ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ
বিশ্ব ইজতেমা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রতিবাদ, পাঁচ দফা দাবি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০২ পিএম
‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ও আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’। একই সঙ্গে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে বিগত বছরগুলোতে সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর দ্রুত চার্জশিট দাখিলসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা এসব দাবি জানান। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতি কিফায়তুল্লাহ আজহারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা নাজমুল হাসান কাসেমী, মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক এবং মাওলানা লোকমান মাজহারী প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় তাবলিগ জামাত বাংলাদেশের শুরায়ি নেজামের (জুবায়েরপন্থি) তত্ত্বাবধানে ২০২৭ সালের বিশ্ব ইজতেমা দুই ধাপে—প্রথম ধাপ ৮ থেকে ১০ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয় ধাপ ১৫ থেকে ১৭ জানুয়ারি—অনুষ্ঠিত হওয়ার সরকারি সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে সম্প্রতি সাদপন্থি নেতা ওয়াসিফুল ইসলাম ও তার ছেলে ওসামা ইসলামের পক্ষ থেকে এর বিপরীতে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়েছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।
ওই ভিডিও বার্তায় মুফতি ওসামা ইসলাম দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে ২০২৭ সালের ২৯ ও ৩০ জানুয়ারি টঙ্গীতে সাদপন্থিদের ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে এবং ভারতের নিজামুদ্দিন থেকে মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাতে অংশ নেবেন।
এতে আরও বলা হয়, সরকারি সিদ্ধান্ত ও সভার কার্যবিবরণী সম্পর্কে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, এমন বক্তব্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন কোনো আশ্বাস দিয়েছেন কি না, তা সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো বক্তব্য প্রচার করা হলে তার প্রকৃত অবস্থানও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
বক্তারা আরও অভিযোগ করে বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সাদপন্থিদের দ্বারা সংঘটিত সহিংসতার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন বক্তব্য ও নির্দেশনা পরিস্থিতিকে উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছিল।
তাদের দাবি, এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর একটি পত্রিকার অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত পয়লা বৈশাখ ও পবিত্র শবে মেরাজ-সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। বক্তারা ওই বক্তব্যের ধর্মীয় তাৎপর্য ও যথার্থতা নিয়ে আপত্তি জানান।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট মহলে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে মুফতি ওসামা ইসলাম ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পান। এ বিষয়ে কোনো আইনগত অভিযোগ উত্থাপিত হলে তা প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, বিশ্ব ইজতেমা বাংলাদেশের মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, দ্বীনি পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ধর্মীয় ভাবমূর্তির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এ আয়োজন নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি, উসকানি কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাতের পরিস্থিতি সৃষ্টি হোক, তা তারা চান না। তাই সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়া এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তাঁরা।
তাঁদের পাঁচ দফা দাবি হলো—
১. ২০১৮ ও ২০২৪ সালে টঙ্গী ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হামলা ও প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে আইন অনুযায়ী চার্জশিট দাখিল ও বিচার নিশ্চিত করা।
২. বিশ্ব ইজতেমা ২০২৭-এর আয়োজন নিয়ে বিভ্রান্তিকর ভিডিও বার্তা প্রচারের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে ওয়াসিফুল ইসলাম ও ওসামা ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক তথ্য ও সহিংসতার আহ্বান প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৪. অতীতে ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবার এবং আহত ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার, সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
৫. তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ বন্ধে সুনির্দিষ্ট প্রশাসনিক নীতিমালা বজায় রাখা।
