ক্যান্টনমেন্ট থানার সেই ওসির রিমান্ড আবেদনে যা বলল পুলিশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৬ পিএম
সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসান। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি মো. রাকিবুল হাসানের সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছিল পুলিশ। শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ফেসবুকের একটি আইডি থেকে ‘আ.লীগ নেতার সঙ্গে ওসির বৈঠক’ শিরোনামে একটি অডিও ভাইরাল হয়। মামলার বাদী অডিওটি যাচাই-বাছাই করে সেখানে রাকিবুল হাসানের বক্তব্য ও কণ্ঠস্বর রয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ার দাবি করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, ওই অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য রয়েছে। সেখানে সেনাবাহিনীকে ‘নিউট্রাল’ থাকার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি পুলিশ ও ওসি পদে বদলি-পদায়ন, অর্থ লেনদেন এবং পুলিশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও তহবিল নিয়েও বক্তব্য রয়েছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, অডিওতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের বিষয়ে উসকানি, উত্তেজনা সৃষ্টি ও প্ররোচনার তথ্য রয়েছে। এতে দেশে দাঙ্গা-হাঙ্গামার পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা ছিল বলে পুলিশ দাবি করেছে।
পুলিশ বলছে, রাকিবুলের কথিত বক্তব্যে সরকারি কর্মচারী থাকা অবস্থায় সরকারের সমালোচনা, রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র এবং সরকারের প্রশাসনিক উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও বিভিন্ন বাহিনী সম্পর্কে অবজ্ঞা, বিদ্বেষ ও ঘৃণা প্রকাশ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, অডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে রাকিবুলকে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে রাকিবুলের সঙ্গে অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের যোগসাজশ এবং তাদের পরিচয় শনাক্ত করা প্রয়োজন বলে পুলিশ উল্লেখ করেছে। অডিওটির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং অপরাপর আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলেও আবেদনে জানানো হয়।
মামলায় দণ্ডবিধির ১২৪-ক ও ১৫৩ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি দায়েরের আগে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অনুমতি চাওয়া হয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিওকে কেন্দ্র করে রাকিবুলকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তখন তিনি দাবি করেন, অডিওটি তার নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে অডিওটি তৈরি করা হয়েছে বলেও দাবি করেছিলেন তিনি।

