নিজের নামে কত জমি আছে, অনলাইনে জানবেন যেভাবে
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিজের নামে কতটুকু জমি রেকর্ড রয়েছে, কোন মৌজায় জমি আছে কিংবা খতিয়ানে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে কি না— এসব তথ্য এখন ঘরে বসেই অনলাইনে যাচাই করা যায়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট ও ভূমি রেকর্ড অনুসন্ধান ব্যবস্থার মাধ্যমে জমির খতিয়ান, দাগ নম্বর এবং মালিকানাসংক্রান্ত তথ্য খোঁজার সুযোগ রয়েছে।
পৈতৃক সম্পত্তি, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি কিংবা কেনা জমির হিসাব জানতে অনেকেই অনলাইনে অনুসন্ধান করেন। তবে কোথা থেকে শুরু করতে হবে, কোন তথ্য প্রয়োজন এবং অনলাইনে রেকর্ড না পাওয়া গেলে কী করতে হবে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা না থাকায় অনেকে সমস্যায় পড়েন।
জমির সঠিক হিসাব জানতে প্রথমে সরকারি পোর্টালে খতিয়ান অনুসন্ধান করতে হবে। এরপর দলিল, দাগ নম্বর, জমির পরিমাণ ও নামজারির তথ্য মিলিয়ে মালিকানা যাচাই করতে হবে। মনে রাখতে হবে, শুধু নিজের নাম লিখে দেশের সব জেলা ও মৌজায় থাকা জমির সম্পূর্ণ তালিকা একসঙ্গে পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
নিজের নামে জমি আছে কি না দেখবেন যে ওয়েবসাইটে
অনলাইনে জমির রেকর্ড যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। এ ক্ষেত্রে তিনটি সেবা কাজে আসতে পারে।
১. জাতীয় ভূমি তথ্য ও সেবা পোর্টাল
ভূমি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনলাইন সেবা, নির্দেশনা ও ফি-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায় এই পোর্টালে।
ওয়েবসাইট: https://land.gov.bd/
২. অনলাইন খতিয়ান অনুসন্ধান
ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের অনলাইন ব্যবস্থায় বিভাগ, জেলা, উপজেলা, মৌজা এবং মালিকের নামসহ বিভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে খতিয়ান খোঁজা যায়।
ওয়েবসাইট: https://settlement.gov.bd/Khatian/
৩. ই-নামজারি সেবা
নামজারির আবেদন, আবেদনের অগ্রগতি ও অনুমোদন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করতে এই পোর্টাল ব্যবহার করা যায়।
ওয়েবসাইট: https://mutation.land.gov.bd/
মনে রাখতে হবে, চলমান জরিপের খসড়া খতিয়ান এবং চূড়ান্তভাবে প্রকাশিত খতিয়ান এক নয়। জমির রেকর্ড যাচাইয়ের সময় সংশ্লিষ্ট জরিপের অবস্থা ও নথির ধরন নিশ্চিত করা জরুরি।
ধাপে ধাপে অনলাইনে নিজের জমির তথ্য দেখার নিয়ম
ধাপ ১: খতিয়ান অনুসন্ধানের ওয়েবসাইট খুলুন
প্রথমে https://settlement.gov.bd/Khatian/ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন। সেখানে খতিয়ানের তথ্য অনুসন্ধানের ফর্ম পাওয়া যাবে।
ধাপ ২: জমির অবস্থান নির্বাচন করুন
ফর্মে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগ, জেলা, উপজেলা বা থানা, জরিপ এবং মৌজা নির্বাচন করুন। জমিটি কোন এলাকায় অবস্থিত, তা জানা থাকলে সঠিক রেকর্ড খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
ধাপ ৩: নিজের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন
অনুসন্ধানের ঘরে মালিকের নাম লিখুন। পোর্টালে যে অতিরিক্ত তথ্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে প্রযোজ্য তথ্য ব্যবহার করে অনুসন্ধান আরও নির্দিষ্ট করতে পারেন। যেমন, পিতার নাম, খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর।
সব ঘরে তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। কোন তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করা যাবে, তা পোর্টালের নির্দেশনা ও নির্বাচিত রেকর্ডের ওপর নির্ভর করবে।
ধাপ ৪: পাওয়া রেকর্ড যাচাই করুন
অনুসন্ধানের ফলাফলে নিজের নামের সঙ্গে মিল থাকা খতিয়ান পাওয়া গেলে মালিকের পরিচয়, খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর ও জমির পরিমাণ যাচাই করুন।
একই নামে একাধিক ব্যক্তি থাকতে পারেন। তাই শুধু নামের মিল দেখে কোনো জমিকে নিজের বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। পিতার নাম, ঠিকানা, মৌজা এবং দলিলের তথ্যও মিলিয়ে দেখতে হবে।
ধাপ ৫: প্রয়োজন হলে খতিয়ানের কপি সংগ্রহ করুন
অনলাইনে রেকর্ড পাওয়ার পর প্রয়োজন অনুযায়ী খতিয়ানের কপি সংগ্রহের আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি ও আবেদনপ্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। খতিয়ান অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপি সংগ্রহ দুটি আলাদা সেবা।
শুধু নাম দিয়ে কি নিজের সব জমির তালিকা পাওয়া যাবে?
