মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিলের সিদ্ধান্ত হাইকোর্টে স্থগিত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:২৫ পিএম
হাইকোর্ট
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সারা দেশের ফাজিল ও কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডি বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওই প্রজ্ঞাপনটি কেন অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন আদালত।
সোমবার বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে প্রেস ব্রিফিং এ তিনি বলেন, ভোলা জেলার চরফ্যাশন কারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার সভাপতির দায়ের করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়। রিটটি উল্লেখিত হাইকোর্ট বেঞ্চে কার্যতালিকায় ৩৬ নম্বর আইটেম হিসেবে শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। গত ১৯শে অক্টোবর একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের সব ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডি একযোগে বাতিল করে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।
অ্যাডভোকেট পারভেজ হোসেন বলেন, আমরা আদালতে যুক্তি তুলে ধরেছি যে, মাদরাসাগুলোর গভর্নিং বডি গঠন ও বাতিলের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও বিধিবিধান রয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা গভর্নিং বডি আইনের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ), নোটিশ প্রদান ও যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার কর্তৃপক্ষের রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে দেশে কোনো জরুরি অবস্থা বিদ্যমান না থাকা সত্ত্বেও কোনো প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ বা তদন্ত না করে হঠাৎ এক চিঠিতেই সারা দেশের গভর্নিং বডিগুলো ঢালাওভাবে বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ আইনপরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী পরিস্থিতিতে একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপট ও জরুরি পরিস্থিতির কারণে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড তৎকালীন কমিটিগুলো বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল। তবে বর্তমান স্বাভাবিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দেয়া এই সিদ্ধান্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিদ্বেষমূলক।
শুনানি শেষে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া প্রতিপালন না করায় আদালত ১৯ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেন এবং তা চূড়ান্তভাবে কেন অকার্যকর ও বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি ৪ সপ্তাহের রুল জারি করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ অক্টোবর সারা দেশের ফাজিল-কামিল মাদরাসার গভর্নিং বডির কমিটি বাতিল করে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় (ইআবি) কর্তৃপক্ষ। ইআবির রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ. কে. মুহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
ওই অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ৪৩তম সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইআবির অধীনে পরিচালিত ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসাগুলোর গভর্নিং বডি কমিটি বাতিল করা হলো।
আদেশে আরো বলা হয়, অ্যাডহক কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয় সংবিধি-২০২৩ (খ) এর ধারা (১) খ (১), (৩) মোতাবেক সভাপতি হিসেবে জেলা সদরে অবস্থিত মাদরাসায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও জেলা সদরের বাইরে অবস্থিত মাদরাসার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং বিদ্যোৎসাহী সদস্য হিসেবে জেলা পর্যায়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে মনোনয়ন প্রদান করা হলো।
মাদরাসাগুলোর দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত ফরমে অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের প্রস্তাব প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

