচালক মো. মোতালেব হোসেন। বিএআরএফের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, বিএআরএফ সভাপতি মো. নিজামুল হক, সহসভাপতি চপল মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক কাওসার আজম। এতে তিন দিনে ১৫ প্রশিক্ষক ১৫টি বিষয়ে আলোচনা করেন। 

বিএআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, দেশে বছরে জনসংখ্যা বাড়ছে ২০-২২ লাখ। অপরদিকে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের ২০২৫ সালের যে রিপোর্ট অনুযায়ী জমি কমছে আমাদের ০.৩৬% হারে। প্রতিদিন জমি কমছে ৩০৭ একর। সেই জমি চলে যাচ্ছে শিল্পায়ন, নগরায়ন, বসৎবাড়ি, রাস্তাঘাটে। এটি খাদ্য উৎপাদনে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ।  

তিনি বলেন, আমরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে মনোযোগ দিয়েছি। এজন্য গুড এগ্রিকারচার প্রেক্টিস বা গ্যাপের আলোকে ৫টি ফল ১০টি সবজি আবাদে মনোযোগ দিয়েছি। ২০২৮ সালে এটি ৩ লাখ হেক্টর জমি চাষাবাদে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেননা জাতিকে রোগবালাই মুক্ত করতে নিরাপদ খাবার নিশ্চিত করতে হবে। আমরা নিজেদের চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও করবো। আর উৎপাদনের জন্য প্রয়োজন ভালো মাটি ও বীজ। তাহলে ৫০ শতাংশ উৎপাদন বেড়ে যাবে। 

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার সময় অপুষ্টিতে থাকা মানুষের সংখ্যা ছিল ৫০ শতাংশ।বর্তমানে এটি কমে ১২ শতাংশ হয়েছে। 

কৃষি অর্থনীতি তথ্যের উৎস নিয়ে আলোচনা করেন ড. মো. মোশাররফ উদ্দীন মোল্লা । তিনি বলেন, শষ্যবিমার ড্রাফট জমা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে একটি গাইড লাইন করে জুলাই মাসে জমা দেওয়া হয়েছে। অচিরেই এ ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যাবে।  

ওবায়দুর রহমান মন্ডল কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণ সমন্বয় কমিটির (এটিসিসি) কার্যপরিধি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলে সূর্যমুখির চাষ বাড়ানো হবে। সে অঞ্চলে তেলের কারখানাও করা হবে। সেজন্য আগামী মৌসুমের আগেই খুলনা ও বরিশালে কারখানা স্থাপিত হবে। 

মো. মোতালেব হোসেন বলেন, প্রোটিনের উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে মানুষের প্রোটিনের যোগান নিশ্চিত করতে কাজ করছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশে ২০২৪-২৫ সালে ৫১.১১ লাখ টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। দেশে ১৪ লাখ নারী মাছ চাষে যুক্ত। হাওর, নদী, খাল বিল তথা মিঠাপানির মাছের উৎপাদন কমেছে। বর্তমানে মিঠাপানির ২৬০, আমদানি ১২, সামুদ্রিক ৪৭৫, ফ্রেশওয়াটার চিংড়ি ২৪, সামুদ্রিক চিংড়ি ৩৬ প্রজাতির মাছ। 

বিএআরসির প্রাণিসম্পদ বিভাগের সদস্য ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, মেধাসম্পন্ন জাতি গঠনে প্রাণিজাত প্রোটিন তথা দুধ, ডিম, মাছ ও মাংস খেতে হবে। জিডিপিতে প্রাণিসম্পদের অবদান ১.৯ শতাংশ ও বাৎসরিক বৃদ্ধি ৩.১ শতাংশ। একজন মানুষের দৈনিক দুধের চাহিদা ২৫০ গ্রাম সেখানে বর্তমানে পাচ্ছে ২০৮ গ্রাম, মাংসের চাহিদা ১২০ গ্রাম, পাচ্ছে ১৪৭.৮৪ গ্রাম। ২০৩১ সালে মাংস গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা ১৫০ গ্রাম ও ২০৪১ সালে দরকার ১৬০ গ্রাম নির্ধারণ করা হয়েছে। তাছাড়া সুস্থ থাকতে হলে প্রত্যেককে দৈনিক ২টিকরে ডিম খাওয়া দরকার।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম