চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জনপ্রশাসন উপদেষ্টার
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।
তিনি বলেছেন, তরুণেরা উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ নিলে সরকার তাদের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
শুক্রবার ঢাকার বিয়াম ফাউন্ডেশন অডিটোরিয়ামে বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতি কর্তৃক আয়োজিত কৃতি শিক্ষার্থী ও গুনীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ আহ্বান জানান।
উপদেষ্টা তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে, কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়াতে হবে। তবে সবকিছুর আগে একজন ভালো মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু জীবনের পরীক্ষায় ভালো মানুষ হওয়া তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, আজকের অর্জনকে শেষ নয়, বরং সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন সুযোগ হিসেবে দেখতে হবে। বৃহত্তর নোয়াখালীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনে কবি, লেখক, বিজ্ঞানী, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, প্রশাসক ও সফল উদ্যোক্তা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উপদেষ্টা বলেন, বৃহত্তর নোয়াখালী বন্যা, নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি। তবে এসব সমস্যার চেয়ে এ অঞ্চলের মানুষের সম্ভাবনা অনেক বেশি। দেশে-বিদেশে প্রতিষ্ঠিত বৃহত্তর নোয়াখালীর মানুষ তাদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সামর্থ্য নিয়ে নতুন প্রজন্মের পাশে দাঁড়ালে এসব সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব।
তিনি বলেন, পরিবর্তনের সূচনা হতে হবে নিজের ঘর থেকে। পরিবার, সমাজ ও নিজ এলাকার প্রতি দায়িত্ব পালন এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই বড় পরিবর্তন আসে। নিজের শিকড়ের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া সংকীর্ণ আঞ্চলিকতা নয়; বরং নিজ এলাকার উন্নয়নে কাজের ইতিবাচক প্রভাব একসময় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, জীবনে যত বড়ই হও না কেন, নিজের শিকড়, পরিবার, শিক্ষক ও এলাকার কথা ভুলে যাওয়া যাবে না। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও কাজ করতে হবে। তিনি এমন একটি বৃহত্তর নোয়াখালী গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, যেখানে অর্থের অভাবে কোনো মেধাবী শিক্ষার্থী স্বপ্ন হারাবে না, কর্মসংস্থানের অভাবে কোনো তরুণ তার সম্ভাবনা হারাবে না এবং বিপদের সময় কোনো পরিবার নিজেকে অসহায় মনে করবে না।
অনুষ্ঠানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. আবু ইউসুফ, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মঞ্জুর হোসেন, বিয়াম ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মো. আবদুল মালেক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম, ইডেন মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ শামীম আরা এবং বৃহত্তর নোয়াখালী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মির্জা গালিব উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থী, অভিভাবক, রাজনীতিবিদ, গুণীজন, বৃহত্তর নোয়াখালীর বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

