তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের বিধিমালা দ্রুত প্রণয়নের দাবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে এর বিধিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন তামাকবিরোধী নারী ফোরামের সদস্যরা। তারা বলেছেন, আইনের বিধান কার্যকর করতে বিধিমালা প্রণয়নের বিকল্প নেই। একই সঙ্গে সংশোধিত আইনে থাকা সীমাবদ্ধতা দূর করে তামাক নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
রোববার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নারী মৈত্রী আয়োজিত সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন ২০২৬: প্রত্যাশা ও অর্জন শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
সভায় বক্তারা সংসদের প্রথম অধিবেশনেই ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫-এর সংশোধিত ২০২৬ সংস্করণ পাশ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান। তারা বলেন, সংশোধিত আইন পাশ তামাক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে আইনটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন জরুরি।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তামাক ব্যবহারকারী দেশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। ভারতে এ হার ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পাকিস্তানে ১৯ দশমিক ১ শতাংশ। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে-২০১৭-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন।
টোব্যাকো অ্যাটলাস ২০২৫-এর তথ্য তুলে ধরে সভায় বলা হয়, তামাক ব্যবহারজনিত রোগে বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষ মারা যান। এছাড়া কয়েক লাখ মানুষ পঙ্গুত্বের শিকার হন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তামাক খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ছিল প্রায় ৪১ হাজার কোটি টাকা। বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে মৃত্যু, স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতি মিলিয়ে বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
নেওয়াজ হালিমা আরলি এমপি বলেন, বর্তমান সরকার তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষায় বদ্ধপরিকর। সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে সরকার নীতিগত ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন এ উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে দ্রুত বিধিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এ জন্য ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিধিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ফরিদা ইয়াসমিন এমপি বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলে (WHO FCTC) স্বাক্ষর করেছে। তবে সংশোধিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এ আন্তর্জাতিক চুক্তির সব গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতিফলন এখনও নেই। তামাকশিল্পের প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য নীতি সুরক্ষা, তামাকজাত পণ্যের উপাদান ও নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা এবং তামাক ছাড়তে সহায়তার মতো বিষয়গুলো বিধিমালা প্রণয়নের সময় বিবেচনায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
হেলেন জেরিন খান এমপি বলেন, সংশোধিত আইনেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকোসহ নতুন ধরনের নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্যের নিয়ন্ত্রণ এবং খুচরা শলাকা ও খোলা তামাকজাত পণ্য বিক্রির বিষয়গুলো যথাযথভাবে আইনে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এসব বিষয় বিধিমালায় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
সেলিনা সুলতানা এমপি বলেন, সংশোধিত আইনে পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে শর্তসাপেক্ষে নির্ধারিত ধূমপান এলাকা রাখার সুযোগ রয়েছে। তামাক কোম্পানিগুলো যাতে বিভিন্ন কৌশলে এ সুযোগের অপব্যবহার করতে না পারে, সে জন্য বিধিমালায় স্পষ্ট ও কার্যকর নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।
সভায় নারী মৈত্রীর নির্বাহী পরিচালক শাহিন আকতার ডলির সভাপতিত্বে তামাকবিরোধী মায়েদের ফোরাম, তামাকবিরোধী শিক্ষক ফোরাম, তামাকবিরোধী নারী সাংবাদিক ফোরাম ও তামাকবিরোধী ইয়ূথ ফোরামের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সুস্পষ্ট করার দাবি জানান।
