মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল, তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে দায়িত্বে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করেননি। ফলে সেখানে সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আয়োজিত সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি-দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে সামনে রেখে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না।
চাঁদাবাজদের তালিকা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চাঁদাবাজদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। এ ধরনের তালিকা পুলিশের কাছে সবসময়ই থাকে। একইভাবে সন্ত্রাসী, অপরাধী, মাদক ব্যবসায়ী ও অস্ত্রধারীদের তালিকাও পুলিশের কাছে রয়েছে এবং সেগুলো নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। নতুন করে কোনো তালিকা করা হয়েছে এমন বিষয় নেই বলেও জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত রয়েছে এবং তা আরও জোরদার করা হবে। রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে সরকার অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই বিবেচনা করছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ট্রিপল নাইন নম্বরে ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাচ্ছে, গ্রেফতার করছে এবং মামলা গ্রহণ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, কোনো ঘটনায় ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তখন দায়ভার থাকে এবং সেটিকে পুলিশের ব্যর্থতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোতে পুলিশের কোনো ব্যর্থতা নেই, সরকারেরও কোনো ব্যর্থতা নেই। তদন্তের স্বার্থে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাড্ডা ক্লিনিকের ঘটনায় কোনো সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
ক্যান্টনমেন্ট থানার মাটিকাটার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে তাকে সমালোচনা করে মামলা হয়েছে বলে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা তার জানা নেই। তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, কেউ এজাহার নিয়ে গেলে সেটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার আগে পুলিশকে কিছু প্রাথমিক তদন্ত করতে হয়। এরপর কেস এন্ট্রি করা হয়।
তিনি আরও বলেন, যিনি মামলা করেছেন বলে দাবি করেছেন, তার নামে আজ পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। রিয়েল এস্টেট কোম্পানির প্রতিনিধি হিসেবে ওই কোম্পানির পরিচালক মামলা করেছেন।
চাঁদাবাজির অভিযোগ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ঢালাওভাবে সরকারকে দোষারোপ করা কিংবা বিএনপিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে চাঁদাবাজ বলার কোনো বক্তব্য থাকলে তার বিচার জনগণই করবে।
তিনি বলেন, সেখানে কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা ছিল না এবং সালমান মুক্তাদির নিজেও এমন কথা বলেছেন। তার কাছে চাঁদা চাওয়া হয়নি বলেও তিনি নিজেই জানিয়েছেন। এরপরও বিএনপিকে চাঁদাবাজ বলা হয়েছে এ ধরনের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঘটনাটি নির্মোহভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিউগিনি প্রোপার্টিজ কিংবা পাশের জমির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি যেই জড়িত থাকুক, সবাইকে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