এ বিষয়ে অনেকের ভুল ধারণা রয়েছে। অনলাইনে মালিকের নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করা গেলেও শুধু নাম লিখে বাংলাদেশের সব জেলা ও মৌজায় থাকা নিজের সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এর কয়েকটি কারণ রয়েছে।
বিভিন্ন এলাকায় জমি: প্রতিটি জমির জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজা ও জরিপের রেকর্ড আলাদাভাবে খুঁজতে হতে পারে।
পূর্বপুরুষের নামে রেকর্ড: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমি এখনো বাবা, মা বা অন্য পূর্ববর্তী মালিকের নামে রেকর্ডভুক্ত থাকতে পারে।
নামের বানানে পার্থক্য: দলিল ও খতিয়ানে নামের বানান আলাদা হলে অনুসন্ধানে সমস্যা হতে পারে।
পুরোনো রেকর্ড: কিছু পুরোনো রেকর্ড অনলাইনে সহজে পাওয়া নাও যেতে পারে।
যৌথ মালিকানা: একই খতিয়ানে একাধিক মালিক থাকলে নিজের প্রকৃত অংশ আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়।
তাই নিজের নামে জমির সঠিক হিসাব করতে হলে কেনা জমি, পৈতৃক সম্পত্তি ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া জমির রেকর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী আলাদাভাবে অনুসন্ধান করা উচিত।
খতিয়ান থেকে কীভাবে নিজের জমির পরিমাণ হিসাব করবেন?
খতিয়ানে জমির মোট পরিমাণ উল্লেখ থাকলে রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ জানা যায়। তবে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে পুরো জমির পরিমাণ নিজের বলে ধরে নেওয়া যাবে না।
ধরা যাক, একটি খতিয়ানে মোট জমির পরিমাণ ৬০ শতক। সেখানে আপনার বৈধ মালিকানার অংশ এক-চতুর্থাংশ হলে হিসাব অনুযায়ী আপনার অংশ হবে ১৫ শতক।
তবে প্রকৃত মালিকানার অংশ নির্ধারণের জন্য খতিয়ানের বিবরণ, দলিল, উত্তরাধিকারসংক্রান্ত নথি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বণ্টননামা যাচাই করা প্রয়োজন।
জমির হিসাব করার সময় যেসব তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত
মালিকের নাম ও পরিচয়
সঠিক ব্যক্তির রেকর্ড শনাক্ত করতে
খতিয়ান নম্বর
সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ড খুঁজতে
দাগ নম্বর
নির্দিষ্ট জমির অবস্থান শনাক্ত করতে
মোট জমির পরিমাণ
রেকর্ডভুক্ত জমির পরিমাণ জানতে
মালিকানার অংশ
যৌথ জমিতে নিজের হিস্যা বুঝতে
নামজারির তথ্য
নামজারি-সংক্রান্ত রেকর্ড যাচাই করতে
খতিয়ানে নাম থাকলেই কি জমির মালিকানা নিশ্চিত?
খতিয়ান জমির রেকর্ড যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি। তবে শুধু খতিয়ানে নাম থাকা কিংবা নামজারি সম্পন্ন হওয়ার ভিত্তিতে সব ক্ষেত্রে চূড়ান্ত মালিকানা নিশ্চিত করা যায় না।
জমি কেনা, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য কোনো বৈধ উপায়ে পাওয়া হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট দলিল, খতিয়ান, নামজারি এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য নথি মিলিয়ে দেখা উচিত। মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
অনলাইনে জমির তথ্য না পেলে কী করবেন?
