গুপ্তচরবৃত্তির মামলায় ৭ দিনের রিমান্ডে সেই ভারতীয় নাগরিক
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ রিমান্ডের আদেশ দেন।
এদিন রবিউল ইসলামকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক নূর আলম ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামির বিরুদ্ধে দ্য অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর পৃথক ধারায় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল ইসলাম বাংলাদেশে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র বা বাংলাদেশবিরোধী কোনো বড় চক্রের অংশ হিসেবে কাজ করছিলেন কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে ১০ দিনের নিবিড় পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ তার সাতদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে বাংলাদেশে ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাকে দুই দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। রিমান্ড শেষে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দ্য অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা করা হয়। মামলায় গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়েছেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলামের জন্ম ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়িবোজ গ্রামে। ডিএমপির একটি সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সূত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। পরে টিএফআই সেলের মাধ্যমে তাকে দুই দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদ ও কাগজপত্র পর্যালোচনায় পুলিশ দেখতে পায়, রবিউল ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার করা পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সে জন্মতারিখের অমিল রয়েছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ রয়েছে বলেও মামলার নথিতে বলা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, রবিউল ইসলাম প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। কখনো ট্যুরিস্ট ভিসায়, আবার কখনো বিজনেস ভিসায় তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন। পুলিশের অভিযোগ, ভ্রমণ ও ব্যবসার আড়ালে তিনি গুপ্তচরবৃত্তি করতেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে রবিউল ইসলাম বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঘটনাস্থলে অবস্থান করে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থপরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
