ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: আইনমন্ত্রী
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ০১:২৮ এএম
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, দলের জন্য কে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে সেটিই হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ইতিবাচক রাজনীতি, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মাধ্যমেই নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয়।
রোববার (৮ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে সাবেক হুইপ ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম মশিউর রহমানের স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, রাজনীতিতে নেতৃত্বের জায়গা তৈরি করতে হয় কাজের মাধ্যমে। ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে দলের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। দলের জন্য কে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন, নেতৃত্ব নির্বাচনে সেটি হওয়া উচিত প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
মশিউর রহমানের স্মৃতিচারণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তার মতো নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতৃত্বের অভাব আজ অনুভব হচ্ছে। তিনি ঝিনাইদহে এমন একটি রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করে গেছেন, যার প্রভাব জেলার গণ্ডি পেরিয়ে খুলনা বিভাগে বিস্তৃত হয়েছিল। জাতীয় পর্যায়েও তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ভূমিকা রেখেছেন।
ঝিনাইদহের রাজনীতিতে মশিউর রহমানের অবদান ও নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, তার অনুপস্থিতিতে গত নির্বাচনে ঝিনাইদহের চারটি আসনের মধ্যে তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার বিষয়টি আমাদের জন্য বেদনাদায়ক। তিনি বেঁচে থাকলে জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি হয়তো ভিন্ন হতো। এ ছাড়া মৌলবাদ মোকাবিলা ও মাদকবিরোধী সংগ্রামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মশিউর রহমানের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ঝিনাইদহের তিনটি আসন পুনরুদ্ধার করতে না পারার দায় কোনো একক ব্যক্তির ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। এটি সম্মিলিত সিদ্ধান্তহীনতা ও ভুল সিদ্ধান্তের ফল। এ অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী দিনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির আদর্শের ভিত্তি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও নেতৃত্ব। বিএনপির আদর্শ ও কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মশিউর রহমান ছিলেন দলের অন্যতম ভ্যানগার্ড।
আগামী দিনের নেতৃত্ব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নেতৃত্ব কখনো স্থির বা কারও কাছে চিরস্থায়ীভাবে বন্দি থাকে না। যোগ্যতা, দক্ষতা ও সাংগঠনিক অবদানের মধ্য দিয়ে প্রত্যেকেরই নেতৃত্বে আসার সুযোগ রয়েছে।
এ সময় বিএনপির বর্তমান মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের চেয়ে দলকে এগিয়ে নেওয়ার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন। তাদের রাজনৈতিক ভূমিকা নতুন প্রজন্মের নেতাকর্মীদের জন্য অনুসরণীয়।
ঝিনাইদহের উন্নয়ন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী জানান, ঝিনাইদহ সদর হয়ে মাগুরা থেকে কুষ্টিয়া পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঝিনাইদহের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও উন্নত হবে। সরকার এটিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করছে।
এ ছাড়া দ্বিতীয় যমুনা সেতুর পরিবর্তে পদ্মা ও যমুনা নদীর ওপর ওয়াই-আকৃতির সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ বিষয়ে সমীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল আলিমের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সহসম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. মেহেদী হাসান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সহসম্পাদক মনির খানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

