অর্থমন্ত্রী ১১ মাস কী করলেন?

  যুগান্তর রিপোর্ট ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ২১:৩১ | অনলাইন সংস্করণ

অর্থমন্ত্রী ১১ মাস কী করলেন?
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংক ঋণের সুদ হার এক অংকে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম।

এফবিসিসিআইর সভাপতি বলেছেন, অর্থমন্ত্রী দায়িত্ব নেয়ার ১১ মাস পরে এসে বলছেন, বাংলাদেশে সুদের হার এত বেশি যে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করতে পারছেন না। ১১ মাস উনি কী শীতনিদ্রায় ছিলেন? আমাদের প্রশ্ন, এ ১১ মাস উনি কী করলেন ব্যাংকিং সেক্টরের পুনর্গঠনের ব্যাপারে?

রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী সিরামিক এক্সপোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ) এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে।

শেখ ফাহিম বলেন, যখন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ঋণের সুদ হার নিয়ে উদ্বেগের কথাগুলো উঠে আসছে, তখনই উনি বক্তব্য দিলেন। হয় তো আবার পরবর্তী ৬ মাস শীতনিদ্রায় চলে যাবেন। এটা দুঃখজনক।

ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এনবিআরের (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ ফাহিম। তিনি বলেন, এনবিআর কর্মকর্তাদের সহযোগিতার ঘাটতি ও পেশাগত অযোগ্যতা খুবই দৃশ্যমান। যেমন, আমদানি করা সিরামিকের কাঁচামালে ৩০ শতাংশ ময়েশ্চার থাকে। সেই ময়েশ্চারের ওপরও সম্পূরক শুল্ক দিতে হয়। অথচ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয় দেশের অভ্যন্তরীণ শিল্পকে সুরক্ষা দেয়ার জন্য। এ ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক অভ্যন্তরীণ শিল্পকে বাধাগ্রস্ত করছে।

শেখ ফাহিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের অসম্ভব সম্মান দেন। প্রধানমন্ত্রীর যারা টিম মেম্বার আছেন, পলিটিক্যাল লিডারশিপ, গভর্নমেন্ট লিডারশিপ- তারা না চাইলেও ব্যবসায়ীদের সম্মান দিতে হয় প্রধানমন্ত্রীর কারণে। কিন্তু বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট যেভাবে ব্যবসায়ীদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, এটা বাংলাদেশের সামনের দিকে এগুনোতে বাধা সৃষ্টি করার শামিল।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। উপস্থিত ছিলেন আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিসিএমইএর সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিও ঋণের সুদ হার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ৮-৯ মাস আগে সংসদে বলেছিলাম ১২-১৪ শতাংশ সুদ দিয়ে ব্যবসা সম্ভব না। এত সুদ দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী সফল হতে পারবে না। একটার পর একটা কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে, ঋণখেলাপি বাড়বে। তখন প্রধানমন্ত্রী বললেন- ব্যাংকারদের অনেক ধরনের সুবিধা দিলাম। সুবিধাটা ব্যাংক মালিকরা নিল, কিন্তু সুদ হার এক অংকে আনা হল না। টিপু মুনশি বলেন, অর্থমন্ত্রী অনেকবার বললেও কোনো বেসরকারি ব্যাংক সুদ হার এক অঙ্কে আনেনি। বাংলাদেশই পৃথিবীর মধ্যে ব্যতিক্রম যেখানে আমানত-ঋণের ব্যবধান (স্প্রেড) সর্বোচ্চ। পৃথিবীর কোথাও স্প্রেড দুই-আড়াই-তিন শতাংশের বেশি নেই, বাংলাদেশে ৫-৬ শতাংশ। এটা ঠিক নয়, হওয়া উচিত নয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েকদিন আগে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকারদের নিয়ে বসলেন। জানুয়ারি থেকে সুদ হার কমানো হবে। এখন আমাদের আশা করা ছাড়া আর উপায় নেই।

কর আদায়ে এনবিআরের ভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত মন্তব্য করে টিপু মুনশি বলেন, যারা নিয়মিত কর দেন, তাদের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করা হলে নাভিশ্বাস উঠবে। করদাতাদের সংখ্যা বাড়ছে না। যারা কর দেন, তাদের ওপরই চাপ দেয়া হয়। তাহলে ব্যবসার প্রসার হবে কীভাবে?

বিসিএমইএ সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দেশের সিরামিক বিশ্ববাজারে ৪ শতাংশ অবদান রাখছে। আগামী ৫-৭ বছরে ২০-২৫ শতাংশ অবদান রাখতে পারবে। বর্তমানে সিরামিক রফতানিতে সরকার ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা দিচ্ছে। আরও ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা দিলে এ খাত আরও এগোবে। তবে এ খাতে সব কাঁচামাল আমদানি করতে হয়। আমদানি করা কাঁচামাল বন্দরে লোড-আনলোডে অনেক সময় লেগে যায়। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে রফতানি আরও বাড়বে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×