অনলাইনে নিজের নাম খুঁজে না পেলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে আপনার নামে কোনো জমি নেই। ভুল মৌজা নির্বাচন, নামের বানানে পার্থক্য, পুরোনো রেকর্ড কিংবা জরিপের বিভিন্ন পর্যায়ের কারণে তথ্য পাওয়া নাও যেতে পারে।
এ ক্ষেত্রে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে পারেন:
১. পুরোনো দলিল, খতিয়ান, দাগ নম্বর ও জমির অন্যান্য কাগজপত্র সংগ্রহ করুন।
২. দলিলে উল্লেখ করা জেলা, উপজেলা ও মৌজার তথ্য মিলিয়ে আবার অনুসন্ধান করুন।
৩. উত্তরাধিকারসূত্রে জমি পেয়ে থাকলে পূর্ববর্তী মালিকের নামেও রেকর্ড খুঁজুন।
৪. নামজারি করা থাকলে https://mutation.land.gov.bd/ ওয়েবসাইটে আবেদন ও অনুমোদনের অবস্থা যাচাই করুন।
৫. তাতেও তথ্য না মিললে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা রেকর্ড সংরক্ষণকারী দপ্তরে যোগাযোগ করুন।
ভূমিসেবা-সংক্রান্ত সহায়তার জন্য সরকারি পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করতে পারেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভূমিসেবা সহায়তা নম্বর ১৬১২২-এও যোগাযোগ করা যায়।
এক নজরে নিজের নামে জমি যাচাইয়ের উপায়
প্রথমে খতিয়ান অনুসন্ধান করুন: সরকারি পোর্টালে জমির অবস্থান ও মালিকের তথ্য দিয়ে অনুসন্ধান করুন।
রেকর্ডের তথ্য মিলিয়ে নিন: খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর, মালিকের পরিচয় ও জমির পরিমাণ যাচাই করুন।
দলিল ও নামজারি পরীক্ষা করুন: নিজের প্রকৃত মালিকানার অংশ বুঝতে সংশ্লিষ্ট নথির সঙ্গে রেকর্ড মিলিয়ে দেখুন।
প্রয়োজনে ভূমি অফিসে যান: অনলাইনে তথ্য না মিললে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে রেকর্ড যাচাই করুন।
নিজের নামে কত জমি আছে, তা জানার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সরকারি ভূমি রেকর্ড পোর্টালে অনুসন্ধান করে পাওয়া তথ্য দলিল ও নামজারির নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা। তবে একবারে সারা দেশে নিজের সব জমির তালিকা পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই জমির সঠিক হিসাব পেতে প্রতিটি এলাকার রেকর্ড প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি।
পাঠকের সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর
১. নিজের নামে কত জমি আছে, তা কি মোবাইল দিয়ে দেখা যায়?
হ্যাঁ। মোবাইলের ব্রাউজার থেকে সরকারি খতিয়ান অনুসন্ধান পোর্টালে প্রবেশ করে অনলাইনে উপলভ্য জমির রেকর্ড খুঁজতে পারবেন।
২. শুধু নাম দিয়ে কি নিজের সব জমি খুঁজে পাওয়া যাবে?
না, সব ক্ষেত্রে নয়। নাম দিয়ে খতিয়ান অনুসন্ধান করা গেলেও সারাদেশে নিজের নামে থাকা সব জমির পূর্ণাঙ্গ তালিকা একসঙ্গে পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
৩. অনলাইনে নিজের নাম না পেলে কী করবেন?
প্রথমে মৌজা, জরিপ ও নামের বানান ঠিক আছে কি না যাচাই করুন। এরপর পুরোনো দলিল বা খতিয়ান দেখে আবার অনুসন্ধান করুন। তাতেও তথ্য না মিললে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে যোগাযোগ করুন।
৪. খতিয়ান থেকে কি নিজের জমির পরিমাণ জানা যায়?
হ্যাঁ। খতিয়ানে জমির পরিমাণ উল্লেখ থাকলে তা দেখা যায়। তবে যৌথ খতিয়ানের মোট জমির পরিমাণ এবং আপনার ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ আলাদা হতে পারে।
৫. অনলাইনে জমির তথ্য দেখতে কি টাকা লাগে?
অনলাইনে রেকর্ড অনুসন্ধান এবং খতিয়ানের কপি সংগ্রহ এক বিষয় নয়। নির্দিষ্ট কপি বা প্রত্যয়িত নথির জন্য সরকারি ফি প্রযোজ্য হতে পারে। আবেদন করার আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটে বর্তমান ফি যাচাই করুন।
প্রাসঙ্গিক অনুসন্ধান শব্দ: নিজের নামে কত জমি আছে, নিজের নামে জমি দেখার নিয়ম, অনলাইনে জমির তথ্য, জমির খতিয়ান অনুসন্ধান, জমির মালিকানা যাচাই, জমির পরিমাণ জানার উপায়, ই-নামজারি, ভূমি রেকর্ড বাংলাদেশ।

-6ae02d428a0fa.jpg)