সুরঞ্জিতের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসিফ নজরুল-সালাহউদ্দিন আহমদের ভিন্নমত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সংবিধান সংশোধন নিয়ে প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটির অভিজ্ঞতা এবং বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
আসিফ নজরুলের আশঙ্কা, আগেরবারের মতো এবারও সংবিধান সংশোধন নিয়ে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, সেই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক হবে না।
শনিবার জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে অংশ নেওয়ার পর এ বিষয়ে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরেন তারা।
বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকেও তিনি আমন্ত্রিত হয়ে পরামর্শ দিয়েছিলেন। তখন অনেক প্রত্যাশা নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পরে প্রতারিত হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত নিন্দিত পঞ্চদশ সংশোধনী পাস করা হয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান সংবিধানের চেয়ে আরও উন্নত একটি সংবিধান পাওয়ার প্রত্যাশা করেন তিনি। যতটুকু অর্জন হবে, সেটিই লাভ। তবে সর্বোচ্চ অর্জন নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকা উচিত। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে মতভেদ প্রসঙ্গে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই সনদে এ বিষয়ে নয়টি পদ্ধতির মধ্যে আটটি নিয়ে সব দলের ঐকমত্য রয়েছে। একটি বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তা বড় সমস্যা নয়। অন্তত বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা তিনি বৈঠকে বলেছেন বলে জানান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন কিংবা সংশোধন কমিটির মাধ্যমে পরিবর্তন আনার প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্কের বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, সংবিধানের যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই সংস্কার। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জন করা যাচ্ছে কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কী প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হলো, তার চেয়ে লক্ষ্য অর্জনকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ নজরুলের আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ওই সময়ের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করা ঠিক হবে না। প্রয়াত সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বাধীন কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বহাল রাখার বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাতের পর তা বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, সে সময় একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতা এবং অবৈধভাবে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা ছিল। বর্তমান সরকারের পরিস্থিতি তার সঙ্গে মেলে না।
সংবিধান সংশোধন নিয়ে বিশেষ কমিটির বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, সংসদের উচ্চকক্ষের ভূমিকা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগের পদ্ধতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে এসব প্রস্তাবের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

