ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যারা, রয়েছে যেসব শর্ত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের অতি দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে চালু হচ্ছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। এ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ২ কোটি নারীকে পরিবারপ্রধান হিসেবে মাসিক নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জারি করা ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আট ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকা পরিবার ও ব্যক্তিরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।
কর্মসূচির খসড়া ও উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রকৃত অভাবী পরিবারের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় কিছু বর্জনীয় শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড পাবেন না যেসব ৮ শ্রেণির পরিবার
১. নির্ধারিত আয়ের চেয়ে সচ্ছল পরিবার
সরকার নির্ধারিত প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করা সচ্ছল, মধ্যবিত্ত বা উচ্চবিত্ত পরিবার এ সুবিধা পাবে না।
২. সরকারি চাকরিজীবী পরিবার
পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতন-ভাতা পেলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না। একইভাবে, তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা কর্মচারী হলেও এ সুবিধার আওতায় আসবেন না।
৩. পেনশনভোগী পরিবার
পরিবারের মনোনীত নারীপ্রধান নিয়মিত সরকারি পেনশন বা অবসরকালীন সুবিধা পেলে ওই পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পাবে না। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য প্রাপ্ত বিশেষ পেনশনের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
৪. নির্দিষ্ট সীমার বেশি আর্থিক আমানত
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে না। একইভাবে, ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কোনো সদস্যের নামে ৫ লাখ টাকার বেশি স্থায়ী আমানত (এফডিআর) বা সঞ্চয় থাকলেও পরিবারটি বাদ পড়বে।
৫. মোটরযানের মালিক পরিবার
পরিবারের যেকোনো সদস্যের নামে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলে ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে না। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গাড়ি, জিপ, পিকআপ, মাইক্রোবাস, বাস, ট্রাক কিংবা সিএনজিচালিত থ্রি-হুইলারের মতো যানবাহন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
৬. বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার লাইসেন্স
পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থাকলে অথবা বাণিজ্যিকভাবে নিবন্ধিত হালনাগাদ লাইসেন্স বা ব্যবসা থাকলে ওই পরিবার এ সুবিধা পাবে না।
৭. করযোগ্য আয় থাকা আয়করদাতা
পরিবারের যেকোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর প্রদান করলে এবং তার করযোগ্য আয় থাকলে পরিবারটি ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা থেকে বাদ পড়বে।
৮. নির্ধারিত সীমার বেশি জমির মালিক
বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমির পরিমাণ ০.৫০ একর বা তার বেশি হলে ফ্যামিলি কার্ড পাওয়া যাবে না। এ ছাড়া, পরিবারের অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমির বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও এ সুবিধা দেওয়া হবে না।
আবেদনকারীর তথ্য যেভাবে যাচাই হবে
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারীর দেওয়া তথ্য যাচাই করতে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয় এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সরাসরি এপিআই সংযোগ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
এ ব্যবস্থার মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা হবে। তথ্যে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির সাহায্যে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে আবেদন বাতিল করার ব্যবস্থার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ রয়েছে।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া। তাই নির্ধারিত যোগ্যতা ও বর্জনীয় শর্ত যাচাই করেই চূড়ান্ত উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।
