নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন নিয়ে বিরোধী দলকে বৈঠকে ডাক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ পিএম
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্টে (ভিন্নমত) পরিবর্তন চাইলে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণও প্রত্যাশা করেন তিনি।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংবিধান সংশোধন কমিটি একদলীয় সরকারের ক্ষমতা স্থায়ী করার চেষ্টা করেছিল। সেই কমিটির সঙ্গে গণতান্ত্রিক সরকারের অধীনে গঠিত বর্তমান কমিটিকে এক করে দেখা উচিত হবে না। বিরোধী দল যদি বিএনপির দেওয়া নোট অব ডিসেন্ট শিথিল করার বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দিতে চায়, তাহলে কমিটির বৈঠকে এসে তা জানাতে হবে। বিরোধী দল সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় অংশ নিক, সেটিই তারা চান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই। তবে গণভোটকে তারা স্বীকার করেন। গণভোটে উত্থাপিত প্রশ্ন নিয়ে বিতর্ক রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে তারা সম্মান করেন। ভবিষ্যতে আবার গণভোট হলে তা সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত হবে।
বৈঠকে কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এবং সাকিলা ফারজানা অংশ নেন।
এ ছাড়া দেশের বিশিষ্ট সংবিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির তালিকাভুক্ত অভিজ্ঞ আইনজীবী এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপকরা বৈঠকে অংশ নেন। আমন্ত্রিত বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ৪৪ জন উপস্থিত থেকে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাদের লিখিত ও মৌখিক মতামত এবং প্রস্তাব তুলে ধরেন।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর নীতি, বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
এ ছাড়া সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের বিষয়েও আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা। প্রস্তাবিত সংশোধনে আস্থা ভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধন এবং জাতীয় নিরাপত্তা বা যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি—এই চারটি ক্ষেত্র ছাড়া অন্য বিষয়ে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতামত প্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার প্রস্তাব আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা, বিচারক নিয়োগ আইন প্রণয়ন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন কর্মপরিধি নির্ধারণের বিষয়েও বিভিন্ন প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়। পাশাপাশি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থায় উচ্চকক্ষের সম্ভাব্য ভূমিকা এবং সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের মনোনয়নের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে বিশিষ্ট নাগরিক, বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নিতে পর্যায়ক্রমে বৈঠক করছে বিশেষ কমিটি। এসব আলোচনার মাধ্যমে সংবিধানের বিভিন্ন বিধান সংশোধন এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রস্তাব ও মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

