ব্যাংককে আইএমএফ–বিশ্বব্যাংকের সম্মেলন
ঋণনীতির স্বচ্ছতার দাবিতে পথে পথে বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিক্ষোভ
Advertisement
আবদুল্লাহ আল মামুন, ব্যাংকক (থাইল্যান্ড) থেকে
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৩৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভাকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গত দুদিন ধরে বিক্ষোভ চলছে। কৃষক, শ্রমিক ও পরিবেশ অধিকার সংগঠনের কর্মীরাসহ বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী সম্মেলন কেন্দ্রের আশপাশে এ বিক্ষোভ করছে।
তারা ঋণনীতি, অর্থনৈতিক বৈষম্য, উন্নয়ন প্রকল্পের প্রভাব এবং নীতিনির্ধারণে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের দাবিতে তারা সম্মেলনস্থলের দিকে মিছিল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। বিক্ষোভের কারণে সম্মেলনকেন্দ্রের আশপাশের কয়েকটি সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পুরো সম্মেলন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রস্তুতি দেখা গেছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করাসহ সরেজমিনে বিক্ষোভের চিত্র দেখা গেছে।
গত ১২ অক্টোবর ব্যাংককের কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভা শুরু হয়েছে। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ সভা চলবে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণ ও উন্নয়ননীতির সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের স্বার্থ যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। এসব সিদ্ধান্তের আর্থিক ও সামাজিক প্রভাব শেষ পর্যন্ত কৃষক, শ্রমিক, নিম্ন আয়ের মানুষ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর পড়ে।
বিক্ষোভকারীরা ঋণনীতি ও স্বচ্ছতার দাবি জানিয়ে বলেন, সরকারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণচুক্তি ও উন্নয়ন প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের জীবন ও জীবিকার ওপর প্রভাব ফেলবে— এমন প্রকল্প বা নীতি নির্ধারণের আগে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর মতামত নিতে হবে।
আন্দোলনকারীরা ঋণচুক্তির শর্ত প্রকাশ, অস্বচ্ছ ও অন্যায্য ঋণ ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা এবং জনগণের সম্মতি ছাড়া নেওয়া প্রকল্পে সরকারি ঋণ ও গ্যারান্টি দেওয়ার বিষয়ে কঠোর জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ঋণনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনার ব্যয়, সুদ ও পরিশোধের দায় সম্পর্কে নাগরিকদের জানার অধিকার রয়েছে। তারা কৃষকের ঋণমুক্তি, বড় কোম্পানি ও সম্পদশালীদের ওপর ন্যায্য কর আরোপ এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদারের দাবি তুলেছেন।
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, অর্থনৈতিক সংস্কারের নামে যদি সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ে, ভর্তুকি কমে কিংবা প্রয়োজনীয় সেবার ব্যয় বেড়ে যায়, তাহলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারগুলো আরও চাপে পড়তে পারে। অন্যদিকে বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর করদায় এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বৈষম্য থাকলে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুফল সবার কাছে পৌঁছায় না।
বিক্ষোভকারীরা পরিবেশ সুরক্ষা ও উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলেন, বাঁধ, খনি, শিল্পায়ন ও বড় অবকাঠামো প্রকল্পের কারণে স্থানীয় মানুষের জমি, জীবিকা ও পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, পরিবেশ পুনরুদ্ধার এবং প্রকল্প গ্রহণের আগে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত নিতে হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সম্মেলনস্থলের আশপাশে যান চলাচলে বিধিনিষেধ ও বিক্ষোভের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাংককের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বিশেষ করে রামা-৪ ও রাচাদাফিসেক সড়কের আশপাশে যানজট ও চলাচলে বিঘ্নের খবর পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত ট্রাফিক নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর রাচাদাফিসেক সড়কের আসোক মন্ত্রি মোড় থেকে রামা-৪ মোড় পর্যন্ত উভয় দিকের যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ফ্লোয়েনচিত সড়কের নির্দিষ্ট অংশেও শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বহির্মুখী যান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কুইন সিরিকিত ন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার মেট্রো স্টেশন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
সম্মেলনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বিক্ষোভের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কিছু এলাকায় যানবাহন বিকল্প পথে পরিচালনার প্রয়োজন হয়েছে। তবে কোনো কোনো একমুখী সড়কে সাময়িকভাবে দ্বিমুখী যান চলাচল চালু করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিশ্চিত করা যায়নি।
