শিল্প খাতে বিশৃঙ্খলা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠনের জন্য মালিকপক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা পেয়েছে সরকার। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা হাতে পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় আয়োজিত ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ পরিষদের (টিসিসি) ৯৬তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় শ্রমিক, মালিক ও সরকারপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এ সময় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রম অসন্তোষ ও আন্দোলনের বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী মালিকপক্ষকে প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে শ্রমিকদের বকেয়াসহ প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের আহ্বান জানান।
একই সঙ্গে আন্দোলনরত শ্রমিকদের জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করার অনুরোধ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কোনো সমস্যা থাকলে তা কারখানার ভেতরে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারকে বিব্রত করা কিংবা অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যে কেউ শিল্প খাতে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করলে তা মেনে নেওয়া হবে না। প্রকৃত শ্রমিক নেতৃত্বের বাইরে থেকে যারা উসকানি দিচ্ছেন বা অপ্রয়োজনীয় বিষয়কে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় শ্রমিকনেতা নাজমা আক্তার গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে সাম্প্রতিক শ্রম অসন্তোষের পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধে সরকার, মালিকপক্ষ ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। শিল্প পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
নাজমা আক্তার আরও বলেন, চলতি মাসের মধ্যেই মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানো এবং গ্যাস ও জ্বালানি সংকট নিরসনের বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আরেক শ্রমিকনেতা রাজেকুজ্জামান রতন জানান, টিসিসির সভায় মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি রেজোয়ান সেলিম গাজীপুর ও কালিয়াকৈরে চলমান শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি পরিস্থিতির দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আন্তরিক। মালিক ও শ্রমিকপক্ষ একই অবস্থানে থেকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করলে নতুন করে আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। তিনি শিল্পকারখানার ক্ষতি না করা এবং সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না ফেলার জন্য শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
টিসিসির এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ, বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধি এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মজুরি বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করা, শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ এবং শিল্পাঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়গুলো সভায় গুরুত্ব পায়। এখন শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের তালিকা পাওয়ার পর সরকার কত দ্রুত গেজেট প্রকাশ করে, সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের।

-(7)-6ae0a2952c1a0.jpg)